মুক্তধারা
অন্যকথা
কপিলাবস্তু থেকে পাটলিপুত্র : এক বাঙালির অভিযান
কৃশানু ভট্টাচার্য্য
৩ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
জীবন শুরু করেছিলেন ২৪ পরগনার পানিহাটিতে। পড়াশোনা সূত্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন লখনৌ এবং তারপরে বোম্বে। বিএ পাশ করার পরে বোম্বে স্কুল অফ আর্ট থেকে চিত্রাঙ্কনে প্রশিক্ষণ। এখান থেকেই প্রত্নতত্ত্বের প্রতি আকর্ষণ যদিও সে সময় ভারত বর্ষে প্রত্নতত্ত্ব বলে আলাদা কোন বিভাগ ছিল না। প্রত্যতত্ত্ব কাজ পরিচালিত হতো। পূর্ত দপ্তরের অধীনে। সময়টা ১৮৮২। তারপর একে একে লখনৌ শহরের ইতিহাস নিয়ে অনুসন্ধান এবং গবেষণা গ্রন্থ রচনা। কিন্তু এই ভারতীয়র মেধা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মচারীদের। তারা ষড়যন্ত্র করে তাকে চাকুরিচ্যুত করেছিলেন। এরপর পূর্ত বিভাগে সাধারণ কাজ। সে সময় কর্মক্ষেত্র বদলে হলো ঝাঁসী। এখানে নিজের উদ্যোগেই বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের পুরাতত্ত্ব নিয়ে অনুসন্ধান। আবার ষড়যন্ত্র, আবারো গেল চাকরি। এবার ফিরে এলেন বাংলায়।
কলকাতায় তখন গড়ে উঠছে কলকাতা জাদুঘর। এখানে আংশিক সময়ের কর্মচারী হিসেবে যোগদান। দু'বছর সেখানে চাকরি।
এই অনিশ্চয়তার পথে চলতে চলতেই একটা সময় প্রমাণিত হলো তার বিরুদ্ধে কি ধরনের চক্রান্ত হয়েছে। সে সময় তাকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হল নেপালে গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে হবে। প্রবল প্রতিকূলতা এবং কার্যত একক প্রয়াসে তিনি খুঁজে বার করেছিলেন। লুম্বিনী উদ্যানের প্রকৃত অবস্থান। ভারত সরকার প্রকাশ করেছিল তাঁর সেই প্রতিবেদন। ভারতীয়দের রচিত পুরাতত্ত্ব বিষয়ক প্রতিবেদন হিসেবে এটি প্রথম। এরপরে অবশ্য প্রকাশিত হয়েছে পাটলিপুত্র নিয়ে তার আরেকটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন। জীবনের শেষ লগ্নে উড়িষ্যার কোনারকের সূর্য মন্দিরের অবস্থান এবং ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কাজে তিনি নিযুক্ত ছিলেন । সেখানে কাজ করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ১৯০৩ সালে চৌঠা আগস্ট মাত্র ৫৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নিজের গ্রাম পানিহাটি তে নিজের বাড়িতে।
তিনিই পূর্ণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়- প্রথম ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক।
Comments :0