ম্যানহোল পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত ঠিকা শ্রমিকের পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ। ম্যানহোলে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া নামা বন্ধ করার দাবিতে শ্রীরামপুর পৌরসভার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী হল শনিবার। সিআইটিইউ'র অন্তর্গত হুগলী জেলা ঠিকা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সভা হয়।
এদিন বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ হুগলি জেলা সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায়, হুগলী জেলা ঠিকা শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক গুরুদাস ব্যানার্জী, শ্রমিকনেতা মিথুন চক্রবর্তী সহ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন যে একজন ঠিকা শ্রমিককে কেন প্রকৃত নিরাপত্তা গ্যাস মাস্ক ছাড়া ম্যানহোলে নামতে বাধ্য করা হল? ৩৪ বছরের যুবক তার পরিবারের একমাত্র আয় করতেন। ওই পরিবারের দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে বিক্ষোভ সভা থেকে।
তীর্থঙ্কর রায় বলেন, "শ্রমজীবী মানুষ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চায়। শ্রমিক ভালো থাকুক সব শ্রমিকরা যেমন চায়। শ্রমিকের মৃত্যুর দুঃখ সব শ্রমিকরা ভাগ করে নেয়। ভয়ঙ্কর একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা যাচ্ছে শুধু আর্থিক নয় জীবনের নিরাপত্তা নেই। এই ম্যানহোলের তলায় বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ছিলো। রিষড়ার কোনও এক কারখানা থেকে এই গ্যাস বেরোচ্ছে যার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে আমাদের অনুমান। পৌরসভা বলছে ঐ শ্রমিক শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাহলে শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পাঠানো হল কেন? কতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই জিনিস চলবে। যারা রাস্তা ঘাট পরিষ্কার রাখছে। যারা নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখছেন তাদের কথা ভাবছে না কেউ। আমরা চাই শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে। মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।''
সভা থেকে গুরুদাস ব্যানার্জী, প্রবীর ভট্টাচার্য, সুমঙ্গল সিং নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পৌরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। নেতৃবৃন্দকে পৌরসভা জানিয়েছে গাফিলতি ছিলো যিনি নিরাপত্তা সামগ্রির দায়িত্বে ছিলেন তিনি খেতে গিয়েছিলেন ততক্ষণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়াই শ্রমিকরা নেমে যান ম্যানহলে। ক্ষতিপূরনের দাবী মেনে নিয়েছে পৌরসভা।
Comments :0