বিভাজনের রাজনীতির সঙ্গে লড়াই আজকের কাজ। গড়তে হবে ঐক্য। তার জন্য স্থানীয় স্তরে মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হবে। এই দায়িত্ব পালনে সুধাংশু শীলের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা এবং কলকাতা উত্তর-পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ সুধাংশু শীলের স্মরণসভায় রবিবার এই আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্য বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু। রবিবার সিপিআই(এম) শ্যামপুকুর-২ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা বিমান বসুর পাশাপাশি অংশ নেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য তরুণ ব্যানার্জি, সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য রাহুল ভট্টাচার্য, দেবাশিস রায়, দেবেশ দাস প্রমুখ।
ছিলেন শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক জীবন প্রকাশ সাহা, প্রাক্তন কাউন্সিলর করুণা সেনগুপ্ত, সুজাতা সাহা, ছন্দা চৌধুরী, অনুশীলা সেনগুপ্ত, অরূপ অধিকারী।
স্মরণসভা পরিচালনা করেন সিপিআই(এম) শ্যামপুকুর-২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক অজয় সাহা।
পরিবারের তরফে উপস্থিত ছিলেন সুধাংশু শীলের ভাই অনুপম শীল, পুত্র শুভ্রাংশু শীল, পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা শীল, কন্যা সুস্মিতা চন্দ্র সহ অন্যান্যরা।
বিমান বসু বলেন, "সুধাংশু শীল ছিলেন এলাকার মানুষের আপনজন। কাউন্সিলর হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে জোড়াবাগান বিধানসভার বিধায়ক ও কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য সকাল থেকে ছুটে বেড়াতেন।"
বিমান বসু আরও বলেন, ‘‘আমরা যারা কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী, যারা শোষণের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে মানুষের ঐক্য সংহতি সম্প্রীতি চাই, তাদের এই সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এখন কী হবে আমাদের কাজ।’’
বিমান বসু পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘সারা দেশে কর্মসংস্থান নেই, নতুন শিল্প কলকারখানা তৈরি হয়নি। বিজেপি আরএসএস মানুষকে ধর্মের নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে মেরুকরণ করছে। এই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামতে হবে। মানুষের সঙ্গে প্রাত্যহিক যোগাযোগ রাখতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যই একমাত্র পথ। পাড়া-প্রতিবেশী এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ নিয়ে ছোট ছোট ভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। সেভাবে ঐক্যবদ্ধ হলেই বৃহত্তর ভাবে আমরা আন্দোলনের পথে নামতে পারব। এই কাজই আমাদের প্রধান কাজ হবে এই সময়।’’
এলাকার বহু প্রবীণ বাসিন্দা সুধাংশু শীলকে স্মরণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সাংসদ থাকাকালীন কুমারটুলিতে প্রতিমা তৈরির জন্য পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা, মল্লিকঘাট ফুল বাজার ও গণেশ টকিজ ব্রিজের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তা নিয়েও মনে বেদনা ছিল। ছোট ছোট কাজ করার সময়ও সব মানুষের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। তাঁদেরকে যুক্ত করেই উন্নয়নের কাজ চালিয়েছেন, বলেছেন এই বাসিন্দারা।
স্মরণসভায় তরুণ ব্যানার্জি বলেন, "সুধাংশুদা ছিলেন এলাকায় মানুষের নেতা। সেই সঙ্গে সিপিআই(এম)‘র নেতা। মানুষের কাছে পার্টির মুখ ছিলেন তিনি। নিত্যদিনের সম্পর্ক প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে। প্রতিটি পরিবারের কাছে আপনজন। তাদের সমস্যায় পাশে থাকা পরামর্শ দেওয়া, ছিলেন প্রত্যেকের অভিভাবকও। নিজের পরিবার, পার্টি ছাড়াও বৃহত্তর ক্ষেত্রে সকলের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কাউন্সিলর থেকে ধীরে ধীরে মানুষের সমর্থন নিয়ে বিধায়ক, সাংসদ হয়েছেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন।‘‘ তিনি বলেন, ‘‘একইসঙ্গে ওই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতা ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। পার্টি কর্মীদের চেতনা তৈরি করেছেন। বর্তমানে সেই লড়াইকে নিজেদের চেতনায় নিয়ে আগামীর পথ চলতে হবে। তবেই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যাবে।’’
Biman Basu
ঐক্য গড়তে জনতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক জরুরি, সুধাংশু শীলের স্মরণসভায় বললেন বিমান বসু
রবিবার শ্যামপুকুরে সুধাংশু শীলের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন বিমান বসু।
×
Comments :0