‘তোমার চার-চারটে জেট আছে। আমি তোমার সংস্থার কর্মী। আমার বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পয়সাও নেই।‘
প্রতিবাদে নামার আগে আমাজনের মালিক জেফ বেজোসকে কেউ লিখেছেন এই ভাষায়।
কেউ লিখেছেন, ‘তোমার আমাজনে আমরা বাথরুমে গেলেও জবাবদিহি করতে হয়। কেন? কর্মীদের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। দিতে হবে সঙ্গত অধিকার।‘
বিশ্বের একাধিক দেশে আমাজনের কর্মীরা এই স্লোগান তুলে চালাচ্ছেন বিক্ষোভ। কোথাও কোথাও দল বেঁধে বন্ধ রাখা হয়েছে কাজ।
প্রতিবাদী বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে বিশ্বের অন্তত ৩০ দেশে চলছে প্রতিবাদ। তার মধ্যে আমেরিকা, জার্মানি যেমন রয়েছে। তেমন রয়েছে ভারত, বাংলাদেশও। অসংখ্য পোস্টে রয়েছে সেই সংখ্যা, ২১৫ বিলিয়ন ডলার, জেফ বেজোসের মালিকানায় থাকা সংস্থার মোট সম্পদের অঙ্ক। অথচ সবচেয়ে কম মজুরিতে আবিশ্ব কর্মীদের কাজ করায় এই সংস্থাই। বর্বর শোষণের এমন ‘নিউ নর্মাল’ বেআব্রু হয়ে গিয়েছে কর্মীদের ক্ষোভের ভাষায়।
ভারতে সদ্যই চালু করা হয়েছে চার শ্রম কোড। শ্রমিক আন্দোলন যাকে জঙ্গলরাজের সঙ্গে তুলনা করেছে। ন্যূনতম মজুরি থেকে কাজের সময়, বাতিল করা হয়েছে অধিকার। এমনকি সংগঠিত প্রতিবাদ করলেও শাস্তির খাঁড়া নামানোর হুমকি রয়েছে একেবারে কর্পোরেটের হয়ে তৈরি এই আইনে। তবে আইনের চোখ রাঙানিতে প্রতিবাদ যে বাঁধ মানবে না ফের স্পষ্ট করেছে আমাজন কর্মীদের প্রতিবাদ।
‘ইউএনআই গ্লোবাল অ্যাকশন’ নামে কর্মীদের একটি বহুদেশীয় প্রতিবাদ মঞ্চ জানিয়েছে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিছিলে, বিক্ষোভে চলবে প্রতিবাদ।
এদিকে আমাজনের বিবৃতিতে দাবি, আমাদের সংস্থার বেতন এবং মজুরি উঁচুমানের। সুযোগ বেশি। বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মী আমাদের। নিরাপদ এবং আধুনিক কাজের জায়গা দেয় সংস্থা।
আমাজনের সে দাবি উড়িয়ে দিচ্ছেন কর্মীরা। কর্মীদের অনেকে বলেছেন যে তাপপ্রবাহের মধ্যে বদ্ধ গুদাম ঘরে কাজের সময়েও অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ছুটি নেই। অসুস্থ হয়ে না এলেও মজুরি কাটা পড়ে আমাজনে। বছরের পর বছর এই সংস্থা কর্মীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে দমিয়ে রেখে বিপুল মুনাফা করে চলেছে। আমাজনকে বুঝতে হবে সঙ্গত মজুরি না দিলে ছাড়বেন না কর্মীরা।
Amazon Workers Protest
‘তোমার জেট আছে, আমার বাড়ি ভাড়াও নেই‘: বিশ্বময় বিক্ষোভে আমাজন কর্মীরা
×
Comments :0