SFI AZADI RALLY KRANTI KUMARI

বিহারের জেল থেকে কলেজ স্ট্রিটে, ‘ভয় পাচ্ছি না’, বললেন সেই কান্তি

রাজ্য কলকাতা

কলেজস্ট্রিটের আজাদি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন কান্তি কুমারী।

সরকারি কলেজের জন্য নেমেছিলেন আন্দোলনে। কেবল তার জন্য, সঙ্গী প্রতিবাদীদের নিয়ে, জেলে থাকতে হয়েছে চল্লিশ দিন। আর জেলে ভরার পর বিহারের পুলিশ বলেছে ‘আতঙ্কবাদী’।
জুলাইয়ের শেষে জেল থেকে বেরিয়ে ফের লড়াইয়ে সেই কান্তি কুমারী, বিহারে এসএফআই’র সভাপতি। বুধবার তিনিই কলেজ স্ট্রিটে বৃষ্টিভেজা সমাবেশে জানিয়ে দিলেন, ভয় পাওয়ার প্রশ্নই নেই। হকের দাবিতে লড়াই চলবে। 
এদিন, ১২ আগস্ট, সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতায় ‘আজাদি’ মিছিল হয়েছে এসএফআই’র ডাকে। ব্রিটিশ ভারতে, ১৯৩৬’র এই দিনেই, সংগ্রামের তরঙ্গে গড়ে উঠেছিল ছাত্র সংগঠন এআইএসএফ। বেথুন কলেজ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত হয়েছে। তারপর মেঘে ঢাকা আকাশ মাথায় নিয়ে চলেছে সমাবেশ। 
কান্তি সেই সমাবেশেই বলেছেন, ‘‘১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা মিলেছে। কিন্তু এখন বিভিন্ন স্তরে চোরদের শাসন থেকে স্বাধীনতা পেতে হবে- ‘গোরো সে আজাদি মিলা থা, আভি চোরো সে আজাদি চাহিয়ে’। যারা আমাদের রুটি কেড়ে নেয়, শিক্ষা কেড়ে নেয়, সেই চোরদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।’’  


মিছিলে ব্যানারে লেখা ছিল ‘ওরে ও তরুণ ঈশান, বাজা তোর প্রলয় বিষাণ’। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য জানানো পতাকা ছিল। আর ছিল তেরঙা জাতীয় পতাকা। সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর, রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী, ছাত্রসংগ্রামের সম্পাদক সৌভিক দাস বক্সি, কলকাতা জেলা সম্পাদক শুভদীপ ব্যানার্জি ও সভাপতি হাসিব হোসেন। মিছিল থেকে সমাবেশের শেষ ঘোষণা পর্যন্ত নবীন জনতা পূর্ণ উদ্যমে তুলেছে স্লোগান, বারবার। কান্তি বক্তৃতা শেষ করে নামতেই সোচ্চারে বলেছেন, ‘জেল কে তালে কাচ্চে হ্যায়, হামারে কমরেড সাচ্চে হ্যায়।’   

 

আর দীপ্সিতা ধর বলেছেন, ‘‘কলেজের জন্য দাবি করলে আতঙ্কবাদী বলা হবে? তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে নিয়ে যেতে হবে?’’ তিনি বললেন, ‘‘যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের লম্বা তালিকা রয়েছে তারা সংসদ আলো করে বসে থাকে। আর যারা অন্যায়-অত্যাচারের থেকে মুক্তির কথা বলে, আজাদির কথা বলে, তাদের জেলে থাকতে হচ্ছে।’’

কান্তি সমাবেশে বলেছেন, ‘‘নগরনৌসায় কলেজের জন্য আন্দোলন চলছিল। ছোট একটি গ্রামের মানুষ কলেজের দাবিতে নেমেছিল। তাঁদের ৪০ দিন জেলে রাখতে হলো। জেলে বন্দি থাকার সময়েই দেখছিলাম যন্তর-মন্তরে ছাত্রদের প্রতিবাদ। দেখছিলাম ভয়াবহ দমন। সংবিধানে শিক্ষা, বস্ত্র, স্বাস্থ্য নিয়ে আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। অথচ দিল্লি বা বিহারে সেই আন্দোলনের ওপর দমন চলেছে। বিহারে একে-ফর্টিসেভেব ব্যবহার করল, দিল্লিতে পেলেট গান।’’

কান্তি বলেন, ‘‘আমরা ভয় পাচ্ছি না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আমরা আদায় করেছি। এর আগে, বিহারে বিপিএসটি’র প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমেছে। পড়ার স্বাধীনতা, লড়ার স্বাধীনতা রয়েছে আমাদের। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করব। যাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেওয়ার কোনও ইতিহাস নেই। তারা নিজেদের দেশভক্ত বলছে। আর যারা অধিকারের জন্য লড়ছে তাদের বলছে দেশদ্রোহী।’’

প্রণয় কার্য্যী বলেন, ‘‘আজকে ক্ষুদিরামকে ভুলিয়ে দিয়ে নাথুরামকে নিয়ে প্রচার হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ওরা জানে যে জেন-জি প্রকৃত ইতিহাস পড়লে আরএসএস-বিজেপি ধরা পড়ে যাবে। তাই ইতিহাস বিকৃতি করে। এসএফআই তা হতে দেবে না। অনন্ত মহারাজরা যদি মনে করে থাকেন বিকৃত ইতিহাস প্রচার করে যাবেন তবে তার মোকাবিলা হবে।’’ 

 

Comments :0

Login to leave a comment