Coochbehar CM

অনাদরে পড়ে রইল রবীন্দ্র মূর্তি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে মিলছে না বাস্তব

রাজ্য জেলা

মুখ্যমন্ত্রীর সভার দিনে কোচবিহার রবীন্দ্র ভবনে অনাদরে রবীন্দ্র মূর্তি।

অমিতকুমার দেব ও জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার

ফুল মালার সমাহারে সজ্জিত হয়েছিল রবীন্দ্র ভবন। অথচ এই রবীন্দ্রভবনেই অবজ্ঞা আর অনাদরে পড়ে রইল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিটি। একটি ফুলের মালাও জুটলো না দেশের জাতীয় সংগীত স্রষ্টার।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বা কোচবিহার জেলা প্রশাসনের কারোরই মনে হলো না এই রবীন্দ্র মূর্তিতে ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কথা। 
একাংশের মত, বাংলার সংস্কৃতির ধারক এবং বাহকদের যে এভাবেই ভুলিয়ে দিতে চায় রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা।
রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কয়েকবার উত্তরবঙ্গে এলেও মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক করতে প্রথমবার কোচবিহারে এলেন। করেছেন প্রশাসনিক বৈঠক। মুখোমুখি হয়েছেন সাংবাদিকদের। বললেন, কোচবিহারে কাজের জোয়ার আসছে। কোচবিহারকে সাজাবো,উন্নয়ন করব।
বাস্তব ছবিটা ঠিক কী? টেন্ডার জটে আটকে আছে রাস্তা সংস্কারের কাজ! ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তার সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা। এর মধ্যে কোচবিহার পৌর এলাকায় ৩০টি এবং জেলা পরিষদের অধীনে ১৩৩টি রাস্তা মেরামতের কথা। টেন্ডার হয়ে গেছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট ‘tenders.wb.gov.in’ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে পুরো প্রক্রিয়াই আটকে আছে। বাস্তবে পুজোর আগে রাস্তা সংস্কার কার্যত অসম্ভব। 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বেহাল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। হলদিবাড়ির টমেটো, লংকা প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও নীরব ছিলেন। চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদ আদৌ জীবিত কিনা তা-ও জানাননি।
শুধু মাত্র ভাষা আকাদেমি প্রসঙ্গে বলেন যে ভাষার বিকাশের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বাস্তবে রাজবংশী ভাষা আকাদেমির চেয়ারম্যান পদ শূন্য। আগের সরকারের আমলে যেসব স্কুল খুলেছিল সেগুলিও খাতায় কলমে চালু আছে। যাঁরা স্কুলে পড়ানোর জন্য আছেন তাদের নাম মাত্র বেতন দেওয়া হয়। 
মনীষী পঞ্চানন বর্মার জন্মভিটের বাড়িটি সংস্কারের অভাবে যে কোনদিন ভেঙে পড়বে। বামফ্রন্ট আমলে গড়া মনীষীর নামাঙ্কিত সংগ্রহশালা ও গবেষনাগার বন্ধ করে দিয়েছে আগের সরকার। খুলে নেওয়া হয়েছে সাইনবোর্ড। জন্মভিটেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে উপাচার্য দূরস্ত, একজনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই। 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, সীমান্তের সুরক্ষার জন্য ২১০ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোচবিহারের সীমান্ত এলাকার উন্মুক্ত অঞ্চলে বেড়া দেওয়ার কাজ এতটুকুও এগোয়নি!
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ভিবিজি রামজি বা ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানান তথ্য বলছে, এ যাবৎ উত্তরবঙ্গে মাত্র ৪৫ হাজার মানুষ কাজ পেয়েছে! কোচবিহারে এই সংখ্যা মাত্র দেড় হাজার! কাজ দেওয়ার নিরিখে দক্ষিণ দিনাজপুর তো এক হাজারের গন্ডিও পার করতে পারেনি! 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন কোচবিহার জেলার বিধানসভা ভিত্তিক এলাকায় ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাচ্ছেন। অথচ পাশে দাঁড়ানো মন্ত্রী মালতী রাভা রায়কে অন্তত দু’বার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। উপভোক্তারা ভাতা না পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আসার ২৪ ঘন্টা আগেও শীতলখুচি সহ জেলা ৪টি ব্লক অফিস ও দিনহাটা মহকুমা শাসকের অফিসে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ করেছেন মহিলারা।

Comments :0

Login to leave a comment