Ram Mandir Theft

রাম মন্দিরের চুরি করা টাকা রাখা হতো শৌচাগারে, উঠে এলো তদন্তে

জাতীয়

অযোধ্যার রামমন্দিরে কোটি টাকার অনুদান তছরুপের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের জেরায় ধৃত অভিযুক্তদের অন্যতম অবিনাশ শুক্লা স্বীকার করেছে, মন্দিরের অনুদান গণনা কেন্দ্র থেকে সরানো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রথমে চত্বরের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত। পরে সুযোগ বুঝে সেই টাকা বাইরে পাচার করা হত।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে অবিনাশ শুক্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জেরাতেই সে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে এবং গোটা চক্র কীভাবে কাজ করত, তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবিনাশ জানিয়েছে এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। মন্দিরের অনুদান গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারির একাধিক ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়েই এই তছরুপ চালানো হতো।
জেরায় অবিনাশ মন্দির ট্রাস্টের ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের নামও উল্লেখ করেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের জানা গিয়েছে। তার অভিযোগ, অনুদান গোনার পুরো প্রক্রিয়ায় অনিল মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। উল্লেখ্য, অনুদান সংগ্রহ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত সপ্তাহেই ট্রাস্টি অনিল মিশ্র এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় পদত্যাগ করেন।
এই মামলায় অবিনাশ শুক্লা ছাড়াও আরও সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রামাশঙ্কর ওরফে টিন্নু যাদব, অনুদান গণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং গণনাকর্মী অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, রাম শঙ্কর মিশ্র ও করুণেশ পাণ্ডে।
তদন্তকারীদের দাবি, অবিনাশ জানিয়েছে অনুদান গোনা ঘরের দুটি চাবির একটি থাকত টিন্নু যাদবের কাছে এবং অন্যটি ব্যাংকের কর্মীদের হেফাজতে। এই চুরি কোনও একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব ছিল না, বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত কাজ। একজন টাকা সরানোর সময় অন্যরা তাকে চারদিক থেকে আড়াল করে 'হিউম্যান শিল্ড' তৈরি করত।
অভিযুক্তরা মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির অবস্থান এবং ক্যামেরার নজরের সীমা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের। সেই কারণে ক্যামেরার 'ব্লাইন্ড স্পট' ব্যবহার করে প্রথমে নগদ অর্থ শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে তা বাইরে বের করে আনা হতো। ট্রাস্টের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাদের উপর বিশেষ সন্দেহও করা হয়নি এবং কঠোর নজরদারির মুখেও পড়তে হয়নি।
পুলিশের দাবি, মন্দির চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি এবং কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্তদের গতিবিধির উপর সক্রিয় নজর রাখতেন না। সেই সুযোগেই কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাৎ করা হয়েছে। অবিনাশ আরও জানিয়েছে, তছরুপের অর্থ দিয়ে পরে জমি ও বাড়িও কেনা হয়েছিল।
বর্তমানে অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব এবং তাদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এতদিন ধরে কীভাবে এই বিপুল তছরুপ ধরা পড়েনি এবং এর নেপথ্যে আরও কোনও বড় চক্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না।
এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেন।
এদিকে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার এফআইআর দায়েরের আগেই, অর্থাৎ ৫ জুন, অবিনাশ শুক্লার বাড়ি থেকে ট্রাস্টের তরফে ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ৫ থেকে ৮ জুনের মধ্যে বাকি অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয় বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত মিলছে যে, বিষয়টি আদালতে যাওয়ার আগেই অর্থ উদ্ধারের এবং ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় ট্রাস্টের ভূমিকা কী ছিল, তাও এখন তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Comments :0

Login to leave a comment