IPL 2026

দেবদত্ত, বিরাটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দাপুটে জয় বেঙ্গালুরুর

খেলা

টসে জিতেই ট্রফি ধরে রাখার সংকল্পের কথা জানিয়েছিলেন রয়‍্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার। টানা দু'বার আইপিএল জিততে আরসিবি কতটা মরিয়া। মাত্র ১৫.৪ ওভারে ২০৩/৪ রান তুলে বাকি ন'প্রতিপক্ষকে বার্তা দিয়ে রাখল বেঙ্গালুরু।

চিন্নাস্বামীর পাটা উইকেটে রান তাড়া সহজ। পরিসংখ্যান সেই কথা বলছে। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। জয়ের অন্যতম কারিগর অবশ্যই 'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' হিসেবে নামা দেবদত্ত পাড্ডিকাল। ফিল সন্ট (৮) দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর, পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন দেবদত্ত। হায়দরাবাদের বোলারদের বেধড়ক ঠেঙিয়ে করলেন ২৬ বলে ৬১। ২৩৪ স্ট্রাইকে ইনিংসটি সাজিয়েছেন সাতটি চার ও চারটি ছক্কায়। কিছু কম যাননি বিরাট কোহলিও। বয়স ৩৭। তাঁর ব্যাটিংশৈলীর সামনে যা সংখ্যা মাত্র। রান তাড়ায় নেমে দলের হয়ে সর্বাধিক রান করলেন তিনিই। বিরাটের ব্যাটিংয়ে দেখে মনে হচ্ছিল, ২০১৬ সালের কোহলি ব্যাটিং করছেন। দর্শনীয় সমস্ত শটে বল অবলীলায় বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। সোজা ব্যাটে বোলারের মাথার উপর দিয়ে দু'টি ছয় মারলেন, যা দেখে সুনীল গাভাসকার প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। হর্ষল প্যাটেলকে ট্রেডমার্ক ফ্লিকে ছক্কা হাঁকিয়ে বিনোদন দিলেন দর্শকদেরও।

আইপিএল শুরুর আগেই অরেঞ্জ ক্যাপ কে পেতে পারেন? রবিচন্দ্রন অশ্বিন সহ বহু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বিরাটের নামই বলেছিলেন। কমলা টুপি পেতে বিরাট যে প্রস্তুত বুঝিয়ে দিলেন, ১৮২ স্ট্রাইক রেটে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে। ৩৮ বলের ইনিংসে দশটি বাউন্ডারি। পাঁচটি চার, পাঁচটি ছয়। টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক সম্মেলনে গৌতম গম্ভীর জানিয়েছিলেন, ২০২৭ বিশ্বকাপে দলে থাকার জন্য আইপিএলের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। গম্ভীরের সেই বার্তা আরও ক্ষুধার্ত করে তুলেছে বিরাটকে- সেটা বলার অপেক্ষা রাখেন না। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা মুর্খামি। কিন্তু বিরাটের অভিধানে আত্মতুষ্টি শব্দটি নেই। আগের চেয়ে ছিপছিপে দেখাল বিরাট। ফিটনেসে আরও উন্নতি করেই আইপিএল খেলতে এসেছেন তিনি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৯তম সংস্করণের প্রথম ম্যাচেই রান তাড়া করতে নেমে নতুন মাইলফলক গড়লেন বিরাট। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে রান তাড়ায় চার হাজার রান পূর্ণ করলেন তিনি। ম্যাচ হেরে সানরাইজার্স অধিনায়ক ঈশান কিষান বললেন, ‘রান তাড়ায় বিরাটকে দ্রুত ফেরাতে না পারলে, ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যায়। একবার বিরাট ছন্দ পেয়ে তাঁকে থামানো মুশকিল। আমাদের সঙ্গে সেটাই হল।’

দেবদত্ত ও বিরাটের ব্যাটিং সামনে কিছুটা ফিকে হয়ে গেল পাতিদারের ইনিংসটি। ১২ বলের ইনিংসে দৃষ্টিনন্দন শট খেলে ১২ বলে ৩১ রান করলেন আরসিবি অধিনায়ক। রান পাননি জিতেশ শর্মা (০)। শেষ অবধি বিরাটের সঙ্গে অপরাজিত রইলেন টিম ডেভিড (১৬)। এনে দিলেন ২৬ বল বাকি থাকতে জয়।

প্রথম ব্যাট করতে নেমে দুশো পার করে হায়দরাবাদ। কিন্তু জেকব ডাফির দাপটে পাওয়ার প্লে'তে হায়দরাবাদের যা অবস্থা হয়েছিল, তাতে দুশো রান তোলা একসময় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। জশ হ্যাজেলউডের ব্যাক আপ হিসেবে ডাফিকে দলে নিয়েছে আরসিবি। দলে যোগ দিলেও এই ম্যাচে খেলেননি হ্যাজেলউড। আইপিএল অভিষেকেই আরসিবির অজি পেসারের অভাব বুঝতে দিলেন না। তিনি দ্রুত ফিরিয়ে দেন অভিষেক (৭) ও হেডকে (১১)। এরপর কিউয়ি পেসারের শিকার নীতিশ কুমার রেড্ডি (১)। তবে ঈশানের ৮০, হেনরিখ ক্লাসেন (৩১) ও শেষদিকে অনিকতে বর্মার (৪৩) বিস্ফোরক ইনিংসের সুবাদে ২০১ রান তোলে হায়দরাবাদ। যা ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

Comments :0

Login to leave a comment