বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলা ভেঙে পড়ে একটি নির্মিয়মান গোডাউন শেড। দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলেন। এখন পর্যন্ত ২১ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দুর্ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ ভারী লোহার বিম এবং ছাদের একটি অংশ ধসে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেক শ্রমিক পালাতে সক্ষম হলেও অন্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বিভাগ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং অন্যান্য দুর্যোগ ত্রাণ সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদল লোহার বিম কেটে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছোন।
এদিন সন্ধ্যায় পাওয়া খবরে জানা গেছে দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২১ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। যার মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যে মৃত বলে ঘোষণা করেছে চিকিৎসকরা। নিহদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছেন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এদিন বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনাস্থলে বিধায়ক রাকেশ সিং, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখার্জি, পৌর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘আপাতত ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে তিন জন মৃত। আহতদের চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখনও ১২-১৮ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভা চলছে তাই ক্ষতিপূরণ বা অনান্য বিষয়ে এখন কিছু জানাবো না। বৃহস্পতিবার সকালে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিবৃতি দিয়ে জানাবো।’’
এই ঘটনার পর থেকেই নবান্নে ৮৬৯৭৯৮১০৭০/ ০৩৩-২২১৪৩৫২৬। ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও পষ্ট নয়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্মাণকাজের সময় সুরক্ষাবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে।
Comments :0