May Day 2026

বিশ্বজুড়ে মে দিবসের মিছিলে ধিক্কার যুদ্ধ চাপানোর নীতিকে

আন্তর্জাতিক

শিকাগোয় মে দিবসে মিছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে জীবন মান বজায় রাখার সঙ্কট আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মে দিবসে শ্রমজীবীর মিছিলে তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে, অধিকারের পক্ষে সরব স্লোগান শোনা গিয়েছে বিশ্বের সর্বত্র। 
খোদ আমেরিকা থেকে ইউরোপ, এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে শ্রমজীবীরা নেমেছেন রাস্তায়। সর্বত্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে কম মজুরিতে অস্থায়ী করে রেখে শ্রমিক শোষণের নীতির বিরুদ্ধেও। আমেরিকায় আমাজনের বিরুদ্ধে উঠেছে স্লোগান।
মার্কিন-ইরান সংঘাত এমন এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপরিশোধিত তেল সরবরাহকে অচল করে দিয়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বেড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের অঙ্কও। আমেরিকারই বেশিরভাগ মানুষ মনে করছেন যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে অপ্রয়োজনে।
সেই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি জোরদার করার পর ধরপাকড় হেনস্তা নেমেছে ট্রাম্প বিরোধী প্রতিবাদে। মে দিবসে আমেরিকার প্রায় ৫০০টি শ্রমিক সংগঠন রাস্তায় নেমে ‘স্কুল নয়, কাজ নয়, কেনাকাটা নয়’ কর্মসূচির ডাক দেয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি "মে ডে স্ট্রং" নামে একটি বৃহত্তর মঞ্চ তৈরি করে। পাশাপাশি ‘পুঁজির মালিকরা নয়, শ্রমিকরাই শেষ কথা‘, ওঠে এমন স্লোগানও। 
দাবি ওঠে মহাধনীদের ওপর কর বসানোর। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযান বন্ধ করার দাবি ওঠে একের পর এক মিছিলে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪১টি দেশের ৯৩টি ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন বলেছে, "শ্রমজীবী মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি মধ্য প্রাচ্য যুদ্ধের দাম চোকাবে না।"
আরও বলা হয়েছে, "আজকের সব সমাবেশ দেখিয়ে দিচ্ছে যে শ্রমজীবী মানুষ তাদের চাকরি ও জীবনযাত্রার মান ধ্বংস হতে দেখে চুপ করে থাকবে না।" 
এই মনোভাব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে।
ফিলিপিন্সের ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের কাছে রাস্তা অবরোধকে ঘিরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হতে দেখা যায়। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উচ্চতর মজুরি ও কম করের দাবি ওঠে।
মরক্কোর বৃহত্তম শহর কাসাব্লাঙ্কায়, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যের প্রতিবাদে ট্যাক্সি চালকরা হর্ন বাজিয়ে,  বাস চালকরা তাঁদের যানবাহন থামিয়ে রেখে প্রতিবাদ জানান। 
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় মে দিবসের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি থেকে সরকারি সুরক্ষার দাবিতে জনগণ এক সমাবেশের আয়োজন করেন, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ানতোও সেই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। 
তুরস্কে, মে দিবসের সমাবেশ হয় ঐতিহাসিক স্থান, বিখ্যাত তাকসিম স্কোয়ারের কাছে। মিছিল করার চেষ্টা হলে শত শত লোককে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে তুরস্কের  নিরাপত্তা বাহিনী স্কোয়ারটিকে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করে।

Comments :0

Login to leave a comment