জানা অজানা
নতুনপাতা
নোবেলের দুঃখ
তপন কুমার বৈরাগ্য
২০২৬ এপ্রিল ১০, বর্ষ ৩
সুইডেন দেশটা পৃথিবীর মধ্যে এক সুন্দরতম দেশ।আজ নোবেল
পুরস্কারের সূত্র ধরে সুইডেন দেশটা সবার উপরে অবস্থান করছে।
এই দেশেই জন্ম নিয়েছিলেন আলফ্রেড বার্ণাড নোবেল।যার
নামে আজ পৃথিবীতে ৬টি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
এই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় পদার্থবিদ্যা,চিকিৎসা,রসায়ন, শান্তি,
সাহিত্য এবং সবশেষে যুক্ত হয় অর্থনীতি।স্যার আলফ্রেড বেনহার্ড
নোবেল ১৮৩৩খ্রিস্টাব্দের ২১শে অক্টোবর সুইডেনের রাজধানী
স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করেন।আমরা তাকে রসায়নবিদ হিসাবেই
জানি।কিন্তু জানি না তিনি ছিলেন একজন কবি,গীতিকার,সুরকার
এবং শিল্পী।ভারী সুন্দর ছিল তার গানের গলা।বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে
তিনিই গান লিখে সুর দিয়ে গাইতেন।তার গান শুনে
সকলে মুগ্ধ হয়ে যেতো। একটা কবিতার বই,বেশ কয়েকটা
নাটক,উপন্যাসএবং গল্প লিখেছিলেন।এই সব লেখনী সকলের
প্রশংসাও পেয়েছিল।১৮৬৭খ্রিস্টাব্দে আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট
আবিষ্কার করেছিলেন।তিনি এই ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন
মানুষের কল্যাণের জন্য।কিন্তু আলফ্রেড দেখলেন তার আবিষ্কৃত
ডিনামাইট মানুষ ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করছেন।মানুষ
হয়ে মানুষকে মারার জন্য ডিনামাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি চেয়েছিলেন মানুষকে সভ্যতার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দেবেন।
কিন্তু পরিণামে বিপরীত ফল ফলতে আরম্ভ করলো।মানুষ যেন
হিংস্র পশুর মতন হয়ে উঠছে।তিনি বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতায়
মানুষকে তার আবিষ্কৃত বস্তু শান্তির কাজে ব্যবহারের জন্য
আবেদন জানালেন।কিন্তু চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী।
মানুষ ধ্বংসাত্মক কাজেই ডিনামাইট ব্যবহার করতে লাগলেন।
তিনি মানুষের এই হিংস্র ভাব দেখে খুবই মর্মাহত হলেন।
তিনি একসময় ভেবেছিলেন এই আবিষ্কার না করলেই ভালো হতো।
কিন্তু তখন আর ফেরার কোনো পথ ছিলো না।তিনি
ডিনামাইট আবিষ্কার করে প্রচুর টাকার মালিক হয়েছিলেন।
এই টাকা তিনি মানবজাতির মঙ্গলের জন্য ব্যবহারের
সিদ্ধান্ত নিলেন।তিনি অনেক চিন্তা ভাবনা করে সৃজনমূলক
কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনি সচেষ্ট হলেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে ১৮৯৫খ্রিস্টাব্দের ২৭নভেম্বর এক স্মরণীয়
দিন।এইদিন তিনি ঐতিহাসিক ৯০লক্ষ ডলারের এক উইল তৈরি
করেন। বর্তমানে ১মার্কিণ ডলার ভারতীয় মুদ্রায় ৯১.৮১টাকা।
এই টাকা তিনি স্বদেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে জমা দেন।এই টাকার সুদ
নোবেল পুরস্কার হিসাবে প্রতিবছর যারা সৃজনমূলক কাজে
মানব কল্যাণে পৃথিবীতে বিশেষ সাক্ষর রাখেন তাদের দেওয়া হয়।
১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ই ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস
ত্যাগ করেন।তার মৃত্যুদিনে ১০ই ডিসেম্বর এই নোবেল পুরস্কার
দেওয়া হয়।দেশের সরকার প্রথম নোবেল পুরস্কার চালু করেন
১৯০১ খ্রিস্টাব্দে।এই মহান মানবপ্রেমিক ,শান্তিকামী দূত
নিজের চোখে নোবেল পুরস্কার দেওয়া দেখে যেতে পারেন নি।
তবে স্বর্গ থেকে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া দেখে তিনি নিশ্চয়
তার দুঃখ ভুলেছিলেন।
১৯০১খ্রিস্টাব্দে উইলহেম কনরাড রন্টজেন্ট এক্স রশ্মি আবিষ্কার
করে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
জ্যাকাস হেনরিকাস ভ্যান্টহক রাসায়নিক গতিবিদ্যা ও অসমোটিক
চাপের জন্য প্রথম রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।
এমিল ফন বেরিং ডিপথেরিয়ার প্রতিষেধক বা অ্যান্টিটক্সিন
তৈরির জন্য প্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
সুনি প্রুধোম প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
শান্তিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান জঁ হেনরি দ্যুলঁ রেডক্রস
প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে এবং ফ্রেডেরিক পাসি শান্তী আন্দোলনের জন্য
যৌথভাবে শান্তি পুরস্কার পান।
বাঙালি হিসাবে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩খ্রিস্টাব্দে
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
Comments :0