উত্তরপ্রদেশের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের পর বিয়ে করতে অসম্মত হওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা নেওয়ার দাবিতে বিজনোর থানার মধ্যে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছ। মঙ্গলবার পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ওই তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থাতেই মারা গিয়েছেন।
২১ জুন রাত ১১ টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে, বিজনোর কোতোয়ালির মধ্যে ওই তরুণী গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন।
স্থানীয় পুলিশ জানাচ্ছে, পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও পরে তাকে নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ওই তরুণী ২০২৪ সালে সোয়াহেরি গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ সিং নাম এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেইসঙ্গে, অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগ অনুযায়ী তদন্তের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ওই তরুণী আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি বলেন যে, সৌরভ সিং তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেছেন। পুলিশের তরফে এই কেসের চার্জশীট পেশ করার আগেই, অভিযুক্ত হাইকোর্টে থেকে গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেয়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা হচ্ছে, ঘটনার দিন ওই তরুণী কোতোয়ালি থানায় যান এবং অভিযুক্তকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য জোর করতে থাকেন। পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা পরদিন অভিযুক্তকে তলব করা হবে।
ওই সময়েই, তাঁর সৎ বাবা দাহ্য পদার্থভর্তি একটি বোতল নিয়ে আসেন, যা ব্যবহার করে ওই তরুণী থানা চত্বরের ভেতরেই নিজের গায়ে আগুন দিয়ে দেন। পুলিশের কাছে করা এক অভিযোগে ওই তরুণীরর মা দাবি করেছেন যে, মামলা দায়ের করার পর থেকে ওই ব্যক্তির পরিবার তাঁর মেয়েকে মানসিকভাবে হয়রানি করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানিয়েছেন যে, সৌরভ ও তাঁর ভাই গৌরব বর্তমানে কাশ্মীরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এই মামলার সূত্র ধরে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দলকে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমর সিং রাঠোরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
Uttar Pradesh young woman death
যৌন নির্যাতন, বিয়েতে অসম্মতি, থানার মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করা উত্তরপ্রদেশের তরুণীর মৃত্যু
×
Comments :0