‘আলেকজান্দার ইজ গন’, রবিবার সন্ধ্যা থেকে বেলগ্রেড সহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় কোথাও মাইকে আবার কোথাও খালি গলায় চিৎকার করছেন মানুষ। আলেকজান্দার মানে আলেকজান্দার ভুচিচ। রবিবার সার্বিয়ায় সাধারণ নির্বাচন ছিল। বিকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় ক্ষমতাসীন অতি দক্ষিণপন্থী সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পরাজিত হতে চলেছে।
সার্বিয়ার সংসদে আসন সংখ্যা ২৫০টি। এখনও অবধি প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে স্টুডেন্টস লিস্ট পেয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ (৫২.৯ শতাংশ) ভোট, এসএনএস’র পক্ষে সমর্থন প্রায় ১৭ লক্ষ (৩৮.৮ শতাংশ)। এবারের নির্বাচনের প্রচারে অংশগ্রহণ করার জন্য রাষ্ট্রপতি আলেকজান্দার ভুচিচ গত মাসেই পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর দল ও সমর্থকদের আশা ছিল গত কয়েকবারের মতো এবারেও তিনিই শেষ হাসি হাসবেন। কিন্তু ‘সার্বিয়ান স্ট্রংম্যান’ হারলেন। ভোটের হার বুঝিয়ে দিচ্ছে জনসাধারণ একজোট হলেই অতি দক্ষিণপন্থা পরাজিত হবে।
এসএনএস’র শাসনকালে সার্বিয়ায় গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দাবিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন চলেছে। কিন্তু শেষ কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধীদের একজোট হতে না দিয়ে বারবার বাজিমাত করেছেন ভুচিচ। নির্বাচনে জয়ী স্টুডেন্টস লিস্ট গড়ে ওঠে মাত্র দু’বছর আগে। দেশজুড়ে চলতে থাকা যুব সমাজের বিভিন্ন প্রতিবাদ, আন্দোলনকে এক সূত্রে এনে প্রচলিত অর্থে কোনও ‘মুখ’ ছাড়াই সংসদের ২৫০টি আসনে নিজেদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। সে তালিকায় নজর দিলেই বোঝা যায়, নতুন প্রজন্ম, জেন জি’দের উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক মঞ্চ স্টুডেন্টস লিস্ট আদৌ কোনও ম্যাজিকে জেতেনি। কৃষক থেকে চিকিৎসক, শিল্পী থেকে খেলোয়াড়রাই তাদের প্রতিনিধি হয়ে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তথ্য বলছে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এবার ভোট দিয়েছেন, ২০০০ সালের পর সার্বিয়ায় এত বিপুল সংখ্যায় মানুষকে ভোট দিতে দেখা যায়নি। সহজ কথায় এর মানে দাঁড়ায়, শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত অংশের মানুষই একজোট হয়ে ভুচিচ ও তাঁর দলকে হারিয়েছেন।
ভুচিচকে সার্বিয়ার একক রক্ষাকর্তা হিসাবে তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চলে। সার্বিয়ার যাবতীয় সরকারি সংবাদমাধ্যম এসএনএস-র দখলে ছিল। এবছরেই ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ দশটি পৌরসভার নির্বাচনে এসএনএস’র বিরোধী রাজনৈতিক দল, নিরপেক্ষ বলে পরিচিত সাংবদিকদের উপর হিংস্র দমন-পীড়ন নামিয়ে আনা হয়। জনজীবনে নজরদারী, বিরোধীদের নিশানা করে সাইবার হানাও চালানো হয়। রবিবারও বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হাতে নগদ অর্থ গুঁজে দেওয়া, বুথের ভিতর ছাপ মারা ব্যালটের ছবি তুলে রাখার অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সময় বেলগ্রেডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান ভোট চলাকালীন বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া হিংসার খবরে তিনি ‘যথেষ্ট চিন্তিত’। সারাদিন নানারকম বাধা পেরিয়েই সার্বিয়ার মানুষ ভোট দিয়েছেন, প্রায় সব ভোট কেন্দ্রের বাইরেই দীর্ঘ লাইন ছিল।
এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই ছিল ক্ষমতাসীন এসএনএস বনাম স্টুডেন্টস লিস্ট-র মধ্যে। রবিবার দুপুর নাগাদ প্রায় সমস্ত কেন্দ্রে অর্ধেকেরও বেশি ভোট পড়ে যায়। দু ঘন্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুচিচকে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন– ‘জনগণের ইচ্ছাই ঈশ্বরের অভিপ্রায়’। স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ৮টা নাগাদ দলের পক্ষ থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ‘চূড়ান্ত ফলাফল না আসা অবধি অপেক্ষা’-র বার্তা দেওয়া হয়।
‘Students List’ wins in Serbia
সার্বিয়ায় জিতল ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’ অতি দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে রায় মানুষের
×
Comments :0