Migratory Birds

সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছে পরিযায়ী পাখির দল

জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি

শীতকালীন সময়ে পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসে বাংলার বিভিন্ন জায়গাতেও। এই সময়টার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন পাখি প্রেমিরা। আর এই শীতের অপেক্ষায় থাকে পরিয়ায়ী পাখিরদল। ঠিকানা বদলিয়ে হাজার হাজার মাইল পেড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ঘর বাঁধে রকমারি সব পাখির দল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে দেখা মেলে তাদের। মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে পরিযায়ী পাখির দল হাজির হয় জলপাইগুড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন খালবিলে। 

পরিযায়ী পাখিদের ভিড়ে গমগম করে এলাকা। কিন্তু দূষণ ও উষ্ণায়নের জেরে সময়ের আগেই বিদায় নিচ্ছে পরিযায়ী পাখিরা। প্রতি বছর অক্টোবর–নভেম্বরে সাইবেরিয়া, ইওরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে কয়েক হাজার পাখি ভিড় জমায় তিস্তা নদী, গজলডোবা পাখি বিতান, করলা ও জলপাইগুড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন খালবিলে। চলতি মরশুমে ফেব্রুয়ারিতেই উধাও হয়েছে শীতের আমেজ। ফলে দ্রুত কমছে পাখির সংখ্যা। এখনও গজলডোবায় কয়েক হাজার পাখি দেখা গেলেও প্রতিদিনই সেই সংখ্যা কমছে।


এবারের শীতে রেড ক্রেস্টেড পোচার্ড, বার-হেডেড গুজ, নর্দান পিনটেল, গ্যাডওয়াল, কমন টিল, লেসার হুইসলিং ডাক, ব্রাহ্মণি হাঁস সহ একাধিক প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি ২০-৩০ শতাংশ কমেছে। পরিবেশবিদদের মতে, সিকিমে বন্যা ও হ্রদ বিপর্যয়ের পরে তিস্তায় আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও চরিত্রে পরিবর্তন এনেছে। পলি জমা, দূষণ এবং মাছ কমায় খাদ্যচক্রে প্রভাব পড়েছে যার প্রভাব পড়েছে পাখিদের ওপর। 

অন্যদিকে, গত গ্রীষ্মে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল। উষ্ণায়নের জেরে ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তনে শীতের স্থায়িত্ব কমেছে। সাধারণত মার্চ, কখনও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত স্থায়ী শীত এবার ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নিয়েছে। জলাভূমির জলস্তর কমে যাওয়া, প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের দূষণ এবং নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটকের চাপ পাখিদের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের ওপর বাড়তি প্রভাব ফেলেছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, জলাভূমি সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈজ্ঞানিক নজরদারি জোরদার না হলে ভবিষ্যতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে।

ছবিগুলি তুলেছেন প্রবীর দাশগুপ্ত।

Comments :0

Login to leave a comment