MA BABY

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জনভিত্তি পুনরুদ্ধারে এগচ্ছে সিপিআই(এম): বেবি

জাতীয়

জনজীবনের দাবি নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিপিআই(এম)। ২৪ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে হবে সমাবেশ। তার আগে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ঝাড়খণ্ডে, উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, হবে ‘জন আক্রোশ যাত্রা’।
শুক্রবার দিল্লিতে পলিট ব্যুরো বৈঠকের পর এই কর্মসূচি জানিয়েছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তিনি জানান যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাডু, আসামের নির্বাচন সম্পর্কে হয় আলোচনা। পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই(এম) এবং বামপন্থীরা জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।    
বেবি বলেন, তিরুবনন্তপুরমে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সব অংশকে নিয়ে লড়াইয়ে নামা হবে। সেই অনুযায়ী হয়েছে সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘‘মনরেগা বাতিল করে ‘ভিবি জি রাম জি‘ চালু করা হলো। মনরেগায় দেশের যে কোনও প্রান্তে যে কেউ কাজের দাবিদার হতে পারতেন। সরকার কাজ দিতে বাধ্য থাকত। না হলে ভাতা দিতে হতো। নতুন আইনে কেন্দ্রের সরকারের এই দায়বদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি জারি করে যে যে এলাকার উল্লেখ করবে সেখানেই কাজ হবে। 
বেবি বলেন, ‘‘বিপদের তালিকায় রয়েছে বীজ বিল, বিদ্যুৎ বিল। রয়েছে শ্রম কোড, যার বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ঘটেছে।’’
বেবি বলেন, ‘‘এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য চুক্তি। ট্রাম্প যেভাবে শুল্ক চাপাচ্ছে তা ওদেরই সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন অন্য পথ নিয়েছে। কিন্তু আসল কথা হলো ভারতের মতো দেশ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, সে আত্মসমর্পণ করবে কেন।’’ 
তিনি জানান যে দেশজুড়ে আন্দোলন হবে। ২৪ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে হবে সমাবেশ। স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদ ভগৎ সিং-সুখদেব-রাজগুরুর ফাঁসির দিন ২৩ মার্চ সমাবেশ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য সমস্যার কারণে ‘দিল্লি চলো’ হবে ২৪ মার্চ। তার আগে জন আক্রোশ জাঠা হবে। নিপীড়িত অংশের কাছে চলবে প্রচার। পলিট ব্যুরো সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাজ্য কমিটি সদস্যরা জাঠায় অংশ নেবেন। 
বেবি বলেন, ‘‘রাজস্থানে পলিট ব্যুরো সদস্য ও সাংসদ অমরা রামের নেতৃত্বে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘জন আক্রোশ জাঠা‘। অন্যত্র ৮ মার্চের পর থেকে শুরু হবে জাঠা।


নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলন চলছে। সিপিআই(এম) বিভিন্ন অংশকে সংগঠিত করছে। দেশের বামপন্থী আন্দোলনের এই শক্তিশালী ঘাঁটিতে আমরা জনসমর্থন হ্রাস পেতে দেখেছি। এবারের নির্বাচনে জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। বস্তি, মহিলা, শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুররা সমবেত হচ্ছেন। ব্রিগেডে সমাবেশ আমরা দেখেছি। আশা করছি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটবে। ইতিবাচক সম্ভাবনা আলোচনা হয়েছে পলিট ব্যুরো বৈঠকে।’’
তিনি বলেন, ‘‘কেরালায় এলডিএফ সরকার। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়নি গত দশ বছরে। সামাজিক শান্তির পরিবেশ রয়েছে। পরিকল্পনা পর্ষদ রয়েছে, পরিকল্পনা করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি চালু রয়েছে। চরম দারিদ্রকে দূর করেছে। বিকল্প মডেল দেখিয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এলডিএফ ফের সরকার গড়বে।‘‘  তিনি বলেন, ‘‘তামিলনাডুতে ডিএমকে’র নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক বিন্যাস রয়েছে তাদের ভূমিকার কারণে বিজেপি জায়গা পায়নি এই রাজ্যে।’’ ‘‘আসামে বিজেপি সরকার গুরুতর মেরুকরণ ঘটাচ্ছে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে। এমনকি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর উসকানিমূলক বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি জোরালো প্রতিরোধ নির্বাচনে করতে পারবে বলে মনে করছে পলিট ব্যুরো।’’
বেবি বলেন, ‘‘আমেরিকা সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নগ্ন আত্মসমর্পণ। বাজেট অধিবেশনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। ৮ সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিরোধীদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে খর্ব করা হচ্ছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে বেবির মন্তব্য, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিমুভাল‘ হচ্ছে। এসআইআর’র নামে ভোটদাতাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সর্বত্র সতর্ক থাকছে সিপিআই(এম)। 
বেবি বলেন, ‘‘আমেরিকা যেভাবে কিউবার ওপর অবরোধ চাপিয়েছে তা-ও নিন্দার। এর আগে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সস্ত্রীক অপহরণ করা হয়েছে। এমন অবরোধ চললে কিউবার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। মার্কো রুবিও নিজে বলছেন তিনি কয়েকদিনের মধ্যে কিউবার রাষ্ট্রপতি হবেন। কঠিন অবস্থায় কিউবার মানুষ লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের সংহতি জানাতে হবে।‘‘ 
তিনি বলেন, ‘‘ইজরায়েলে প্রধানমন্ত্রীর সফর অত্যন্ত নিন্দাজনক। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে ভারত প্যালেস্তাইনের পাশে রয়েছে। নরসীমা রাওয়ের সরকারের সময় থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। আজকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ অপরাধে অভিযুক্ত। গণহত্যায় অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক আদালতে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে গিয়ে বলছেন দু‘দেশ একত্রে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়বে। ইজরায়েল নিজে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করে। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা নৃশংস আচরণ।‘‘ 
কেরালায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওপর আক্রমণ করেছে কংগ্রেসের সমর্থক ছাত্র সংগঠন। এই প্রসঙ্গে বেবি বলেন, কেরালার মহিলা স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুরুতর আহত। কেরালায় জনস্বাস্থ্য সব সূচকে দেশের মধ্যে সেরা। বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্র অখুশি। তাদের মুনাফার সমস্যা হচ্ছে। কেরালায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঘিরে এমন আক্রমণ তাদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য। 
সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নে বেবি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নবীন অংশ পুরোদমে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব নিচ্ছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে সামগ্রিক পর্যালোচনা করা যবে না।

Comments :0

Login to leave a comment