কোচবিহার জেলা জুড়ে জল জীবন মিশন প্রকল্পে কাজ করার পরও বকেয়া প্রায় ২৬০ কোটি টাকা, ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করে বকেয়া প্রায় ৭কোটি ৩১লক্ষ টাকা, ২০২৩সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১কোটি ৬০লক্ষ টাকা, ২০২৪সালের লোকসভা নির্বাচনে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১২কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রায় ১৫৩ জন ঠিকাদার। বারবার এই বকেয়া মেটানোর আবেদন করেছেন তারা। কিন্তু এরপরও এই বকেয়া মেটাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। তাই কার্যত বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার এই দপ্তরের কোচবিহার বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ১১ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হলেন ঠিকাদাররা।
শুধু এই বকেয়াই নয়, পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন জলত্তোলন কেন্দ্রে কর্মরত ভাল্ব অপারেটরদের মাসিক মজুরি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের বকেয়া দীর্ঘদিন যাবত মেটাচ্ছে না জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। এক্ষেত্রে যেমন চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে এই ঠিকাদারদের জীবনে, ঠিক একইভাবে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি ভাল্ব অপারেটররা সহ বিভিন্ন ঠিকাদারী এজেন্সির অন্তর্ভুক্ত বড় অংশের শ্রমিকেরা। সবকিছু জেনেও উদাসীন রাজ্য সরকারের এই দপ্তর।
আন্দোলনকারীরা জানান, কোন ঠিকাদার দু'বছর আবার কেউ তিন বছর যাবত এই জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ করে চলেছেন এই জেলার বিভিন্ন গ্রামে। কোথাও কোথাও এই কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, আবার কোথাও কাজ সম্পন্ন করেছেন ঠিকাদারেরা। রীতিমতো বিল পেশ করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে। বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাকি যে বিল পেশ করা হবে তার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এখনও পর্যন্ত পাওনা বকেয়া বিল মেটানো হয়নি এই সমস্ত ঠিকাদারদের। বারবার বকেয়া বিলের জন্য এই দপ্তরের দ্বারস্থ হলেও নির্লিপ্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা। এই বকেয়া বিল মেটানোর ক্ষেত্রে কোন সদুত্তরই দিতে পারছেন না তারা। পাওনা বকেয়া না পেয়ে এই মুহূর্তে কার্যত দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এই সমস্ত ঠিকাদারদের। সীমাহীন অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন তারা।
কোচবিহার জেলাজুড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৮ হাজার ৪৫৪ টি পরিবারের বাড়ি বাড়ি পাণীয় জলের সংযোগ দিতে হবে এই জলজীবন প্রকল্পে। কোচবিহার জেলায় ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭ লক্ষাধিক পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যার বিচারে ৩০ লক্ষেরও বেশি। জেলার সমস্ত গ্রামে এখনও পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। জেলার প্রায় ৬০শতাংশ মানুষ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পরিষেবা পান। বাকি ৪০শতাংশ মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা মিলিয়ে বর্তমানে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ৯৭ টি প্রকল্প রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির অধীনে আরও ৪২টি প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু তাদিয়ে কোচবিহার জেলার গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই পরিস্থিতিতে জলজীবন মিশনের প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হওয়াটা ছিল একান্ত বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কাজ করার পরও ঠিকাদাররা তাদের বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় এই জল জীবন মিশন প্রকল্প আদৌ এই জেলায় বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এদিন আন্দোলনকারী ঠিকাদাররা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত তাদের বকেয়া মেটানো না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন তারা।
Comments :0