ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস এলেই আমরা স্লোগান শুনি, প্রতিশ্রুতি শুনি, মানবিকতার কথা শুনি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়— ‘স্বাস্থ্যের জন্য জোট বাঁধো, বিজ্ঞানের পক্ষে দাঁড়াও’। কিন্তু এবারের আহ্বানকে যদি কেবল নৈতিকতার ভাষায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে তার বিপ্লবী সম্ভাবনাকে খর্ব করা হবে। এই আহ্বান আজকের ভারতে এক তীব্র মতাদর্শগত মেরুকরণের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে— একদিকে পুঁজি, সাম্প্রদায়িকতা ও অবৈজ্ঞানিকতার জোট; অন্যদিকে বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও সামাজিক অধিকারের পক্ষে সংগ্রামী শক্তিসমূহ। এটি এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে স্বাস্থ্যক্ষেত্র পরিণত হয়েছে শ্রেণিসংগ্রাম, রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এবং আদর্শগত আধিপত্যের সংঘর্ষ ক্ষেত্রে। এই সংঘর্ষে নিরপেক্ষতার কোনও জায়গা নেই— এখানে অবস্থান নিতে হয়: মানুষের পক্ষে, বিজ্ঞানের পক্ষে, মুনাফা ও প্রতিক্রিয়ার বিপক্ষে।
নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদের দীর্ঘ তিন দশক ভারতে স্বাস্থ্যকে একটি অধিকার থেকে ক্রমশ পণ্যে রূপান্তরিত করেছে। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব কমিয়ে এনে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দ্বিধাবিভক্ত চরিত্র: একদিকে কর্পোরেট হাসপাতালের চকচকে অবকাঠামো, অন্যদিকে ভেঙে পড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এই বৈপরীত্য কোনও নীতিগত বিচ্যুতি নয়; এটি একটি সুসংহত শ্রেণি-রাজনীতির ফল, যেখানে স্বাস্থ্যকে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে দেখা হয়, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে নয়।
এই বাস্তবতার বিরুদ্ধে জোট বাঁধার অর্থ কেবল মানবিক সংহতি নয়— এটি সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রশ্ন। এবং সেই প্রতিরোধকে বাস্তব রূপ দিতে হলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ অপরিহার্য। একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে চারটি মৌলিক শর্তের উপর - (১) বাড়ির কাছে কার্যকর হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, (২) পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্স-স্টাফ, (৩) বিনামূল্যে বা সস্তায় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, (৪) অসুখ-বিসুখ প্রতিরোধের সুব্যবস্থা। এই চারটি শর্তের কোনও একটিও যদি পূরণ না হয়, তবে পুরো ব্যবস্থাটাই নড়বড়ে হয়ে যায়।
প্রথমত, স্বাস্থ্যকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে বাজেট কাঠামোতেই মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। ভারতে মোট সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় দীর্ঘদিন ধরে জিডিপি’র ২ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার থেকেও অনেক নিচে। ভারতে স্বাস্থ্য বৈষম্য স্পষ্টভাবে শ্রেণিভিত্তিক, লিঙ্গভিত্তিক ও জাতভিত্তিক। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যক্তিগত খরচ এখনও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির উপর গুরুতর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। আয়ুষ্মান ভারত বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলি সত্ত্বেও বিমা কভারেজ সর্বজনীন নয়, ফলে বহু পরিবার বিপর্যয়কর চিকিৎসা ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য মধ্যম আয়ের দেশের তুলনায় ভারতে এই ব্যক্তিগত ব্যয়ের বোঝা অনেক বেশি। এই প্রেক্ষিতে, কেন্দ্রে জিডিপি’র ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ ও রাজ্য বাজেটের দশ শতাংশ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচিতে বরাদ্দের দাবি শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান, যা নিশ্চিত করতে পারে যে ১৪০ কোটি মানুষের জীবন কয়েকটি কোম্পানির মুনাফার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতে অপর্যাপ্ত ব্যয় যে সঙ্কট তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত, পরিকাঠামো ও মানবসম্পদের প্রশ্নে আপস চলবে না। হাসপাতাল ও মেডিক্যা ল কলেজে শূন্যপদ বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে এক নীরব আক্রমণ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি হাজার জনসংখ্যায় ৩টি শয্যা নিশ্চিত করতে ভারতে প্রয়োজন প্রায় ৩০ লক্ষ অতিরিক্ত শয্যা। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৫.৪ লক্ষ চিকিৎসক এবং ২৪ লক্ষ নার্স। ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ৬০ লক্ষের বেশি হলেও, জনসংখ্যার অনুপাতে তাদের ঘনত্ব WHO নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে, ফলে পরিষেবা প্রদানে ঘাটতি রয়ে গেছে। তাই স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ, নতুন মেডিক্যা ল কলেজ স্থাপন, বিশেষত পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে, প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে মেডিক্যা ল কলেজ, প্রতিটি সাব-ডিভিসনে প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নার্সিং কলেজ গড়ে তোলা— এই সমস্ত পদক্ষেপ স্বাস্থ্য পরিষেবার ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কেবল চিকিৎসাকেন্দ্রিক না রেখে একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য কাঠামো হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। ভারতে দ্রুত বাড়ছে ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, দূষণ ও জনমিতিক রূপান্তরের ফলে এই প্রবণতা তীব্র হচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যয়ে মোট বাজেটের মাত্র ১১ শতাংশ বরাদ্দ হওয়ায় অসুস্থতার হার বাড়ছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্পোরেটীকরণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতাল চেইন, ডায়াগনস্টিক পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষায় কর্পোরেট প্রভাব বাড়ছে, যার ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এই প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে খণ্ডিত করে এবং জনস্বার্থের পরিবর্তে আয় বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয় - এটি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পুঁজির আধিপত্যেরই প্রতিফলন। এই প্রেক্ষিতে, ‘দুয়ারে ডাক্তার’-এর নামে চমক নয়, বরং কমিউনিটি ক্লিনিকের বিস্তার এবং সরকারি হাসপাতালকে সুলভ, সহজপ্রাপ্য ও কার্যকর করে তোলা - এই সবই স্বাস্থ্যকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বলিষ্ঠ উপায়। ক্ষমতায়নমূলক পরিষেবার ধারণাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন, সক্ষম ও অংশগ্রহণকারী করে তোলা হয়। ওষুধ, টিকা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে সরকারি উৎপাদন ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
চতুর্থত, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশ্নকে কেন্দ্রে আনতে হবে। চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স, প্যারামেডিক্যাল কর্মী, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী— এই বিশাল শ্রমবাহিনী ছাড়া কোনও স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে না। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা, কম মজুরি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার। সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল শ্রমিক অধিকারের প্রশ্ন নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের পূর্বশর্ত।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্যকে তার সামাজিক নির্ধারকগুলির সঙ্গে যুক্ত না করলে রোগের সামগ্রিক প্রকোপ কমানো সম্ভব নয়। পুষ্টি, নিরাপদ জল, স্যানিটেশন, বাসস্থান, পরিবেশ, লিঙ্গসমতা— এসব থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না। তাই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কার মানে কেবল হাসপাতাল বাড়ানো নয়; বরং একটি সামগ্রিক সামাজিক নীতি গ্রহণ করা, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং রোগবালাই প্রতিরোধ করে।
এই সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর মধ্যেই নয়া উদারবাদ নারীদের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করেছে— পরিচর্যাকারী এবং শ্রমিক উভয় ভূমিকায়। পরিবারে বিনা মজুরির পরিচর্যার দায় নারীদের ওপর বর্তায়, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল হলে আরও বাড়ে। ফলে শুধুমাত্র ভাতা প্রদান নয়, নারীর স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি, নারী নির্যাতন রোধ, নারী শ্রমিকদের জন্য ক্রেশ, মাতৃমৃত্যু, অপুষ্টি ও রক্তাল্পতা কমাতে বিশেষ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকেছে, অথচ বর্তমান সামাজিক চাপ, অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে এটি ক্রমশ কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং পেশাগত স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্যনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া— এই দুটি পদক্ষেপ ছাড়া একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না।
কিন্তু এই সমস্ত বাস্তব পদক্ষেপের পাশাপাশি আরও একটি মৌলিক লড়াই রয়েছে— বিজ্ঞানের পক্ষে দাঁড়ানোর লড়াই। কারণ আজকের ভারতে স্বাস্থ্যক্ষেত্র কেবল অর্থনৈতিক নয়, গভীরভাবে আদর্শগতভাবে আক্রান্ত। একদিকে কর্পোরেটীকরণ, অন্যদিকে কুসংস্কার ও ছদ্মবিজ্ঞানের বিস্তার— এই দুই মিলেই জনস্বাস্থ্যের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী শক্তি অপবিজ্ঞানকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও বিভাজনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে, বাস্তব সমস্যাগুলিকে আড়াল করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। তারা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিরাজনীতিকরণ করে ‘সেবার’ আশ্রয়ে উপস্থাপন করে। কিন্তু তার আড়ালে গড়ে তোলে আনুগত্য, বিভাজন এবং অবৈজ্ঞানিকতার সংস্কৃতি। এর বিরুদ্ধে লড়াই মানে কেবল নীতিগত বিরোধিতা নয়; বরং জনগণের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।
আজকের ভারতে আমরা দেখছি, কীভাবে রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণি একদিকে উচ্চপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল আধুনিকতার ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যদিকে কুসংস্কার, পৌরাণিকতা ও ছদ্মবিজ্ঞানের প্রসার ঘটাচ্ছে। একদিকে গ্রামের মানুষের চিকিৎসায় সরকারি ব্যয় কমাতে টেলি-মেডিসিনকে সর্বরোগহর হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, অন্যদিকে মহামারী মোকাবিলার নামে থালা বাজানো বা প্রদীপ জ্বালানোর গণহিস্টিরিয়া গড়ে তুলছে। এগুলি কেবল অবৈজ্ঞানিকতার উদাহরণ নয়; এগুলি বৈজ্ঞানিক প্রশ্নকে আড়াল করে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল। একইভাবে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক নীতির পরিবর্তে আবেগ ও বিশ্বাসকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অঙ্গদান ও দেহদানকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে অঙ্গদানকারীকেই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। এই দ্বৈততা - উন্নয়নের ভাষায় বিজ্ঞান, আর রাজনীতির ক্ষেত্রে অবৈজ্ঞানিকতা - পুঁজির শাসনের একটি পরিচিত কৌশল। কারণ প্রকৃত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি শেষ পর্যন্ত সামাজিক বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস, শ্রমশোষণ এবং কর্পোরেট আধিপত্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তাই বিজ্ঞানকে খণ্ডিত করা হয়— তার প্রযুক্তিগত দিক গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার সমালোচনামূলক ও মুক্তিকামী দিককে দমন করা হয়।
অতএব, স্বাস্থ্যের জন্য জোট বাঁধার অর্থ একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক সমাজ গড়ার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এবং বিজ্ঞানের পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন নয়, বরং যুক্তিবাদ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
এই লড়াইয়ের শেষ কথা একটাই— স্বাস্থ্যকে পণ্যে পরিণত করা যায়, কিন্তু তাতে মানুষের জীবন, তার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সুরক্ষিত হয় না। স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন সংগঠিত রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রয়োজন রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক, মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য লড়াই থেকেও বিচ্ছিন্ন নয়। এই লড়াইয়ে বিজ্ঞান একটি অস্ত্র— কিন্তু তা নিরপেক্ষ নয়। এটি সেই শক্তির হাতেই কার্যকর, যারা সমাজকে বদলাতে চায়। এবারের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে তাই স্লোগান নয়, সিদ্ধান্ত জরুরি— এমন এক ব্যবস্থার পাশে দাঁড়াবো, যেখানে চিকিৎসা একটি ব্যবসা, নাকি এমন এক সমাজের পক্ষে, যেখানে স্বাস্থ্য সকলের অধিকার? কোন দিক সাথি, কোন দিক বল, কোন দিক বেছে নিবি তুই?
Comments :0