Amdanga cpim

গরিব মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, আমডাঙায় নেতৃবৃন্দ

জেলা

ছবি: সৌদীপ দাস।

বিশ্বজিৎ রায় 


গরিব মানুষের জীবন জীবিকার ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। এর বিরুদ্ধে সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে সামিল হতে হবে। একথা বলেন সিপিআই(এম) উওর চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাস। আমডাঙা এরিয়া কমিটি ও আমডাঙা দক্ষিণ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে আমডাঙা বিডিও অফিসের সামনে সভা ও ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) নেতা সাহারাব মন্ডল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আহমেদ খান, স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা মহঃ ফারুখ। ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া বৈধ ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে, কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে, স্মার্ট মিটার বাতিল করতে হবে সহ মোট এগারো দফা দাবিতে এই সভা ও ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এক প্রতিনিধিদল সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের নিকট ডেপুটেশন দেন।
 সভায় পলাশ দাস বলেন, "তৃণমূলকে বিদায় দিয়েছে এই রাজ্যের মানুষ। মানুষ অনেক আশা ভরসা নিয়ে ভোট দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলেছিলাম তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। আরএসএস'র মুখ হচ্ছে বিজেপি। আর মুখোশ ছিল তৃণমূল। এই দুই দলের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তৃণমূল চুরি দুর্নীতি কাটমানি তোলাবাজি করেছে। পনেরো বছর ধরে লুট চলেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোট লুট করেছে। একশো দিনের কাজের ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। আবাস যোজনায় গরিব মানুষ ঘর পায়নি। তৃণমূলের নেতাদের টাকা দিয়ে ঘর নিতে হয়েছে। মানুষ তৃণমূলকে বিদায় দেওয়ার জন্য উদগ্ৰীব হয়েছিল। কিন্তু যে সরকার এসেছে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গরিব মানুষের রুটি রুজির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে। বেপরোয়াভাবে হকার উচ্ছেদ করছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন হকার মারা গেছে। রবিবার সকালে রানিং ট্রেনের এক হকার আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছে। এই ডবল ইঞ্জিন সরকার মানুষের উন্নয়ন করতে পারে না। এরা গরিব শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। এর বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।" 


 সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরুপ ঘোষ বলেন, "তৃণমূল এই রাজ্যে চুরি, দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। একটা ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল এই রাজ্যের মানুষ। এই চোরেদের দলটাকে মানুষ বিদায় দিয়েছে। যে দল ক্ষমতায় এসেছে এরাও একটা ভয়াবহ বিপজ্জনক শক্তি। এরা ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। বিভাজনের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই এরা সরকার পরিচালনা করতে চাইছে। এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার দুইমাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যেই গরিব মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নিতে চাইছে। হকার উচ্ছেদের নামে গরিব মানুষের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ভয়াবহ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।"
 সিপিআই(এম) উওর চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ খান বলেন, "গরিব মানুষের রুটি রুজির লড়াইয়ে লাল ঝান্ডা লড়াই আন্দোলন করছে। রাস্তার লড়াই থেকে আইনী লড়াই সব জায়গায় লালা ঝান্ডা লড়ছে। তৃণমূল ও বিজেপি মানুষের লড়াই আন্দোলনে থাকে না। এখন নতুন সরকার এসেই গরিব মানুষের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।"

 

Comments :0

Login to leave a comment