এসআইআরের পূর্ণ তালিকা বের হতেই মাথায় হাত পুরুলিয়ার লাগদা গ্রামের বৃদ্ধ- বৃদ্ধার। তালিকায় তাদের নাম নেই। পাশাপশি ওই গ্রামে আদিবাসী পরিবারের ১০ জন ছেলে মেয়ের নাম বিচারাধীন থাকায় আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সকলেই। দিন আনি দিন খাই পরিবারের মানুষগুলোর মাথায় চিন্তার আকাশ ভেঙে পড়েছে। ভাবছেন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে যদি রেশন বন্ধ হয়ে যায়, যদি গ্রাম থেকে চলে যেতে বলে তাহলে কি করবেন তারা। অজানা আশঙ্কায় রয়েছেন সকলে।
পুরুলিয়ার বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে লাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের লাগদা গ্রাম। সেই গ্রামের আদি বাসিন্দা মুক্তি গায়েন ও তাঁর স্ত্রী পদ্মা গায়েন। কয়েক পুরুষের বসবাস এই গ্রামে। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে বিসিসিএল এ চাকরি করতেন। প্রায় ৪০ বছর চাকরি করার পর অবসর নিয়ে ফিরে আসেন লাগদা গ্রামে। ২০১২সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। বলরামপুর বিধানসভার ৪৫ নম্বর বুথের ভোটার তারা। এসআইআর শুরু হতেই এমুনারেশন ফর্ম ফিলাপ করে জমাও দেন। নোটিশ দেওয়া হয় বৃদ্ধ দম্পতিকে। গত মাসের ২৯ তারিখ তারা বিডিও অফিসে তাদের স্বপক্ষে যাবতীয় কাগজপত্র জমাও দেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা বের হতেই দেখা যায় তালিকায় তাদের নাম রয়েছে ১৬৬ ও ১৮৬ নম্বরে। নাম থাকলেও ওপরে লেখা ডিলিট। কেন ডিলিট সেটাই তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। তাহলে কি জীবিত থেকেও তারা মৃত? দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। মুক্তি গায়েন এবং তাঁর স্ত্রী পদ্মা গায়েনের বক্তব্য ২০১২ সাল থেকে তারা এই গ্রামে ভোট দিয়ে আসছেন। কয়েক পুরুষের বসবাস এই লাগদা গ্রামে। হিয়ারিং এ ডাকার পর প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র তাঁরা জমা দিয়েছিলেন। তাহলে কেন তালিকায় তাদের নামের পাশে ডিলিট বলে লেখা আছে।
পাশাপাশি এই গ্রামের নিমাই মাঝির পরিবার। তার ছেলে মেয়ের সংখ্যা ১০ জন। বলরামপুর বিধানসভার ৪৯ নম্বর বুথের ভোটার তারা। দীর্ঘদিন ধরেই ভোট দিয়ে আসছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসআইআরের নোটিশ পায় নিমাই মাঝির ছেলে ও মেয়েরা। হিয়ারিং এর নোটিশ পেয়ে ৯ জন ছেলে ও মেয়েরা উপস্থিত হয়ে তাদের স্বপক্ষে কাগজপত্র জমাও করে আসেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ তালিকায় দেখা যাচ্ছে তাদের নামের পাশে বিচারাধীন বলে উল্লেখ করা আছে।
গরিব দুঃস্থ পরিবার এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা আগামীদিনে যাবতীয় সরকারি সুযোগ সুবিধা হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আদিবাসী পরিবারের জমির রেকর্ড তাদেরই নামেই রয়েছে। বেশ কয়েকবার ব্লকে গিয়ে তারা কাগজপত্র জমাও দিয়ে এসেছেন। নিমাই মাঝির ছেলে বিপদতারণ মাঝির বক্তব্য কেন তাদের ভাইবোনেদের সকলের নাম বাদ গেল সেটাই তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। এখন তাদের করনীয় কি সেটাও জানেন না। চাপা আশঙ্কায় আর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন গোটা পরিবারের সদস্যরা।
SIR
‘ডিলিট, বিচারাধীন’, অজানা আশঙ্কায় পুরুলিয়ার লাগদা গ্রামের একাধিক ভোটার
×
Comments :0