উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভবনে একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে, সেখানে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দমকল এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে রয়েছে।
জনবহুল আলিগঞ্জ এলাকার ওই ভবনে লাগা আগুনের শিখা এতটাই ভয়াভয় ছিল যে তা পুরো ভবনটিকে গ্রাস করে ফেলে। ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টারও ছিল, যেখান থেকে কিছু ছাত্রছাত্রী প্রাণ বাঁচাতে ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত।
সংবাদ সাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আলিগঞ্জের পুরানিয়া এলাকার উষা মেহতা রোডে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনের বেসরকারি কোচিং সেন্টারে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া পুরো ভবনটিকে গ্রাস করে ফেলে, যার ফলে কোচিং সেন্টার এবং আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু ছাত্রছাত্রী ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে পড়ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আলিগঞ্জের সেক্টর ডি-এর বি-২ ব্লকে। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও প্রশাসনিক দলও সেখানে উপস্থিত রয়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক জানিয়েছেন ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে যে জমিতে ভবনটি নির্মান হয়েছিল, সেটি বীরেন্দ্র শুক্লার নামে রয়েছে। ভবনটির নকশা সুরেন্দ্র শুক্লা এবং ধীরেন্দ্র শুক্লার নামে অনুমোদিত। বীরেন্দ্র শুক্লা হলেন রামেশ্বরম ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মালিক। অভিযোগ ভবনটিতে কোনো জরুরি নির্গমন পথ ছিল না, যে কারণে আগুনে ১৫ জন প্রাণ হারান। আহতদের কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক, ডিজিপি রাজীব কৃষ্ণসহ আরও বেশ কয়েকজন আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারের ইনচার্জ প্রেম রাজ সিং সংবাদ মাধ্যমেকে জানিয়েছেন, সেখানে ২২ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আহতদের ৫০ হাজার টাকা এবং মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেকের জন্য ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারে পৌঁছে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন বিকেল তিনটে নাগাদ আগুন লাগার আচ পাওয়া যায়। দ্রুত ছড়াতে থাকে আগুন। জানালা দিয়ে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে শুরু করে। ভবনের ভেতর থেকে শোরগোল ও সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যায়। অনেক ছাত্র আগুন থেকে বাঁচতে ঝাঁপ দিয়েছে। স্থানীয়রাই দমকল ও পুলিশকে খবর দেয়।
Lucknow Fire Coaching Centre
লখনউয়ের বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্তত ১৫
×
Comments :0