শ্মশান ঘাটের নাম রাখা হয়েছে বৈতরণী, কিন্তু দিনহাটা পৌর কর্তৃপক্ষের অকর্মন্যতায় এই বৈতরণী পার করা যাচ্ছে না দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত। আজ পর্যন্ত চালু হয়নি দিনহাটা বড় নাচিনা এলাকায় নির্মিত বৈদ্যুতিক চুল্লি সমৃদ্ধ শ্মশান ঘাট 'বৈতরণী'। দিনহাটা পৌরসভার চূড়ান্ত ব্যর্থতার এটা এক অনন্য নজির। মৃতদেহ দাহ করবার ক্ষেত্রে দিনহাটার মানুষের কাছে এই শ্মশান ঘাট এই সময়কালে ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু দিনহাটা পৌরসভার সীমাহীন উদাসীনতায় তা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে সমগ্র দিনহাটাবাসীকে।
এনিয়ে পৌরসভার বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত হচ্ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। দিনহাটা শহর লাগোয়া দিনহাটা ১নং ব্লকের পুটিমারি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় নাচিনা ঘাট এলাকায় শ্মশান ঘাটের জন্য স্থানটি কিনে নেয় পৌরসভা। পৌরসভার উদ্যোগে শ্মশানঘাট সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দ অর্থে ২০১৭ সালে বৈদ্যুতিন চুল্লি সমৃদ্ধ এই শ্মশানঘাটের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে যাবার পরও আশ্চর্যজনক ভাবে সংশ্লিষ্ট এই শ্মশানঘাটের বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত তৎকালীন দিনহাটা পৌরবোর্ড। সূত্রে খবর, এই শ্মশানঘাটের বৈদ্যুতিক চুল্লির দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিলে বৈদ্যুতিক চুল্লি ব্যবহারের জন্য যে বিদ্যুৎ খরচ হবে, তা যোগাতে নাকি অক্ষম এই পৌর কর্তৃপক্ষ। আর এই কারণেই নাকি এই শ্মশানঘাটের দায়িত্ব গ্রহণ করেনি পৌরসভা। সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলা শাসকের কাছে পৌরসভা লিখিত আবেদন করে বলেছে এই শ্মশানঘাটের দায়িত্ব গ্রহণ করুক জেলা প্রশাসন। সরকারি টাকা খরচ করে প্রকল্প রূপায়ণ হওয়ার পরও, তা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দিনহাটা পৌরসভার সামগ্রিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এবং দ্রুততার সাথে এই বৈদ্যুতিন চুল্লি চালু করার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একাধিকবার দিনহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ এবং এর পাশাপাশি দিনহাটা মহকুমা শাসককে ডেপুটেশন দিয়েছে সিপিআই(এম)। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেই শাসকগোষ্ঠীর।
আজও চালু হয়নি দিনহাটা বৈতরণী শ্মশান ঘাটের বৈদ্যুতিক চুল্লি। ছবি: অমিত কুমার দেব।
Comments :0