left font Campaign for Assembly elections

প্রার্থী ঘোষণার পরপরই মেদিনীপুর জুড়ে প্রচার লালঝাণ্ডার

জেলা

বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গেসঙ্গেই গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই উৎসুক মানুষের গুঞ্জন। গরীব পাট্টাদার, বর্গাদার, জবকার্ড হোল্ডার সহ পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের উঠান, গঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী দের দেওয়াল উঠান উজাড় করে রাঙিয়ে উঠছে দেওয়াল লিখন। এই কয়েক বছর উঠানে দেওয়াল লিখন করতে যারা চিন্তায় পড়তেন, সিপিআইএম'র কাস্তে হাতুড়ি তারা আঁকলে ভয়ে দিতে চাইতেন না, আজ সেই সমস্ত পাড়া ও পরিবার নিজে থেকেই ডেকে নিয়ে বলছেন তাদের দেওয়ালে লিখতে। এমন দৃশ্য জেলার সর্বত্র। সিপিআইএম কর্মীদের সঙ্গে দেওয়াল লিখন, প্রচারে সামিল হচ্ছেন স্থানীয় মানুষও।
বানভাসি ঘাটাল, সবং, দাসপুর, ডেবরা, অপরদিকে এই সময়ে বোমারগড় হয়ে ওঠা নারায়নগড়, শিল্প তালুক খড়্গপুর গ্রামীন ও রেল নগরী খড়্গপুর, জেলা শহর মেদিনীপুর প্রতিটি কেন্দ্রে প্রচার শুরু হলো সংগঠিত ভাবে। বামফ্রন্টের শরিক সিপিআই এর তিন কেন্দ্রে মেদিনীপুর, দাঁতন, পিংলাতেও সিপিআইএম'র কর্মীরা দেওয়াল লেখা ও নির্বাচনী পোষ্টার নিয়ে বুথে বুথে যান এদিন।

বামেদের প্রচার বাংলাকে রক্ষা করতে, দুর্নীতিবাজ চোর তৃণমূল কে তাড়ান আর কর্পোরেটের দালাল দেশের সম্পদ বিক্রি ও লুঠকারী ডাকাত বিজেপিকে হঠান। আপনার রুটি রুজির অধিকার, মজুরীর লড়াই শক্তিশালী করতে, রাজ্যের বেহাল শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিকারে, কৃষককের ফসলের ন্যায্য দাম, আলু চাষীদের সর্বনাশ থেকে রক্ষা করতে ও বাংলার ঐতিহ্য ও হাল ফেরাতে লাল ফেরান শ্লোগানে মানুষের সাড়া ফেললো প্রথম দিনই।
নারায়নগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বেলদা বাজারে সিপিআইএম প্রার্থী তাপস সিনহার প্রচারে সামিল হয় নতুন প্রজন্মের এক ঝাঁক ছেলেমেয়ে। অপরদিকে রেল নগরী খড়্গপুর ওয়ার্কসপ ও শ্রমিক মহল্লায় সিপিআইএম প্রার্থী মধুসূদন রায় এর প্রচারেও সাড়া ফেলেন। দাসপুর কেন্দ্রে  সিপিআইএম প্রার্থী  রনজিত পাল এবং ডেবরা কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী সুমিত অধিকারী কে নিয়েও প্রচার চলে নজর কাড়া মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। 

 


বুথে বুথে সন্ধ্যার পর চলছে পাড়া বৈঠক। প্রার্থীদের ঘিরে মানুষের ভীড়। কাজের আকাল কেন তার জবাব দিতে একশ দিনের কাজের অধিকার পুনরুদ্ধারে লালই ভরসা, উচ্ছেদ হওয়া পাট্টাদার বর্গাদারদের অধিকার পুনরুদ্ধার সংগ্রামে লাল ঝান্ডাই ভরসা আজ মানুষ তার অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন। বিজেপি কখনো তৃণমূল কে শায়েস্তা করতে পারবে না, কারণ তৃণমূলের দুর্নীতিবাজ তোলাবাজ কাটমানিখোর নেতারাই আজ বিজেপি দলের নেতা। অপর দিকে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও বিজেপি আজ ১২বছরেও কিছুই করতে পারেনি। মানুষ এই দুই জনবিরোধী শাসন থেকে পরিত্রান চাইছেন, সেকথাই উঠে এল এদিন বাংলার গ্রাম গঞ্জের মানুষের মুখে।

Comments :0

Login to leave a comment