সাত বছর আগে শুরু হয়েছিলো ব্রীজ নির্মাণ। চার বছর আগে নির্মাণ সম্পন্ন হলেও দুই দিকের সংযোগকারী রাস্তা না হওয়ায় বিপদজনক ভাবে ঝুঁকির পারাপার দৃশ্যে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম। নইলে ১২ -১৬ কিমি ঘুরপথে পৌঁছাতে হবে উভয় পাড়ের গন্তব্য স্থানে। এমন ঘটনা ঘাটাল ব্লকের মনসুকায় জমি নদীর দুই পাড়ে।
ঘাটালের মনসুকায় ঝুমি নদীর পারাপারের সাতটি সাঁকো জলের স্রোতে ভেঙে ভেসে গিয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা বিপদজনক ভাবে নদী পারাপার করতে হয়। কিন্তু সেই মতো সরকারি নৌকা নেই। তিন চারটি স্থানে হাতে গোনা একটি বা দুইটি নৌকা চললেও, পারাপাড়ে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। অথচ চোখের সামনে মনসুকাতে ঝুমি নদীর উপর গত ৪ বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে ১২৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৭.৫ মিটার চওড়ার ভগবতী সেতু। খরচ হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। তবুও আজও শুরু হয়নি চলাচল। কারণ ব্রীজ নির্মাণ ৪ বছর আগে হয়ে গেলেও দুই দিকের সংযোগকারী রাস্তা কবে নির্মাণ হবে কেউ জানেন না।
সেই ব্রীজের দুই প্রান্তে বাঁশ ও লোহার পাইপের তৈরী ভাড়া বেয়ে বিপদজনক ভাবে পার হন মহিলা সহ পুরুষ, শিশুরাও।
এখানে মনসুকা কে দুই ভাগে ভাগ করে মাঝখান দিয়ে ঝুমি নদী বয়ে গিয়েছে । সেই দুই পাড়ে বসবাসকারী মানুষ ৭ টি সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়। এখন সবগুলোই ভেঙে পড়ে নদীর স্রোতে ভেসে গেছে।মনসুকায় একটি হাইস্কুল ও একটি প্রাথমিক স্কুল সহ ১১ টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ একাধিক ব্যাঙ্ক রয়েছে। প্রাথমিকে ৬০০ পড়ুয়া, হাইস্কুলে ১৬০০ অধিক পড়ুয়া রয়েছে। তার মধ্যে ৭০০ অধিক পড়ুয়াকে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের তীব্র ক্ষোভ। তারা বলেন, সেতুটি যে স্থানে হওয়ার কথা ছিলো, তৃণমূল সরকার সেখান থেকে রাতারাতি দেড় কিমি সরিয়ে নিয়ে চলে যায়। এর পিছনে তৃণমূলের ঘাটাল ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাঝি তার পরিবার ও আত্মীয়দের সার সহ নানান দোকান গোডাউন ঘরের সরাসরি মাল লোড হওয়ার স্বার্থে ব্রীজটি কে সরিয়ে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। ফলে এখন সেই সেতুর দুই দিকের সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহন করার জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় আজ অবধি এমন বিপত্তি। অথচ পূর্বের সিদ্ধান্ত মতো স্থানে ঐ ১৬ কোটী টাকার সেতুটি নির্মাণ হলেও সেখানে চালু সরকারি রাস্তা কেবল সম্প্রসারণ টুকু করলেই আজ চার বছর আগেই সেতুটি চালু হয়ে যেতো। এবং মানুষের এই হায়রানি ও জল যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হতেন।
Comments :0