এসআইআর’র কাজে নিযুক্ত বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত রাজ্যের আপত্তিকে গ্রাহ্য করল না সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশন বিচারপতিদের নির্দেশ দেওয়ায় আপত্তি জানায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সমসয়সীমা এর মধ্যেই দু’বার পিছিয়েছে। ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’ বিবেচনার কাজে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা আদালতের বিচারপতিদের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারির নির্দেশে নগর দায়রা বিচারপতি এবং ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিচারপতিদেরও যুক্ত করতে বলে প্রায় ৮০ লক্ষ নথি পরীক্ষার কাজে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির জায়গায় এই বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ মডিউল সংক্রান্ত নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার রাজ্য সরকারের সেই আপত্তিকে কার্যত খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে যে বিচারপতিদের কাছে স্পষ্ট আমরা কী নির্দেশ দিয়েছি। কোনও কিছুই তাঁদের প্রভাবিত করতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে উপস্থিত বরিষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল বেঞ্চের সামনে আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এদিন সিব্বল বেঞ্চকে বলেন, "কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রায়ে বলেছেন যে সমস্ত পদ্ধতিই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে নির্দেশিকা জারি করছে নির্বাচন কমিশন। যে ‘ট্রেনিং মডিউল‘ জারি করা হয়েছে তাতে বিচারপতিরা কী গ্রহণ করবেন এবং কী গ্রহণ করবেন না তা-ও বলে দেওয়া হচ্ছে।"
প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্যের সব খুঁটিনাটি বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। এই সম্পর্কে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরাই নেবেন।
এদিন বেঞ্চ বলেছে, "আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে কোন নথিগুলি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের নির্দেশ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।"
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলে প্রথম সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন মুর্শিদাবাদের মহিলা মোস্তারি বানু। সেই মামলাতেই পরে দায়ের অন্যান্য আবেদন জুড়ে নেয় শীর্ষ আদালত।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত এসআইআর’র কাজে বিচারপতিদের দায়িত্ব দেওয়ার সময় বলেছিল যে ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার অভাব প্রকট।’ তার আগে পশ্চিমবঙ্গে শুনানির মেয়াদ ৭ দিন বাড়িয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। তার ভিত্তিতে কমিশন জানায় যে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তবে তা অসম্পূর্ণ তালিকা। পরের ধাপেও প্রকাশিত হবে তালিকা। রাজ্যে সমস্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’।
এদিকে কলকাতায় কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল এক প্রশ্নে বলেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকার বা বডি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ নেই। কমিশনের পাঠানো পুলিশ পর্যবেক্ষক এই পদ্ধতির জন্য বলেন। সেই অনুযায়ী দিল্লিতে কমিশনকে জানানো হয়।
Supreme Court on state objection
বিচারপতিরা প্রভাবিত হবেন না, রাজ্যের আপত্তিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট
×
Comments :0