Dinhata Lynching Cow Vigilante Group

দিনহাটায় ‘গোরু চোর‘ তকমা দিয়ে হত্যার নিন্দা ‘আওয়াজ’-র

রাজ্য

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়কে হিন্দুত্ববাদীদের জয় এবং শুক্রবারীদের পরাজয় বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি। তার পর থেকে স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনীর তান্ডব ঘটে চলেছে। কিছুদিন আগে যার শিকার হয়েছেন মন্টু মিঞা। এবার তার শিকার হলেন মীর কবির আলম। 
কোচবিহারের দিনহাটায় ‘গোরু চোর’ তকমা দিয়ে মীর কবির আলম নামে এক যুবককে হত্যার নিন্দা জানিয়ে একথা বলেছে সামাজিক সংগঠন ‘আওয়াজ‘। এই ধরণের বিদ্বেষের মোকাবিলায় ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন।
সংগঠনের রাজ্য কমিটি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বলা হয়েছে, আমাদের রাজ্যে সম্প্রীতির এক সুমহান ঐতিহ্য আছে। বর্তমান সরকার সেটি ভেঙে ফেলতে চাইছে ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাস্তায় নেমে পড়েছে।
গত রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, গভীর রাতে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শৌলমারির বাত্রীগাছ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম মীর আলম কবির। তাঁর বাড়ি দিনহাটা-১ ব্লকের ওকড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রনারায়ণ এলাকায়। ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, একটি গোরু নিয়ে বাত্রীগাছ এলাকার একটি স্কুলের মাঠের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন যুবক কবিরকে গোরু চোর সন্দেহে আটক করে। এরপর তাঁকে রাতভর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার ভোরে খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় কবিরকে উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মৃতের কাকা ছাত্তার মিঞার দাবি, গোরুটি কবিরের মাসিকে বিক্রি করা হয়েছিল। গোরুটি তাঁর মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল কবিরের। এলাকায় এ ধরনের কাজে দক্ষ ব্যক্তিদের ‘গাঙ্গোয়াল’ বলা হয়। সেই দায়িত্ব নিয়েই কবির গোরুটি নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
‘আওয়াজ’ বলেছে, নিহত কবির ছিলেন একজন পরিযায়ী শ্রমিক এবং সোমবারই তাঁর বেঙ্গালুরু যাবার কথা ছিল।তার আগেই গোচোর তকমা দিয়ে স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনী তাঁকে পিটিয়ে মারল।এর আগে কোচবিহার জেলার শীতলকুচিতে এই স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনী সদস্যরা মন্টু মিঞা কে পিটিয়ে মেরেছিল।
‘আওয়াজ’-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর পরই দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে সংঘ পরিবারের মদতপুষ্ট এই গোরক্ষক বাহিনী গড়ে উঠে এবং এই বাহিনীর হামলায় নিহত হন হরিয়ানার দুগ্ধ ব্যবসায়ী পেহেলু খাঁ, ঝাড়খণ্ডের আলাউদ্দিন সহ আরও কয়েকজন নিরাপরাধী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। এই বাহিনী উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকায় ফ্রিজে গোমাংস রাখার অপবাদ দিয়ে মহম্মদ একলাখকে পিটিয়ে মারে। ডবল ইঞ্জিনের সরকারগুলি এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে এই স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনীর তান্ডব দেশ জুড়ে ঘটে চলেছে।
বলা হয়েছে, আমাদের রাজ্যে বাম জমানায় এই সব ঘটনা ভাবাই যেত না। তৃণমূলের আমলে  আমাদের রাজ্যে এই সব বাহিনী গড়ে উঠে। গত বছর দুর্গাপুরের গ্যামন ব্রিজ এলাকায় এই বাহিনীর হাতে কয়েকজন নিরীহ গোরু ব্যবসায়ী নির্যাতনের শিকার হন।
‘আওয়াজ‘ রাজ্য কমিটির পক্ষে সভাপতি অধ্যাপক সাইদুল হক এবং  সম্পাদক রুহুল আমিন গাজীর আহ্বান, এই ধরনের ঘটনার মোকাবেলায় এবং মেরুকরণের রাজনীতিকে পরাজিত করতে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment