Dubrajpur Custodial Death

যুবকের মৃত্যু পুলিশ হেপাজতে, বিক্ষোভে উত্তাল দুবরাজপুর

জেলা

মৃতদেহ সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স আটকে দুবরাজপুর থানায় বিক্ষোভ মৃতের গ্রামবাসীদের।

চোর সন্দেহে আটক এক যুবকের মৃত্যু পুলিশ হেপাজতে। পুলিশের বেধড়ক মারেই হয়েছে মৃত্যু, এই অভিযোগ তুলে মৃতের পরিজন গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুর থানা। মৃতের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগে,  পুলিশি হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই এই মৃত্যু হয়েছে ।  এই ঘটনার পর থেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মৃতের নাম বরজাহান শাহ(৩৫)। বীরভূমের দুবরাজপুর থানার যশপুর পঞ্চায়েতের পছিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ​​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কাজে যশপুর গ্রামে গিয়েছিলেন বরজাহান শাহ। সেই সময় চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করে দুবরাজপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি। ​মৃতের ছেলে ইসমাইল শাহর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ থানার সিসিটিভি ফুটেজে তারা নিজ চোখে দেখেছেন কীভাবে পুলিশ তাঁর বাবার ওপর অকথ্য ও বেধড়ক অত্যাচার চালিয়েছে। ​অন্যদিকে, এক প্রত্যক্ষদর্শী সেখ জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, "আমি অন্য এক অভিযুক্তের সাথে দেখা করতে এসেছিয়াল। সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা নাগাদ  থানার ভেতরে বরজাহান শাহকে অত্যন্ত নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। ​​সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।" মৃতের স্ত্রী আজমীরা বিবি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, "থানায় ডেকে পাঠানোর পর স্বামীর সঙ্গে তাঁকে বা পরিবারের কাউকে একবারের জন্যও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। শুধু আমার আধার কার্ড নিয়ে থানায় থাকা এক মহুরিকে দিয়ে কিছু লিখিয়ে আমাকে সই করিয়ে নেয়। আমার চোখের সামনেই আমার স্বামী শেষ হয়ে গেল। আমি দেখলাম।  স্বামীর মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো সুচিকিৎসা না করিয়ে পুরো বিষয়টিকে স্রেফ 'নাটক' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।"
মৃতের পরিবারের বক্তব্য,  বরজাহান নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর চাউর হতেই থানার সামনে ভীড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে থানা চত্বর।হাসপাতাল থেকে বরজাহানের মৃতদেহ পুনরায় থানায় নিয়ে আসা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বের করার চেষ্টা করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাঁরা সেই অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রেখে থানার সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, এলাকাবাসীর ক্ষোভের আঁচে  পরিস্থিতি উত্তরোত্তর তপ্ত হচ্ছে থানা চত্বর।

 

Comments :0

Login to leave a comment