india zimbabwe

জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখল ভারত, রান পেলেন অভিষেক

খেলা

শেষ চারের আশা বেঁচে রইল ভারতের। যথেষ্ট সহজ জয়ই এলো জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে। সুপার এইটের দ্বিতীয় খেলায় ভারত তাদের হারাল ৭২ রানে। যদিও শেষ অবধি ব্যাট করে গেল জিম্বাবোয়ে। সৌজন্য ব্রায়ান ব্রেনেট। 
ব্রেনেট ওপেন করতে নেমে শেষ অবধি ব্যাট করেন। ৫৯ বলে অপরাজিত ৯৭ করে তিনি ক্রিজ ছাড়েন। শতরান পাননি, দলও জেতেনি। তবে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজরে তিনিও নায়ক। ৮টি চার ও ৬টি ছয়ে সাজানো ইনিংসটি বিশ্বকাপ টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বাধিক। মাত্র ১ রানের জন্য ক্রিস গেলকে ছুঁতে পারেননি তিনি। গেল ৯৮ করেছিলেন ব্রিজটাউনে ২০১০ সালে।
২৫৭ রানের লক্ষ্য টি-২০ ক্রিকেটে পর্বত প্রমান। জিম্বাবোয়েকে দেখে মনে হয়নি তারা জেতার জন্য খেলছে। শেষ অবধি ব্যাট করে অল আউট না হওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে তারা সফল। ৬ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে তারা। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিং ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন। উইকেট না পেলেও জসপ্রীত বুমরা ও হার্দিক পান্ডিয়া দু’জনেই ২১ রান খরচ করেন ৩ ওভারে। হার্দিকই ম্যাচের সেরা। ব্যাট হাতেও অর্ধশতরান করেছেন মাত্র ২৩ বলে। খেলার পর তিনি বললেন, ‘বেশ খুশি। আমি খুব জোরে মারতে চাইছিলাম। পরে ভাবলাম টাইমিং করেও ছয় মারা যায়। বেশ কিছু ম্যাচে আমি যা চাইছিলাম তা হচ্ছিল না। এই ম্যাচে হয়েছে। তাই ভালো লাগছে।’ এরপর তিনি নিজের বোলিং সম্পর্কে বলেন, ‘আমি নতুন বলে বল করতে পছন্দ করি। সুইং করাতে পারি। উপভোগ করি বিষয়টা। এর ফলে উইকেট নেওয়ার সুযোগ আসে।’
তবে সমস্যার বিষয় হলো শিবম দুবের বোলিং। তিনি ২ ওভারে ৪৬ রান দেন। বিশ্বকাপে যে কোনও বোলারের করা প্রথম দু’ওভারে সবথেকে বেশি রান। অধিনায়ক সূর্যকুমার বোলিংয়ের কিছু খামতি স্বীকার করে নিলেন। বললেন, ‘সব ব্যাটাররাই কিছু না কিছু রান করেছেন দলের জন্য। বল হাতে আরেকটু ভালো কাজ করতে হতো। যদিও জয় সবসময় জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে সব দিক দেখে নিতে হবে। তবে জিম্বাবোয়ে ব্যাটারদের কৃতিত্ব নেই একথা বলছি না। ওরা দারুন ব্যাট করেছে। বোলিংয়ের দিক থেকে বলতে গেলেন আরও ভালো করা উচিৎ ছিল। এই অবস্থায় আরও সাহসী হতে হবে। কলকাতায় পৌঁছে পরিকল্পনা হবে।’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছানোর কথা ভারতের।
প্রথম থেকেই ভারতীয় ব্যাটাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে জিম্বাবোয়ের বোলিংয়ের ওপর। বিন্দু মাত্র স্বস্তি দেয়নি তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ায় বেশ কিছুটা চাপমুক্ত হয়েই নেমেছিল তারা। জিম্বাবোয়ের বোলারদের অবস্থা হয়ে পড়ে খুবই করুণ। গতম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের বিপক্ষে ২৫৪ তোলে। এই ম্যাচে তার থেকেও বেশি রান দিয়েছে তারা। চলতি বিশ্বকাপের সর্বাধিক ৪ উইকেটে ২৫৬ তোলে ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক রান। ১৭টি ওভার বাউন্ডারি ছিল ভারতের ইনিংসে। ভারতীয় ব্যাটাররা এদিন ক্রিজে ছিলেন ১৫-৩০ বল। তাতেই তাঁদের স্ট্রাইকরেট ১৫৮ থেকে ২৭৫ এর মধ্যে ঘোরা ফেরা করে।
পাওয়ার-প্লে’তেই ৮০ রান যোগ করে ভারত। নামিবিয়া ম্যাচের পর দলে ফেরা সঞ্জু স্যামসন (২৪) এদিন বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাট করেন। যদিও, এদিনও তিনি শর্ট বলেই আউট হন।
এদিকে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অভিষেক শর্মা (৫৫) রান পেলেন। এদিন কেরিয়ারের অন্যতম ধীর গতির ইনিংস খেলেন তিনি। জীবনের দ্বিতীয় ম্যাচে এই জিম্বাবোয়ের বিপক্ষেই ৩৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। এই ম্যাচে করলেন ২৬ বলে। আর কোনবারই অর্ধশতরান করতে এত বল খেলেননি অভিষেক। ইনিংসের পর তিনি বলেন, ‘দলের জন্য কিছু করতে পারলে সবমসয়ই ভালো লাগে। আমি এই মুহূর্তের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। ধীর গতিতে ব্যাট করা ইচ্ছাকৃত ছিল নয়। আমি শুধু পিচে একটু বেশি সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। কারণ এই প্রতিযোগিতায় আমি এর আগে ১০-১২টার বেশি বল খেলিনি। সবাই আমাকে বলেছে, হোটেলে, অনুশীলন করার সময় মনে করিয়ে দিয়েছে, যে তুমি এর আগেও রান করেছো দলের জন্য। ফলে আর বেশি দূর নয়, তুমি আবার রান করবে। সবাই অপেক্ষা করছিল।’
ঈশান কিশানের (৩৮) ব্যাটিংয়েও বিধ্বংসী চেহারা ফিরে এসেছিল। গত ম্যাচে ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে ১৫৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেন তিনি। পিছিয়ে ছিলেন না অধিনায়ক সূর্যকুমারও। মাত্র ১৩ বলে ৩৩ করেন তিনি। শেষের দিকে হার্দিক ও তিলক বর্মা (অপরাজিত ৪৪) মাত্র ৩১ বলে ৮৪ রান যোগ করায়, ভারতীয় দলের রান আড়াইশো’র গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: 
ভারত ২৫৬/৪
অভিষেক ৫৫, রাজা ১/২৯
জিম্বাবোয়ে ১৮৪/৬
ব্রেনেট অপঃ ৯৭, অর্শদীপ ৩/২৪

Comments :0

Login to leave a comment