Post Editorial

জ্বলছে আজ‌ও— বিকল্প নেই!

সম্পাদকীয় বিভাগ

শিবানন্দ পাল

পরাধীন ভারতে ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভগনাডিহির প্রান্তরে সাঁওতালদের সমাবেশে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন সিধু-কানু। অ-আদিবাসী দলিত প্রান্তিক কৃষক ও কারিগর সমাজের মানুষ তাঁদের পাশে ছিলেন। জল-জঙ্গল-ভূমি ছিল আদি-অস্ট্রেলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত অস্ট্রো-এশীয় ভাষাভাষী সাঁওতালদের জন্মগত অধিকার। ছোটোনাগপুর মালভূমির দামোদর উপত্যকা জুড়ে সুবর্ণরেখার ভূখণ্ডে বিস্তীর্ণ অরণ্যাঞ্চলে নানা উপজাতীয়দের সাথে তাঁরা বাস করতেন। অরণ্যচারী জীবন থেকে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছিল তাঁদের জীবন। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর শিক্ষা দেয় অন্যত্র সরে যেতে হবে। কিন্তু যাবেন কোথায়? চাষযোগ্য ভূমি চাই, সেচের জল চাই! তাঁদের ডেকে নিয়ে আসা হয়।
অজয়, ময়ূরাক্ষীর পাড় ঘেঁষে গঙ্গা উপত্যকার রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তদেশ ভাগলপুর পর্যন্ত পাহাড়-পর্বত-জঙ্গল বেষ্টিত ভূখণ্ড ছিল বাঘ, হাতিদের স্বাধীন বিচরণক্ষেত্র। মোগলদের কাছে ছিল দূর্ভেদ্য, তাঁরা এড়িয়ে চলতেন। ইউরোপীয়দের কাছে অনাবিষ্কৃত দেশ। জমিদারদের সৌজন্যে তাঁরা হাতি, বাঘ, ভাল্লুক ইত্যাদি শিকার করতে আসতেন। ১৭৭৬ সালে জেমস রেনেলকে দিয়ে ম্যাপ তৈরি করায়। ১৮২৪ সালে জন পেটি ওয়ার্ডকে নির্দেশ দেয় সীমানা নির্ধারণের। সাহায্য করেন সার্ভে অফিসার ক্যাপ্টেন ট্যানার। ১৮৩২ সালে জরিপের কাজ সমাপ্ত হয়। ভূখণ্ডের নাম দেওয়া হয় ‘‘দামিন-ই-কোহ’’। ফার্সি ভাষায় 'পাহাড়ের ওড়না'। লক্ষ্য এই ভূখণ্ডকে শোষণের জাঁতাকলে পিষবেন। 
আদি বাসিন্দারা ছিলেন পাহাড়িয়া। তাঁদের টোপ দেওয়া হয় পাহাড় জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিকাজ করার। বিনা পয়সায় জমি পাবে! পাহাড়ের মাথায় বাস করলেও পাহাড়িয়াদের সংস্কৃতিতে কৃষিকাজ নেই। বনজঙ্গল পাহাড় ভালোবাসে। অগত্যা ডাক পড়ল সাঁওতালদের। বলা হলো, শুধু জমি নয়, টাকা-পয়সাও পাবে। প্রতিশ্রুতির বন্যায় পবিত্র নদী দামোদর ছেড়ে সাঁওতালরা ছুটে এলেন গঙ্গাতীরে। পাথর ফাটিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে যে যতটা জমি তৈরি করতে পারবে, ততটাই হবে নিজের। 
১৮৫০ সালে পাহাড় জঙ্গল বাদে ২৫৪ বর্গমাইল এলাকায় চাষ শুরু হয়। সাঁওতালদের সমৃদ্ধিতে নতুন বাজার তৈরি হয় বারহেট। আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী, মহাজনের দল জড়ো হতে শুরু করে। দামিন-ই-কোহ'র ১৮৩৮ সালের ৩,০০০ জনসংখ্যা, ১৮৫১ সালে বেড়ে হয় ৮২,৭৯০। কৃষির উৎপাদন কোম্পানির রাজস্ব বাড়িয়ে দেয়। ১৮৩৭-৩৮ রাজস্ব ছিল ৬৬৮২ টাকা। ১৮৫৪-৫৫ বেড়ে হয় ৫৮,০৩৩ টাকা। ১৮৫৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি "দ্য ইলাস্ট্রেটেড লন্ডন নিউজ" বলে প্রায় ১২০,০০০ সাঁওতাল বাস করছে। 
ঘুষখোর আমলা, পরশ্রীকাতর মহাজন, জমিদার, খাজনা আদায়কারীদের চোখ টাটিয়ে গেল, সাঁওতালরা জমিদার হবে? দুর্নীতিগ্রস্ত ঋণের শিকার হলো সাঁওতালরা। ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া, ন‌ইলে বংশপরম্পরায় বেগাড় দাও, মহিলাদের‌ও রেহাই নেই। আবেদন নিবেদনে প্রশাসন নড়ে না। ১৮৩৭ থেকে প্রশাসন চালাতেন একজন মাত্র সিভিল সার্ভেন্ট মিঃ পনটেন্ট।‌ সাঁওতালরা বলতেন পাল্টিন সাহেব। পাল্টি খেতে ওস্তাদ। সাঁওতালদের সামনে অতিবিনয়ী, আর সাঁওতালরা বিচার চাইতে গেলেই- মুহুরী, পেশকার, বরকন্দাজ, চাপরাশিদের কথা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। 
সিভিল সার্ভেন্ট চার্লস এডওয়ার্ড বাকল্যান্ড 'বেঙ্গল আন্ডার দি লেফটেন্যান্ট গভর্নরস রিপোর্টে' লিখেছেন "সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দামিন-ই-কোহ'তে আসা ঝাঁকে ঝাঁকে বাঙালি ও বহিরাগত ব্যবসায়ী মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ সীমা ছাড়িয়ে ছিল। এই ব্যবসায়ীরা সেখানে তাদের ব্যবসার অনুকূল সুযোগ-সুবিধার আকর্ষণে জড়ো হয়েছিল।"
ইতিহাসবিদ কালিকিংকর দত্ত লিখেছেন, "নতুন বসতি স্থাপনকারীরা অবিশ্বাস্যভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে সাঁওতালদের ভাগ্যবিধাতা রূপে আত্মপ্রকাশ করে। কিছু টাকা, কিছু চাল বা অন্যান্য জিনিসপত্র ধার দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ধূর্ত এবং জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সালিশিতে নাজেহাল করে। উপায়ান্তর না দেখে সাঁওতালরা তাদের উর্বর জমি, গবাদি পশু বা ফসল মহাজনদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়। জমি হারিয়ে সাঁওতাল নিজেদের এলাকায় মহাজনদের জমিতেই দিনমজুর বা আজীবন বন্ডেড লেবারে পরিণত হয়।"
কয়েকজন জমিদার, মহাজনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। বীর সিং মাঝি ধরা পড়ে। পাকুড়রাজের দেওয়ান তাঁকে প্রকাশ্যে জুতো পেটা করেন। কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা রেকর্ড করে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার, চালান করে কোম্পানির দারোগা বসে থাকেন। শোষণ চলে অবিরাম। সংঘর্ষ-রক্তপাতের ঘটনায় বিচারের জন্য নাছোড় সাঁওতালদের ছুটতে হয় জঙ্গিপুর কিংবা ভাগলপুরে। আদালত, পেশকার, মুহুরীর ভিড়ে বিচার মেলে না। 
শাল গাছের 'গিরা' পাঠিয়ে ডাক দেওয়া হয় মানুষকে। সাঁওতাল সমাজের রীতি অনুযায়ী মাঝি, পরগনাইতদের নিয়ে তৈরি হয় মহাজোট। গ্রামে গ্রামে পুতুল নাচ দেখায়, বহুরূপী সেজে নিজেদের অন্নসংস্থান করে; বিদ্রোহীদের হয়ে বীর গাথা রচনা করে প্রচার শুরু করে। গোয়ালারা গুপ্তচরবৃত্তি, বিড়ি, খৈনি বিক্রেতারা দারোগা পুলিশ, সেনাবাহিনীর খবর দেয়। কামার, কুমোর, বাউরি, জোলারা হাটের দিন বিদ্রোহীদের উপকরণ জোগায়। হঠাৎ করে ধূমায়িত নয়— দীর্ঘদিন ধরে তিলতিল করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক। 
বড়লাটকে জানাতে হবে মনের কথা! যিনি হলেন ঈশ্বর, থাকেন অনেক দূরে। বহু দূরের পথ, সময় লাগবে। ভালো ফসল হয়েছিল সেবার। চাল-চিঁড়ে বেঁধে, দারাপুত্র সাথে— পথে নেমেছিল সকলে। সেটাই ছিল কলকাতা অভিমুখে প্রথম গণপদযাত্রা। পথে ক্ষুধার্ত মানুষগুলো খিদের জ্বালায় লুটপাট করতে বাধ্য হয়। ব্যারাকপুর থেকে‌ রানিগঞ্জ রেলগাড়িতে সেনা নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে মার্চ করে নিয়ে যাওয়া হয় সিউড়ি। জঙ্গিপুর, মুঙ্গের থেকে আসে রাজা মহারাজাদের হাতি-ঘোড়া। বাংলার জমিদাররা দিয়েছিলেন গোরুর গাড়ি, দিনমজুর আর রসদ। নির্মমভাবে হত্যা। হান্টার সাহেবের কাছে মেজর জারভিস স্বীকার করেছেন, "আমরা যা করেছি তা যুদ্ধ নয়, গণহত্যা"!
কত জনকে মারা হয়েছিল, কেউ লিখে রাখেনি। রেকর্ড নেই। আজ সেই শহীদদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাই ‘হুল দিবস’ নামে।
খ্রিস্টধর্মের জারক রসে সাঁওতালদের মন ভোলানোর চেষ্টা করা হয়। ‘সমাচার সুধাবর্ষণ’ পত্রিকায় বশংবদ লেখকদের দিয়ে নিয়মিত প্রকাশ করা হয় নিবন্ধ। ১৮৫৫ সালের ১৩ আগস্ট প্রকাশ করা হয় সাঁওতালদের উদ্দেশ্যে মহান যিশুর কবিতা। অধ্যুষিত এলাকায় শুধু মিশনারিদের প্রবেশানুমতি। ভয়ে হোক, ভক্তিতে হোক, খ্রিস্টধর্মে আশ্রয় নিয়েছিলেন আদিবাসীরা। এখন নতুন ইস্যু তোলা হচ্ছে ধর্মান্তরিত আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার, আইনি সুরক্ষা কেড়ে নেওয়ার। ধর্মান্তরিত হলেও আদিবাসীরা নিজগোষ্ঠীর উৎসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জঙ্গলের পুরানো শাল গাছ ঘিরে তাঁদের আচার অনুষ্ঠান উৎসব। নির্বিচারে গাছ কেটে, খনিজসম্পদ আহরণ করে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয় না। কেউ বলছেন তাঁরা হিন্দু, কেউ বলছেন রামের সন্তান— ‘বনবাসী’। আদিবাসীদের পরিচয়, বিশ্বাসের ওপর আধিপত্যবাদের ছায়া নামানো হচ্ছে। অথচ চেষ্টা হলেও সিধু মিশনারিদের বশ্যতা স্বীকার করেননি, ব্রিটিশ শাসনের হাতিয়ার মনে করেছিলেন। 
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিটার বি. অ্যান্ডারসেন গবেষণায় দেখিয়েছেন অ-সাঁওতালদের দিকু হিসাবে ঘোষণা এবং হত্যা করার জন্য সাঁওতালদের ক্ষেপিয়ে তুলতে নানারকম গুজব‌ ছড়ানো হয়েছিল। কারোর বাছুর মারা গেলে, গর্ভবতী মহিলার গর্ভপাত ঘটলে, দুর্গতি নেমে আসছে প্রচার করে সূক্ষ্মভাবে ভয়ের আবহ তৈরি করা হয়। বাঙালিরা দিকু, দিকু দেখলেই হত্যা করো— উদ্দেশ্য আন্দোলন থেকে বাঙালিদের বিচ্ছিন্ন করা, অপরিচিত কোনও ব্যক্তি যাতে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিদ্রোহ পরবর্তী সময়ে কার্মাটারে সাঁওতালদের কাছেই ছিলেন একটানা ১৮ বছর! সাঁওতালদের সংস্কৃতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। সাঁওতালদের জীবন, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতনে সাঁওতালদের তিনি একাত্ম করে নিয়েছিলেন। ওঁদের প্রতি ব্রিটিশ শাসনের অবিচার সম্পর্কে যথেষ্ট ইতিবাচক লেখা প্রকাশ করেছেন। সেসব অনেক পরের ঘটনা। কিন্তু মহান দার্শনিক কার্ল মার্কস ১৮৫৭-১৮৫৮ সময়ে তাঁর "নোটস অন ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি" বইয়ের খসড়া লিখেছিলেন। সাঁওতাল বিদ্রোহকে সেখানে ভারতে সংগঠিত প্রথম 'গণবিপ্লব' বলে উল্লেখ করেছিলেন, "1855-56, out break of the Santals, a half savage tribe of the Rajmahal Hills in Bengal. Put down, after seven months guerilla warfare, in February, 1856."

সাঁওতাল বিদ্রোহের সমস্ত কালপঞ্জী লিখেছেন বাঙালি ‘দিকু’রাই। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ অখ্যাত কবি লোকনাথ দত্তর। ১৯২৪ সালে তাঁর ‘বনবীর গাথা’ প্রকাশিত হয়। প্রথম ইতিহাস ‘হিস্ট্রি অব দি সাস্থাল হুল’, রচনাকার পাকুড় কোর্টের প্রথম আইনজীবী দিগম্বর চক্রবর্তী। বিদ্রোহের সময় ছ’বছরের শিশু ছিলেন। শুনেছিলেন প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা। ঐতিহাসিক না হলেও ‘হুল’ শব্দের অর্থ, শব্দের মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার তিনিই শিখিয়েছেন আমাদের। বাংলা সাহিত্যে ‘হুল’ এসেছে কমিউনিস্ট নেতা পাঁচুগোপাল ভাদুড়ীর লেখায়। এছাড়া সাঁওতাল বিদ্রোহের দলিল দস্তাবেজ সংগ্রহ করে প্রথম প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক কালীকিংকর দত্ত। তিনি ছিলেন পাকুড় রাজ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পুত্র। তারপর লিখেছেন অনেকেই।
‘হুল’ ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বর্ণপরিচয়- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত- আগ্রাসী ভূমি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত কৃষকদের প্রতিবাদ। দু’-একজন ছাড়া দেশের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশে দাঁড়াবার সাহস ছিল না তৎকালীন শিক্ষিত বাঙালির। ডাকাতির ঘটনা হিসাবে সেই পর্যায় ঘৃণিত হয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষক গ্রামসি শিখিয়েছেন, নিম্নবর্গের শ্রেণিচেতনার পরিবর্তনের গতিপথ অনুধাবনের জন্য তাঁদের জীবনযাত্রা, ভাবাদর্শ ও আচার আচরণকে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। দেখিয়েছেন, গতানুগতিক বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম কাজ— রাষ্ট্রের ক্ষমতা-প্রয়োগকে জনসমর্থন জোগানো এবং তাদের কাজকে ন্যায্যতা দেওয়া। আজকের মতো উনিশ শতকের শিক্ষিত বাঙালি সমাজের চিন্তনজগত সেই ভূমিকাই পালন করেছিল। 
সাঁওতাল বিদ্রোহীদের বীরভূমে বেঁধে রাখার উদ্দেশ্য ছিল বেনিয়া প্রশাসকদের। প্রয়োজন ছিল অসংখ্য রেল মজুর। তিনপাহাড় থেকে রাজমহল রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছিল। প্রতিদিন নগদ পয়সায় কাজ করানো হয়েছে। মেয়ে-মরদ কুলির অভাব হয়নি, রেলপথের কাজ‌ও বন্ধ হয়নি। গ্রাম থেকে উৎখাত হয়ে কৃষিজীবী মানুষ মজুরে পরিণত হয়েছিল। কাজ করে দু’মুঠো ভাত খেতে চেয়েছিল তাঁরা। ঠিকাদার, বেনিয়া আর প্রশাসন লাভ করেছে। ভোগ করেছে, জমি পেয়েছে, রেললাইনের কাজ‌ও শেষ হয়েছে। আর ইজ্জত, ভূমি হারিয়ে সাঁওতালরা পেয়েছে ‘সাঁওতাল পরগনা’ নামে সীমায়িত একটি কাগুজে ভূখণ্ড। বিদ্রোহের ইতিহাস গুলিয়ে দিতে সেই অস্তিত্ব বিলীন করেছে স্বাধীন দেশ।  
দেশ এখন স্বাধীন, প্রায় আট দশক অতিক্রম করে সাড়ম্বরে আমরা ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ পালন করছি। কিন্তু শোষণ বঞ্চনার অবসান হয়নি। ‘দিকু’ বিভাজন রেখা বিস্তৃত হয়েছে সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে। ফেল কড়ি মাখো তেল নীতিতে- মহাজন দুর্বৃত্তদের ভেক বদল ঘটেছে, তারা এখন কর্পোরেট। তাদের দখলে জল-জঙ্গল-জমি। নদী-পাহাড় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিভেদ সৃষ্টিতে শোষক সফল। স্বাধীনোত্তর ভারতের পরিকাঠামো শোষকের আঁতুড়ঘর, বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। শোষক কেবলই পোশাক পালটাবার সুযোগ নেয়। সিধু-কানুদের স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। ঈশ্বর থাকেন অনেক দূরে, তাঁর কাছে পৌঁছানো যায় না। ভগনাডিহিতে ‘হুল’ যে স্ফুলিঙ্গের বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছিল, জ্বলছে আজ‌ও- বিকল্প নেই!

Comments :0

Login to leave a comment