সরকার আশ্বাস দিয়েছিল গ্যাসের সঙ্কট হবে না। এখন গার্হস্থ্য গ্যাস বুকিংয়ে ২১-২৫ দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তার আগে নতুন গ্যাস বুক করা যাবে না। বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারে রান্নার গ্যাসের দামও। ভারতের বিভিন্ন শহরে হোটেল এবং রেস্তোরাঁ শিল্প পড়েছে সঙ্কটে।
বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সরবরাহে বিঘ্নের বিষয়ে সরব হয়েছে। এমনও আশঙ্কা জানানো হয়েছে যে হোটেল পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখতে হতে পারে।
এর মধ্যে গার্হস্থ রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডারে ৬০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের গ্যাসের দামও।
ভারতে হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় যুক্ত বিপুল কর্মসংস্থান। রোজগার এবং আয়ের সঙ্কটে বড় অংশ পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল এবং বাণিজ্যিক পণ্য পরিবাহী জাহাজ চলাচল করছে না। এদিকে বাড়তে শুরু করেছে তেলের দামও।
বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে যে কাজকর্ম বন্ধ রাখতে হলে বহু সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে। বিভিন্ন পেশার মানুষজনই সমস্যায় পড়বেন। সরকারকে গ্যাস সরবরাহে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা চায় না মোদী সরকার। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে গত সোমবার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনার দাবি তোলে সমস্ত বিরোধী দল। এই দাবি মানতে চায়নি মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষই আলোচনার দাবিতে ছিল উত্তাল। বারে বারে সভা মুলতবি হয়ে যায়।
প্রথম দফায় সংসদ মুলতবির পর লোকসভায় বেলা ১২ নাগাদ বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবৃতি পাঠ করেই দায় সারেন। বিবৃতি নিয়ে বিরোধীরা ব্যাখ্যা চাইলেও তাঁর কোনও জবাব মেলেনি। এ নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তোলেন বিরোধীরা। তাঁরা আলোচনার দাবিতে বিক্ষোভ জানালে অচল হয়ে যায় সভা। কয়েক দফা মুলতবির পর দুই কক্ষের সভাই সারা দিনের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা চালাতে রাজি নয় মোদী সরকার।
এদিন সংসদে বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে মোদী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গত ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে ইরানের উপর হামলার আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যার মধ্যে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, ভারতের অর্থনীতির উপর প্রভাব ইত্যাদি বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন মন্ত্রককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরপরেই ভারতের তরফে ১ মার্চ ইরানের তিন জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ফলাও করে জানান। তিনি বলেন, তিন জাহাজের একটি জাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’ কেরালার কোচি বন্দরে রয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় ভারত মহাসাগরে ৪ মার্চ ইরানের নিরস্ত্র জাহাজের উপর মার্কিন হামলা নিয়ে নিন্দা সূচক কোনও মন্তব্য করেননি জয়শঙ্কর।
Iran War Hotel
যুদ্ধের জেরে একাধিক শহরে বন্ধের মুখে হোটেল ব্যবসা
×
Comments :0