সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় চরম দুর্দশায় পড়েছেন কৃষকরা। ওডিশার নুয়াপাড়ায় ধান বিক্রি করতে না পেরে মানসিক চাপে এক কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জেলাশাসকের দাবি, পারিবারিক বিবাদের জেরেই ওই কৃষক এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে,জাদামুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা নেপাল মাঝি(৪৫) সোমবার বিষপান করেন। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মৃতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কেন্দ্রে ধান বিক্রির জন্য টোকেন থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি করতে না পারায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। নুয়াপাড়ার জেলাশাসক মধুসূদন দাস ওই কৃষকের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ধান সংগ্রহের বিষয় নিয়ে সমস্যার জেরে ওই কৃষক আত্মহত্যা করেছেন—এমন অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘‘ওই কৃষককে তাঁর ৩০ কুইন্টাল ধান বিক্রির জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদযুক্ত একটি টোকেন দেওয়া হয়েছিল। টোকেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আট দিন আগে, ২২ জুন তিনি বিষপান করেন। তাঁর দাবি প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে , পারিবারিক বিবাদের জেরেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রশাসন মৃত কৃষকের পরিবারকে ইতিমধ্যেই ৫০হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা করেছে এবং টোকেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের ধান সংগ্রহ করা হবে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে কৃষকের পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসীরা কোমনা এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন। এদিকে, বিরোধী দল বিজু জনতা দল ওই কৃষকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করেছে। ওড়িশা বিজু জনতা দলের নেতা প্রসন্ন আচার্য এই দলের নেতৃত্ব দেবেন।
Farmer Suicide
ওড়িশায় আত্মঘাতী কৃষক
×
Comments :0