জানা অজানা
পশ্চিমবঙ্গের চার বিখ্যাত রথযাত্রা উৎসব
তপন কুমার বৈরাগ্য
নতুনপাতা / ৪র্থ বর্ষ / ১৭ জুলাই ২০২৬
মাহেশের রথ: পশ্চিমবঙ্গের রথযাত্রা মানেই জিলিপি,গজা,বাদাম ভাজা,তেলেভাজা,পাঁপড়ভাজার কথা মনে পড়ে যায়।
রথের মেলায় গেলে এসব খাবার না খেলে যেন মন কিছুতেই
তুষ্ট হয় না।তাই মেলায় গেলে ছ্যাঁক ছ্যাঁক আওয়াজ রথের মেলার
অন্য একটা বৈশিষ্ট্য এনে দেয়।পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীন রথ
মাহেশের রথ।১৩৯৬ খিস্টাব্দে ধ্রুবানন্দ বহ্মচারী নামে এক
সন্ন্যাসী জগন্নাথ দেবের মন্দির স্থাপন করে ১৩৯৬খ্রিস্টাব্দের
আষাঢ় মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব
চালু করেন।১৭৯৭খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণরাম বসু বড় করে রথ তৈরী করেন। কিছুদিন পরে এই রথ পুড়ে গেলে দানবীর দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ ৫০ ফুট উচ্চ এবং ১২টি চাকা এবং ১২৫টন ওজনের রথ প্রতিষ্ঠা করেন।সেই ধারা আজো চলে আসছে।রথযাত্রা শুরু হয় মাহেশের জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে এবং শেষ হয় মাসির বাড়ি।পুরীর পরেই মাহেশের রথের প্রাচীনত্ব।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাধারানী উপন্যাসে মাহেশের রথের কথা আছে।এখানে শ্রীচৈতন্য দেব রথের মেলায়
এসেছিলেন বলে একে দ্বিতীয় নীলাচল বলা হয়।
গুপ্তিপাড়ার রথঃ হুগলী জেলার শেষ সীমান্তে আছে গুপ্তিপাড়া।
হুগলী জেলার বলাগড় থানায় অবস্থিত।বৃন্দাবন জিউ মন্দিরকে
কেন্দ্র করে এই রথযাত্রা হয়।বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ হলেন রাধাকৃষ্ণ।
রথের দিনে রথে থাকে জগন্নাথ দেব,বলরাম ও সুভদ্রা।১৭৪০
খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম রথযাত্রার সূচনা হয়। ১২চাকার রথ।
৩৬ফুট উঁচু,৪০কুইন্টাল ওজন।প্রায় একমাস ধরে এখানে বিরাট
মেলা বসে।মেলায় এমন কোনো জিনিস নেই যা পাওয়া যায় না।
উল্টোরথের আগের দিন এখানে একটা উৎসব হয় যাকে বলা হয়
ভান্ডার লুট।এই রথযাত্রার প্রথম সূচনা করেন গুপ্তিপাড়ার
এক পরম ধার্মিক মধুসুদানন্দ ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে ।সেদিন থেকে
আজ পর্যন্ত এই রথের মেলায় মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ
ও উদ্দিপনা লক্ষ্য করৃ যায়।
মহিষাদলের রথঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত মহিষাদল।
আজ থেকে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরানো।১৭৭৬খ্রিস্টাব্দে
মহিষাদলের রানি জানকী দেবী এই রথযাত্রা উৎসবের সূচনা
করেন।এই রথটা ৭৫ফুট উঁচু।১৩টি চূড়া আছে। পুরী ও মাহেশের
পর এখানকার রথযাত্রা এক বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
১৫দিন ধরে বিশাল মেলা হয়।প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষের
সমাগম হয়।এই রথে শ্রীমদন গোপাল জিউর মূর্তি থাকে।থাকে জগন্নাথ, বলরাম,সুভদ্রার মূর্তি।এখানকার রথ লোহার তৈরী।
ইসকনের রথযাত্রাঃইসকনের রথমাত্রা কলকাতার ইতিহাসে
এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।মিন্টোপার্ক থেকে এই
রথযাত্রা শুরু হয়।শেষ হয় ময়দানে।প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম
হয়।এই উপলক্ষে এক বিরাট মেলাও বসে।
পশ্চিমবঙ্গের রথের মেলায় সকল শ্রেণির মানুষের সমাগম হয়।
এই মেলায় ভারতবাসীদের মধ্যে বৈচিত্রের মধ্য ঐক্য সব জায়গায়
পরিলক্ষিত হয়।হয় প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।তাই
প্রতিটা রথের মেলাকে সংস্কৃতির মেলবন্ধন বলা যায়।
Comments :0