Jalpaiguri Potato Growers

দরপতনের সঙ্গে বিপদ ঝড়ও, আজ জলপাইগুড়িতে জেলা শাসককের কাছে আলুচাষিরা

জেলা

ফলন ভালো হলেও বাজারে দরপতন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা এবং সংরক্ষণ পরিকাঠামোর ঘাটতিতে উত্তরবঙ্গের আলুচাষে ফের গভীর সঙ্কট তৈরি হয়েছে। 
এই পরিস্থিতিতে আলুচাষিদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে, সোমবার, ১৬ মার্চ, জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবে জেলা বামফ্রন্ট।
গত কয়েকদিনের ঝড় ও বৃষ্টিতে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর এলাকা সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আলুর খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক নিচু জমিতে জল জমে থাকায় কাদা থেকে আলু তুলতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এর মধ্যেই বাজারে আলুর দাম ধসে পড়ায় উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
কৃষক নেতা ক্ষতিরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি প্রায় ১৪ টাকা হলেও কৃষকদের ৪–৫ টাকায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। 
একই অভিযোগ তুলেছেন এলাকার কৃষক মোজাহার আলম, কমিরুল হক, বাবলু রায়, সঞ্জয় মণ্ডল, প্রণকৃষ্ণ দাস, শ্যামল কুণ্ডু, নীরেন সাহা ও নাজিমুদ্দিন হকরা। বাহাদুর এলাকার কৃষক সাধন বর্মন, মানু মহম্মদ ও সাত্তার আলিও জানান, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা চাষকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাঁরা বলছেন, সরকার ঘোষিত সহায়ক মূল্য মাঠ থেকে কিনলে তবু ঠিক আছে। কিন্তু হিমঘর থেকে সরকার আলু কিনলে চাষিকে ১৪ টাকা সহায়ক মূল্য দিতে হবে। 
এই দাবিই জেলা বামফ্রন্ট জেলা শাসককে জানাবে। 
সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এবং সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য এ কথা জানান।
জলপাইগুড়ি সদর, ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ ও ধূপগুড়িতে মূলত পোখরাজ, জ্যোতি, হল্যান্ড ও চিপসোনা জাতের আলু চাষ হয়। কৃষি দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে এ বছর প্রায় ৪৮ লক্ষ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ ৯৭টি হিমঘরের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র প্রায় ১৮ লক্ষ টন। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের আটটি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ২৫–৩০ লক্ষ বস্তা আলু রাখার ক্ষমতা থাকলেও চাষিদের অভিযোগ, আলু সংরক্ষণে নানা সমস্যা ও কালোবাজারির প্রবণতা রয়েছে।
জেলা বামফ্রন্টের দাবি, আলুর ন্যায্য সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে সরাসরি কৃষকদের থেকে সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। কালোবাজারি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কৃযকদের আলু সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। 
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে আলু প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার দাবিও তোলা হয়েছে। এই সব দাবিতেই জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।  

Comments :0

Login to leave a comment