বকেয়া বেতন দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন পুরুলিয়া পৌরসভার সাফাই বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। এর ফলে পুরুলিয়া শহর ঢেকেছে আবর্জনার স্তুপে। যত্রতত্র জমে রয়েছে আবর্জনার পাহাড়। একাধিবার অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে পুরুলিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসলেও সমাধান সূত্র বেরিয়ে না আসায় বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন তাঁরা।
গত বেশ কয়েক মাস ধরে পুরুলিয়া পৌরসভা চলছে প্রশাসকের অধীনে। পুরুলিয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে পৌরসভায় অস্থায়ী সাফাই কর্মী রয়েছেন প্রায় সাত শতাধিক। কেউ ১৫ বছর বা কেউ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। অথচ বেতন একেবারেই নগণ্য। কোনও মাসে বেতন পান, আবার কোনও মাসে বেতন পান না। তাঁদের দাবি বাজেটে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বেতন বাড়ে, আশা কর্মীদের বেতন বাড়ে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বাড়ে। কেবলমাত্র বেতন বাড়ে না পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের। মাসে বেতন দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। যখন তখন বেতন দেওয়া হয়। যার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খান তারা।
অস্থায়ী কর্মীদের দাবি প্রত্যেক মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে বার বার পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য সমস্ত মানুষ যখন ঘুমান সেই সময়ে রাত সাড়ে তিনটেতে অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা গাড়ি নিয়ে শহর জুড়ে ময়লা পরিষ্কার করতে বের হন। তাঁদের ব্যাপারে না সরকার মানবিক, না প্রশাসন মানবিক। স্থায়ী ভাবে সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা। এর ফলে পুরুলিয়া শহরের রাস্তাঘাট ঢেকেছে আবর্জনার স্তুপে। সমস্যার সমাধান কবে হবে? প্রশ্ন তুলছেন অস্থায়ী কর্মীরা।
Comments :0