M A Baby

পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত বিরোধী বামপন্থীরাই, বোঝাপড়া বুঝছেন মানুষ, বললেন বেবি

জাতীয়

পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত বিরোধীর ভূমিকা পালন করছে সিপিআই(এম) এবং বামপন্থীরা। বিজেপি এবং তৃণমূলের বোঝাপড়া বুঝতে পারছেন রাজ্যের মানুষ।
কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠকের পর নয়াদিল্লিতে একে গোপালন ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তিনদিনের বৈঠক শেষ হয়েছে গতকাল, ১৩ জুলাই। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বেবি।  
এক প্রশ্নে বেবি বলেছেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে জায়গা করে দিয়েছেন তিনিই। বিজেপি-কে রাজ্যে শক্তি বাড়াতে সহায়তা করেছেন তিনি।’’
বেবি জানিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় এবং সরকার গঠন করেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। 
বেবি বলেন, ‘‘এখন মানুষ বিকল্প হিসেবে মানুষ দেখছে সিপিআই(এম) এবং বামপন্থীদের। মানুষের অধিকারের প্রশ্নে রাস্তায় নামছেন বামপন্থীরাই। বাংলার মানুষ বুঝছেন যে বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধের নামে অভিনয় করত। কিন্তু তাদের বোঝাপড়া পরিষ্কার হয়ে গেছে।’’
পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম)’র সাংগঠনিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় বেবিকে। তিনি বলেন, ‘‘আগস্টের ২৮-৩০ তারিখ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিশদে আলোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের হস্তক্ষেপ কিভাবে বাড়াবো, তার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে বামপন্থী শক্তিগুলি রাজ্যে সিপিআই(এম)’র সঙ্গে ছিল না গত বিধানসভা ভোটে তারাও একসঙ্গে লড়েছে। ফলে ‘বামফ্রন্ট প্লাস’ আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।’’ 
তামিলনাডু প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যে অচলাবস্থা কাটাতে জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে-কে সমর্থন করবে। টিভিকে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তাদের সরকার গড়ার জন্য ডাকছিলেন না রাজ্যপাল।’’
উল্লেখ্য, রাজ্যে টিভিকে-র সরকার গঠনের দাবি দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখছিলেন কেন্দ্র নিযুক্ত রাজ্যপাল। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) এবং সিপিআই টিভিকে-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বেবি বলেন, ‘‘আমরা যখন ডিএমকে’র সমর্থক ছিলাম তখনও প্রয়োজনে সমালোচনা করেছি, রাস্তায় নেমেছি। সিপিআই’র সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে সিপিআই(এম)’র। আমরা জোসেফ বিজয় সরকারকে সমর্থন করলেও  সরকারে অংশ নেইনি। জনবিরোধী কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ গড়ব। টিভিকে বিধানসভায় সবচেয়ে বড় দল, এ বাস্তবতা বিবেচনায় রাখত হবে।’’
‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ’’ইন্ডিয়া ব্লকে কোনও নেতা নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীক দায়িত্ব নিতে হবে সমন্বয়ের। সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারলে এমনকি গত লোকসভা ভোটের ফলাফল আলাদা হতে পারত।’’  
কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠকে দেশের অর্থনীতি, বৃষ্টিপাতের ঘাটতির জেরে শস্যে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা, খাদ্য সুরক্ষায় আঘাতের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 
আলোচনা হয়েছে রাম মন্দিরের দুর্নীতি নিয়েও। বেবি বলেছেন, ‘‘যারা নিজেদের আলাদা দাবি করছে তারা ‘নেশন’-র বদলে ‘ডোনেশন’-কে গুরুত্ব দিচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী নিজের মন্ত্রকের ভরতুকি  নিজেই নিচ্ছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘নাগরিক পরিচিতি নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে কেন্দ্র। এখনও বলছে পাসপোর্টও নাগরিকত্বের পরিচয় না। এর আগে এসআইআর আমরা দেখেছি। নয়া ফ্যাসিবাদী প্রবণতা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।’’ 
বেবি বলেন, ‘‘দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্য দল ভাঙাচ্ছে বিজেপি। হিন্দুরাষ্ট্রের পক্ষে অবাধে এগনোর পরিকল্পনা নিয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘হাজার হাজার একর জমি কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।’’ 
কেরালায় কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন বেবি। তিনি বলেন, নরম হিন্দুত্বের পথে চলছে কংগ্রেস সরকার। 
নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে প্রচার আন্দোলন গড়ে তোলায় জোর দেবে সিপিআই(এম)। মহিলা আসন সংরক্ষণের প্রচার গড়ে তুলবে। ডিলিমিটেশনের শর্ত থেকে আসন সংরক্ষণকে আলাদা করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment