SIR

এসআইআর: ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা থেকেও আসছেন বিচারপতিরা

রাজ্য

এসআইআর নিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ পর্যালোচনা করা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে এসআইআরের কাজের জন্য বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ এবং প্রাক্তন বিচারকদের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সংশোধন কাজের জন্য পর্যাপ্ত আধিকারিক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তীতে আদালত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই কাজে সহায়তা করার জন্য বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের এবং প্রাক্তন বিচারকদের নিয়োগ করার নির্দেশ দেয়।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, সিইও মনোজ আগরওয়াল, ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ অফিসাররা। এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে এটি ছিল তৃতীয় বৈঠক। 
সূত্রে মতে জানা গেছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা তাদের দাবি এবং আপত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যাদের নামের মধ্যে "যৌক্তিক অসঙ্গতি" রয়েছে। অর্থাৎ যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে এই ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ‘‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’’ বলতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া অসঙ্গতিগুলিকে বোঝায়, যেমন একজন ভোটারের বাবা-মায়ের নামের অসঙ্গতি। 
দেশজুড়ে নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। তবে, লাক্ষাদ্বীপ এবং পুদুচেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি শনিবার তাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, নির্ধারিত সময়সূচীর মধ্যে কিছু রাজ্যে কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয়নি। রাজস্থানেরও শনিবার তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রকাশের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে, পশ্চিমবঙ্গের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং উত্তরপ্রদেশের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন প্রশ্ন আগামী শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা কী ফরম্যাটে প্রকাশিত হবে। কমিশন সূত্রে খবর, যেগুলি নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই আপাতত ভোটার তালিকায় সেই সব নামই চূড়ান্ত হিসেবে থাকছে। তবে বাকি প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখন জুডিশিয়াল অফিসারদের বিবেচনাধীন সেগুলিও তালিকার বাইরে যাচ্ছে না। ওই নামগুলির পাশে পেন্ডিং মেনশন থাকবে। এই ৬০ লক্ষ নথি জুডিশিয়াল অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন তাদের নামের পাশে পেন্ডিং লেখা থাকবে। নতুন ভোটারদের একটা সেপারেট লিস্ট সাপ্লিমেন্টারি হিসাবে জুড়বে এই লিস্টের সঙ্গে। আদালতের নজরদারিতে থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের তথ্য আপাতত তালিকাভুক্তই থাকছে।
হাইকোর্টে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, বিচারপতিরা এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২৭০ জন কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বাকিদের লগইন আইডি তৈরি হচ্ছে। হাইকোর্টে বৈঠকের পর স্পেশাল রোল অবর্জাভার সুব্রত গুপ্ত বলেন ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারপতি আসছে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বৈঠকে। 

Comments :0

Login to leave a comment