অনিল কুন্ডু
নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আন্দোলনে অবিচল রয়েছে সিআইটিইউ। মৃত ২৭ জন শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা সরকারি আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পরিবার পিছু একজনের সরকারি চাকরি, অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হলো সিআইটিইউ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে মিছিল, থানায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দেওয়া হয়। লাগাতার আন্দোলন চালাবেন এদিন সেকথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন নেতৃবৃন্দ।
মহামায়াতলা থেকে মিছিল করে শ্রমজীবী মানুষেরা কামালগাজিতে থানার সামনে জমায়েতে বিক্ষোভ কর্মসুচিতে শামিল হয়। মিছিল শেষে থানার সামনে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন গণ আন্দোলনের নেতা সুজন চক্রবর্তী, সিআইটিইউ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক দেবাশিস দে, সিআইটিইউ নেতা গৌতম দত্ত। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপঙ্কর শীল। পূর্ব কলকাতার জলাভূমি ভরাটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও জলাভূমি ভরাট বন্ধ করতে পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ডিএনএ টেস্টের পর ১৬ জন শ্রমিকের দেহাংশ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখনো ১১ জন শ্রমিকের দেহাংশর ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সুজন চক্রবর্তী আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "এই ঘটনা আসলে মানুষকে খুন করা হয়েছে। শ্রমিকরা ভিতরে তাঁদেরকে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। মানুষ খুনের অপরাধে ওয়াও মোমো কোম্পানির মালিকদের জেলে থাকার কথা। অথচ তারা এখনো জেলের বাইরে। মুখ্যমন্ত্রী নাজিরাবাদে এখনও যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।"
পূর্ব কলকাতার জলাভূমি ভরাটের উল্লেখ করে তিনি বলেন, "১২ হাজার হেক্টর জলাজমি ধাপে ধাপে বুজিয়ে দিয়েছে। জলাভূমি রক্ষা না করে ধ্বংস করা হচ্ছে। কলকাতার ফুসফুস ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এস আই আর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটারের নাম কেটে দিচ্ছে। মানুষকে ভয় পাচ্ছে। নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। মানুষকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। যেমন আসামে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে লড়াই। মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াই। মানুষের জীবন জীবিকার লড়াই, বাঁচার লড়াই। বিজেপি, তৃণমূল একই মনোভাবে চলে। তার বিরুদ্ধে লড়াই। এ লড়াই চলবে।"
দেবাশিস দে অভিযোগ করে বলেন, "রামসার সাইটে নাজিরাবাদে জলাভূমি ভরাট, সেই জমিতে অবাধে প্রোমোটিং চক্র চলছে। কোম্পানিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। কতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, কতজন এখনও নিখোঁজ তার কোনও হিসেব নেই। শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডেকোরেটরের মালিক গ্রেপ্তার হয়েছে। ওয়াও মোমো'র ম্যানেজার গ্রেপ্তার হলেও মালিকদের কাউকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করেনি। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবির সঙ্গে মৃত শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পরিবার পিছু একজনের সরকারি চাকরির দাবি জানানো হয়েছে।"
এদিন সিআইটিইউ নেতা গৌতম দত্ত'র নেতৃত্বে ৫ জনের এক প্রতিনিধি দল নরেন্দ্রপুর থানায় দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন। ডেপুটেশন শেষে থানার সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন।
Comments :0