Delhi Protest Brinda Karat

প্রতিবাদী স্বর দমনে যৌন হেনস্তা চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের আবেদন বৃন্দা কারাত

জাতীয়

মহিলা এবং ছাত্রী প্রতিবাদীদের যৌন হেনস্তার লক্ষ্য নিয়ে হামলা চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সব বিধি ভেঙে সব নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ দমন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের উচিত এখনই ব্যবস্থা নেওয়া।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। দিল্লিতে আক্রান্ত এসএফআই সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ। ছিলেন আক্রান্ত প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। 
এসএফআই কর্মী শালিনী জানান তাঁর অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ছাত্রী এবং মহিলা প্রতিবাদীদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের মহিলা আধিকারিকরা ছাত্রীদের জামা ধরে টানাটানি করেছে পুরুষ পুলিশের সামনে। জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্য এই কৌশল ব্যবহার করছে দিল্লি পুলিশ। চেষ্টা করছে এমনভাবে হেনস্তা করতে যাতে মনোবল ভেঙে যায়।
বৃন্দা কারাত বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে প্রশাসনের নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো যে কোনও নাগরিকের অধিকারের মধ্যে পড়ে। সেই বক্তব্যকে গ্রাহ্যই করেনি দিল্লি পুলিশ। আদালতের অবমাননা করা হয়েছে। 
কারাত জানান যে কন্‌ট প্লেস থানায় তাঁর হাতেও চোট লেগেছে। তিনি বলেন, অতীতে কখনও দিল্লি পুলিশ এভাবে সব নিয়মের ঊর্ধ্বে ছিল না। প্রতিবাদীদের পরপর এভাবে আক্রমণ করতে পারেনি। হিংসাত্মক চেহারা নিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। বহু মহিলা এবং ছাত্রী প্রতিবাদীর সঙ্গে কথা বলেছি। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যৌন হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন মহিলা সাংবাদিককে এর আগে হেনস্তা করা হয়। তাও এফআইআর দায়ের হয়নি। এবার দেখেছি তারা শারীরিক হেনস্তা করেছে, গোপন অঙ্গে আঘাত করেছে। জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে। উর্দি পরে যৌন হেনস্তা এখন বিরোধী স্বর দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কারাত বলেন, মহিলাদের সন্ধ্যে ৬টার পর হেপাজতে নেওয়া হয় না। সেই বিধিও ভাঙা হয়েছে। বাসে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া হয়েছে। ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে সবার। তারা কোথায় রয়েছে কেউ জানায়নি। পুলিশ ভ্যানের ভেতর নির্যাতন করা হয়েছে। পুরুষ বা মহিলা, কমবয়সী প্রতিবাদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে সব বিধি ভেঙে এখনই সুপ্রিম কোর্টের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া। 
বেবি বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশনের জন্য গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ের নবীন সৈনিকদের অভিবাদন। 
সুপ্রিম কোর্ট যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছে। কিন্তু মোদী-অমিত শাহ সেই বক্তব্যও মানেনি। 
ওরা ব্যারিকেড তুলেছে। বর্বরতা চালিয়েছে। মোদী-অমিত শাহ কাজে বুঝিয়েছে যে দিল্লিতে বর্বর সরকার চলছে। তবে যত বর্বরতাই হোক, এই আন্দোলনকে রুখতে পারবে না। ছাত্র-যুব, সমাজের অন্য অংশের  পাশাপাশি সমাজকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, বুদ্ধিজীবীরা শামিল হচ্ছেন। 
বেবি বলেন, সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসকে মারধর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িতে তুলে, পুলিশ হেপাজতে। তিনি কেবল ছাত্রদের ওপর আক্রমণ সম্পর্কে জানতে গিয়েছিলেন, তাঁকে আহত হতে হয়েছে। কেবল উর্দি পরিহিত আরএসএস কর্মী নয়, তার বাইরেও আরএসএস কর্মীদের আক্রমণ করতে নামানো হয়েছে। 
আদর্শ সাজি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল। পুলিশের পাশাপাশি আরএসএস-র দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। পুলিশ সব রকমের নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। একেকটা ভ্যানে ঠাসাঠাসি করে তোলা হয়েছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি ভ্যানের বাইরে ছাত্রদের আর্তনাদ। তাঁদের ভ্যানের ভেতর মারা হয়েছে। পুরুষ পুলিশ মহিলা প্রতিবাদীদের আক্রমণ করেছে। এসএফআই কর্মী, ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। 
ঐশী ঘোষ বলেন, নাবালক-নাবালিকা ছাত্রছাত্রীদের আরএসএস’র দুষ্কৃতীরা মারধর করেছে পুলিশের সামনে। পুলিশ নিশ্চুপ থেকেছে। ভিডিও সবাই দেখেছে। যে ছাত্র বা ছাত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছে তার ওপরই হামলা চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সাংবাদিকদের জবরদস্তি আটক করা হচ্ছে। মারধরের হুমকি দিচ্ছে। সাংবাদিকরা পরিচিতি পত্র নিয়ে কাজ করলেও তাদের ধরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর দিল্লি পুলিশের কর্মীরা নিজেদের নামের ব্যাচ ছাড়াই কাজ করছে। 
ঐশী বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেন দিল্লি পুলিশ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। ছাত্র-যুবরা এই অত্যাচার সহ্য করবে না। আমাদের অনেকে আহত হয়ে রয়েছে। গুজরাট থেকে এক ছাত্রী এসেছিলেন। একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন। তাকে বাসে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। 
ঐশী বলেন, দিল্লিকে ‘ব্যারিকেড জোন’ করা হয়েছে। যেখানে কোনও প্রতিবাদ করা যাবে না, শান্তিপূর্ণ মিছিল করা যাবে না। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অধিকার ফিরে চাইছি কেবল জায়গার জন্য নয়, আমরা বার্তা দিতে চাইছি যে গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। 
এসএফআই নেতৃবৃন্দ বলেন, এমনভাবে মারছে যাতে আর প্রতিবাদে শামিল হতে না পারি। তবে সাহস হারাচ্ছি না।

Comments :0

Login to leave a comment