UCC Bengal Women Organisations

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি: একাধিক প্রশ্ন রেখে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি মহিলা নেতৃবৃন্দের

রাজ্য

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে কি চালু পারিবারিক বিধিগুলিকে আইন বহির্ভূত বলে গণ্য করা হবে? পারিবারিক সম্পত্তি ও বিবাহোত্তর সম্পত্তিতে সমান অধিকার, সম্প্রদায় নির্বিশেষে, মেয়েরা কি পাবে? সমস্ত সম্প্রদায়ের পারিবারিক সম্পত্তিকে কি সম্পত্তি করের আওতায় আনা হবে? সকল সম্প্রদায়কে কি দত্তক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হবে?
রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু সম্পর্কে এমন একাধিক প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিল পাঁচ মহিলা সংগঠন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমাদের সংবিধানে বিভিন্ন সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত পারিবারিক আইনের ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভিন্নতা থাকলেই তাতে অসাম্য থাকবে বা অভিন্ন পারিবারিক আইন কার্যকরী হলেই তার মধ্যে সব অসাম্যের অবসান ঘটবে, এমন আমরা মনে করি না।’’ 
সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সভাপতি জাহানারা খান, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা, 
পশ্চিমবঙ্গ মহিলা সমিতির পক্ষে সভানেত্রী ভ্রান্তি অধিকারী, সাধারণ সম্পাদিকা পারমিতা দাশগুপ্ত, সারা ভারত অগ্রগামী মহিলা সমিতির পক্ষে রাজ্য সভানেত্রী নূরনেহার খাতুন, সাধারণ সম্পাদিকা ডলি রায়, নিখিলবঙ্গ মহিলা সংঘের পক্ষে সম্পাদিকা সর্বানী ভট্টাচার্য, সভানেত্রী ছায়া রায়, সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতির পক্ষে রাজ্য সভানেত্রী চৈতালি সেন, রাজ্য সম্পাদক ইন্দ্রাণী দত্ত চিঠিতে সই করেছেন।
গত সোমবার, বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, মুখ্যমন্ত্রী অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের ঘোষণাও করেন তিনি।  
পাঁচ মহিলা সংগঠনের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত পরিকল্পনা সমস্ত নাগরিককে জানাতে হবে। প্রস্তাবিত কমিটি যেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেয়। 
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘নারী অধিকার রক্ষার জন্য এমন বেশ কিছু আইন ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে যা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিবাহ আইন (১৯৫৪), পণপ্রথা নিবারক আইন (১৯৬১) বা পারিবারিক হিংসা নিবারক আইন (২০০৫)। এগুলি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ছাড়াই চালু হয়েছে এবং কালক্রমে নানা আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে অবশ্য পালনীয় বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাহলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন না করেও নারী অধিকার রক্ষায় যা করা যেতে পারত, তা সরকার করছেন না কেন?’’
পাঁচ মহিলা সংগঠনের প্রশ্ন তুলেছে এই আইনের কার্যকারিতা নিয়েও। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও আসামে এই তিনটি রাজ্যে বিজেপি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তন করেছে। আমরা জানতে চাই তার ফলে এই রাজ্যগুলিতে সম্প্রদায়নির্বিশেষে মেয়েদের সামাজিক সমতা কতটা বেড়েছে? পরিবারের মধ্যে নারীর সুরক্ষার কতটা উন্নতি হয়েছে? অল্প বয়সে বিবাহ কতটা ঠেকানো গেছে? এক স্ত্রী বর্তমানে তাকে ত্যাগ করে দ্বিতীয়বার বিবাহের প্রবণতা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কতটা কমানো গেছে?’’

Comments :0

Login to leave a comment