Dhupguri Hospital

হাসপাতাল নির্মাণেও দুর্নীতি ধূপগুড়িতে

জেলা

দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের হাড়-পাঁজরা বের করে দিচ্ছে শাসকদল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার ও সিন্ডিকেট রাজ। ফের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে হাসপাতাল নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠল। সরকারি সিডিউল ও নকশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উন্নতমানের পাকুর পাথরের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে রামপুরহাটের নিম্নমানের পাথর এবং নিম্নমানের বালি। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের গণআন্দোলনের চাপে রাজ্য সরকার ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল গড়তে বাধ্য হয়েছে। এই হাসপাতাল ছিল এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসার বড় আশা। কিন্তু কাজ শুরু হতে না হতেই সেই স্বপ্নে দুর্নীতির কালো ছায়া গ্রাস করেছে। অভিযোগ, সরকারি অর্থ নয়ছয় করে পকেটস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসকদলের মদতপুষ্ট ঠিকাদার সংস্থা। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বরও নির্মাণকাজে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এদিন ফের 'ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চ'-এর প্রতিনিধিরা ঢালাইয়ের কাজে জালিয়াতি ধরে ফেলেন। সচেতন নাগরিক প্রকাশ সাহার কাছ থেকে খবর পেয়ে মঞ্চের সদস্যরা বিএমওএইচ অঙ্কুর চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণস্থলে পৌঁছান।
সেখানে স্তূপ করে রাখা বালু ও পাথরের মান দেখে চক্ষু চড়কগাছ প্রতিনিধিদের। সিডিউল অনুযায়ী যে মানের বালি ও পাথর থাকার কথা, তা কার্যত নেই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরাও চাপে পড়ে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন যে, মজুত রাখা পাথরগুলো পাকুর পাথর নয়, বরং রামপুরহাটের অনেক কম দামি ও নিম্নমানের পাথর।
স্থানীয় সূত্রের খবর, হাসপাতালের পাথর ও বালি সরবরাহের রাশ পুরোটাই তৃণমূলের বিধায়কের গোষ্ঠীর হাতে। সরকারি সিডিউলে পাথরের গুণমান নিয়ে কী নির্দেশ রয়েছে, তার তোয়াক্কা না করে এই সিন্ডিকেটই ঠিক করে দিচ্ছে কোন সামগ্রী ব্যবহৃত হবে। ঠিকাদার সংস্থার ম্যানেজার নিজের দায় এড়িয়ে দাবি করেছেন, পাথর সরবরাহের দায়িত্ব স্থানীয় একজনকে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কার মদতে সরকারি নির্দেশিকা ও মানুষের নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই নিম্নমানের কাজ চলছে? কেনই বা ঠিকাদার সংস্থা মুখ বুজে এই সামগ্রী গ্রহণ করছে? এর পিছনে কত বড় আর্থিক লেনদেন রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল কোনো সরকারের দয়ার দান নয়, এটি মানুষের দীর্ঘ লড়াই ও ঘামের ফসল। হাসপাতালের ভিত্তি দুর্নীতির ওপর দাঁড়ালে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি নিছক গাফিলতি নয়, বরং পরিকল্পিত দুর্নীতি।" তিনি আরও জানান, বালি এবং পাথর নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় মানুষের অজস্র অভিযোগ ছিল। ঠিকাদার সংস্থার কর্মী নিজে মুখে পাথরের ফারাক স্বীকার করেছেন। গুণমান নির্ধারণের দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও, সাধারণ মানুষ হিসেবে সিডিউল লঙ্ঘনের এই খেলা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। স্বাস্থ্য আধিকারিককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কড়া অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে অনিয়ম নিয়ে মহকুমা শাসককে ডেপুটেশন দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতা ও দায়সারা মনোভাবে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। নাগরিক মঞ্চের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে এই চক্রের পাণ্ডাদের শাস্তি দিতে হবে এবং সিডিউল মেনে উন্নত সামগ্রী দিয়েই দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Comments :0

Login to leave a comment