Boat Capsizes

বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি, ৫০০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক

বার্মার উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থীবাহী দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। নৌকা দুটির যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন রোহিঙ্গা, তাঁরা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে এসেছিলেন। 
গত মাসের শেষের দিকে শরণার্থীবাহী দুটি নৌকাই বার্মার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। যদিও বার্মার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি জারি করা হয়নি। রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আইওএম এই বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘‘বার্মার উপকূলে ডুবে যাওয়া দুটি নৌকায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন রোহিঙ্গা, যারা নিরাপত্তার সন্ধানে এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করছিলেন। আমরা এবং আইওএম এই খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং জীবন বাঁচাতে আরও জোরালো প্রচেষ্টার আহ্বান জানাচ্ছি।’’ বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 
এই ঘটনার মধ্যেই কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে তিনটি অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধার এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মৎসজীবীরা একাধিক ভাসমান মৃতদেহ দেখার দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও উদ্ধার হওয়া অথবা সাগরে দেখা দেহগুলোর নৌকাডুবির ঘটনার কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।
গত ১১ জুলাই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের কয়েকজন মৎসজীবী গভীর সাগরে একাধিক মহিলার ভাসমান মৃতদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেছেন। তাদের দাবি, দেহগুলো দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা জাল গুটিয়ে দ্রুত অন্যদিকে চলে যান। শাহপরীর দ্বীপের ট্রলারের মাঝি আবু বকর বলেন, ‘‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাছ ধরতে গিয়ে জাল তোলার সময় দূরে বেশ কয়েকজন মহিলার ভাসমান দেহ দেখতে পাই। দৃশ্যটি দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত ট্রলার অন্যদিকে নিয়ে যাই। তখন সাগরে প্রবল বাতাস ছিল। অনুমান দেহগুলো রোহিঙ্গাদের হতে পারে।’’
শাহপরীর দ্বীপের আরেক মৎসজীবী সৈয়দ আলম মাঝি বলেন, ‘‘গত সপ্তাহে মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে সাগরে দুটি শিশুসহ চারটি মৃতদেহ ভাসতে দেখি। তখনই মনে হয়েছিল এগুলো মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবির শিকার হতে পারে।’’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি অর্ধগলিত মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর কোনোটির হাত, আবার কোনোটির মাথা ছিল না। বার্মার উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারডুবির খবর সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় এবং নাফ নদী ও সাগরে ভাসমান মরদেহের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’’
অভিযোগ, রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এ সময় জনপ্রতি বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবাইর বলেন, ‘‘রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে। নানা প্রলোভন দেখিয়ে বর্ষাকালে তাদের সমুদ্রপথে পাঠানো হচ্ছে, যা অনেকের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নৌকাডুবিতে আমাদের ক্যাম্পের রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। তবে স্বজন হারানোর ভয়ে অনেকে এখনও প্রকাশ্যে কথা বলছেন না।’’
রাষ্ট্রসংঘের সর্বশেষ আশঙ্কা এবং টেকনাফ উপকূলে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহগুলো বার্মার উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম।

Comments :0

Login to leave a comment