অলকেশ দাস
বনে নয়, মনে মোর পাখি আজ, গান গায়। আজ বড় আনন্দের দিন। সবকিছু অভিন্ন হবে। এক হবে। এক ভাবনা, এক দেশ, এক জাতি, এক ভাষা, এক ইতিহাস, এক ভোট, এক মিশন, এক লক্ষ্য...। সব এক। এখন আইনও এক হবে। তার নাম দেওয়া হবে অভিন্ন দেওয়ানি আইন। আচ্ছা সব এক করার কথা যখন উঠছেই, তখন আরেকটা এক করার কথা হচ্ছে না কেন? মুকেশ আম্বানির বাড়ি আর আমার বাড়ি এক হবে না কেন? ‘সব বাড়ি এক’— হবে না কেন? দেশের ১ শতাংশ লোকের হাতে দেশের সম্পদের ৪০ শতাংশ। রসেবসে আছে তারা। নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে দেশের সম্পদের ৩ থেকে ৬ শতাংশ। কোনোমতে দিন গুজরান। এদের অর্থনীতিই বা আলাদা হবে কেন? বহুদিন থেকে দাবি উঠেছে— সমকাজ, সমবেতন। সরকার সেই দাবির দিকে ঘুরেও তাকায়নি। তাহলে অভিন্নতা শুধু আইনে? অর্থনীতিতে তার প্রয়োগ রাষ্ট্র করবে না? তাহলে কি অভিন্ন দেওয়ানি আইনে সমতা নয়, উদ্দেশ্য অন্য কিছু?
ব্যক্তিগত আইন: গভীর সামাজিক প্রেক্ষাপটে
দেশের ক্রিমিনাল বা ফৌজদারি আইন আসলে অপরাধমূলক প্রকৃতি সম্পর্কিত। এর বাইরে সবকিছুই দেওয়ানি। চুক্তি আইন, ভারতীয় সাক্ষ্য আইন, নিবন্ধীকরণ, শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, সম্পত্তি হস্তান্তর, পণ্য বিক্রয়, সম্পত্তির অংশীদারি, প্রমাণ আইন, বিবাহ আইন, পারিবারিক আইন, কোম্পানি আইন, মেধা সম্পদ আইন, আবাসন আইন, মোটর ভেহিকেলস আইন ইত্যাদি। আম্বেদকার গণপরিষদে তার ভাষণে বলেছিলেন-সারা দেশ জুড়ে আমাদের ফৌজদারি আইন অভিন্ন ও সম্পূর্ণ। বাস্তবে দেশে একটি দেওয়ানি আইন আছে। বিষয়বস্তুতে অভিন্ন, সারা দেশের জন্য যা প্রযোজ্য। বিবাহ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে শুধু একটু অন্যরকম আছে। এর পাশাপাশি ভারতে বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যক্তিগত আইন আছে। এর গোড়ায় আছে ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য। এগুলি দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন। মানুষকে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী চলতে সাহায্য করে। হিন্দু ব্যক্তিগত আইন এসেছে বেদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ভারতে একাদশ শতক থেকে। এসেছে কুরআন এবং হাদিস থেকে। ক্রিশ্চান ব্যক্তিগত আইনের প্রবর্তন ষোড়শ শতাব্দী থেকে। এসেছে বাইবেল এবং ক্রিশ্চান চার্চের শিক্ষা থেকে। সামাজিক গভীর প্রেক্ষাপট থেকে এই সকল ব্যক্তিগত আইন উঠে এলেও মহিলাদের প্রতি বৈষম্যের কিছু উপাদান এর মধ্যে রয়েছে। সংস্কারেরও প্রয়োজন রয়েছে।
এক দেশ-এক আইন সংবিধান সম্মত?
অভিন্ন দেওয়ানি আইন কতখানি সংবিধান সম্মত সেই নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক। সংবিধানের ৪৪ নম্বর ধারায় নির্দেশাত্মক নীতিতে অভিন্ন দেওয়ানি আইন বাধ্যতামূলক ছিল না। সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া ছিল না। সেখানে বলা হয়েছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, ধর্মীয় বহুত্ববাদ, লিঙ্গভিত্তিক সমতা, প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায় বিচার ইত্যাদি রক্ষা করে অভিন্ন দেওয়ানি আইন হতে পারে তবে তা ভারতীয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে। কিন্তু তা হচ্ছে কোথায়? দেশের সামগ্রিক আইন তো হচ্ছে না। মোদী এ বিষয়ে অক্ষম। তার জোটের সরকারের বন্ধুরাই একমত হবে না। সেইজন্য বেছে বেছে বিজেপি চালিত রাজ্য সরকারগুলিকে দিয়ে রাজ্যগত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরি করছে। ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি উত্তরাখণ্ডে, ২০২৬ এর মার্চে গুজরাট, ২০২৬ এর মে মাসে আসাম, জুলাই মাসে মধ্যপ্রদেশ, আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ...। যে সুযোগটা বিজেপি কাজে লাগিয়েছে সেটা হলো পারিবারিক সম্পর্কিত বিষয়গুলি যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি সংবিধানে যুগ্ম তালিকার ৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা আছে। কিন্তু যুগ্ম তালিকায় থাকার অর্থ মুখ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে রাজ্যগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত হবে। তাহলে ভারতীয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিন্ন দেওয়ানি আইন হলো কি করে? মোদী বলেছিল— এক বাড়িতে এক সদস্যের এক আইন, অন্য সদস্যের আরেক আইন। সেই পরিবার কি চলতে পারে? কিন্তু তার দল তো তাই করছে। গুজরাট, মধ্য প্রদেশ, আসাম, উত্তরাখণ্ড। এক এক জায়গায় এক এক অভিন্ন দেওয়ানি আইন! বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি আইনের নাম করে ব্যক্তিগত আইনের যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্বাধিকার তাকে আক্রান্ত করতে চাইছে। অথচ সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর ধারায় ধর্মের স্বাধীনতা, নিজ ধর্মের বৈশিষ্ট্য রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। ২৯(১) ধারায় বলা হয়েছে সাংস্কৃতিক বহুত্বের কথা। তাহলে এক দেশ-এক আইন, যার পোশাকি নাম অভিন্ন দেওয়ানি আইন তা সংবিধান সম্মত হয় কি করে?
অভিন্নতা ও শ্যামাপ্রসাদ
এটা কি করে হয়? উত্তরাখণ্ড থেকে গুজরাট, গুজরাট থেকে মধ্য প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সব জায়গায় কমিটি হচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি আইনের খসড়া বা চূড়ান্তকরণের জন্য। ৬ বা ৯ জনের কমিটি যেখানেই হোক না কেন মাথায় সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রঞ্জনা প্রসাদ দেশাই থাকছেই। তিনিই সব জায়গায় একই রকমভাবে হিন্দু আইনের কপি পেস্ট করে দিচ্ছেন। আসলে এগুলো সবই আরএসএস-বিজেপি’র পরিকল্পনা। বিজেপি’র নির্বাচনে ইশ্তেহারে ছিল। ২০১৯, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে। অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকরী করার কথা। অমিত শাহ নির্বাচনী বক্তব্যে আসাম, পশ্চিমবাংলায় তা সোচ্চারে বলেছিল। বলেছিল বিজেপি বিভিন্ন ধর্মের আইনের যে পার্থক্য আছে সেগুলোকে দূর করতে চায়। আসলে ব্যক্তিগত আইনের যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্বাধিকার তা হরণ করতে চেয়েছিল। চাইছিল বিভিন্ন ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা প্রথাগত যে বিধি তাকে বাতিল করতে। কিন্তু বিজেপি যে শ্যামাপ্রসাদকে নেতাজী সুভাষ বসুর উপরে ঠাঁই দিতে চায় সেই শ্যামাপ্রসাদ এই বিষয়ে কি বলেছিলেন? শ্যামাপ্রসাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সালে ভারতীয় সংসদে বক্তৃতা দিয়েছিলেন যে আমেরিকার সমস্ত রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন বিধান আছে। অভিন্নতা কোথায়? তা সত্ত্বেও আমেরিকা আনন্দে আছে। অভিন্নতা আসলে স্থবিরতার ও প্রাণহীনতার জন্ম দেয়। আম্বেদকর হিন্দু কোড বিল এনেছিলেন। তিনি বলেছিলেন সমস্ত হিন্দুদের জন্য এক বিবাহ প্রথা হবে। হিন্দু মেয়েদের কিছু অধিকার যা চালু আছে তা গ্রহণ করা হবে সমস্ত হিন্দু মেয়েদের জন্য। একই বিবাহ বিচ্ছেদ ছিল শুদ্রদের জন্য। তা প্রসারিত হবে হিন্দু মহিলাদের জন্য। বর্ণ হিন্দুদের জন্য। শ্যামাপ্রসাদ এর বিরুদ্ধে বলেছিলেন— আমি শুনেছি শুদ্রদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ৯০শতাংশ চালু আছে। কিন্তু কেন অন্যদের এর মধ্যে টেনে আনা হবে? ব্রাহ্মণদের সঙ্গে শূদ্রদের আইন এক হোক শ্যামাপ্রসাদ তা চাননি।
আদিবাসী বাইরে কেন?
অভিন্ন দেওয়ানি আইনে কোনও রাজ্যেই জনজাতিগোষ্ঠীতে হাত দেয়নি বিজেপি ভোটের জন্য। তাদের আইনের বাইরে রেখেছে। অথচ ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে টার্গেট করা হয়েছে। যদি মহিলাদের জন্য, তাদের অধিকারের জন্য, বৈষম্য দূরীকরণের জন্য এই আইন হয় তাহলে জনজাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মহিলারা কি রকম আছে? কারবি সম্প্রদায়ের পুরুষ পায় সম্পত্তির অধিকার। মেয়েরা পায় না। মিশিং সম্প্রদায়ের সম্পত্তি পায় ছেলেরা। মেয়েরা পায় উপহার, যত্ন এবং ভরসা। বোড়ো সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার পুরুষতান্ত্রিক। বেশিরভাগ আদিবাসী সম্প্রদায় পুরুষতান্ত্রিক। দিমাসা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সেখানে জমি পুরুষরা পায়। গয়না, কাপড়, অন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি পায় মেয়েরা। এখানে অভিন্নতা হবে না? এখানে কোন বঞ্চিত কোর্টে যেতে পারবেন না। কারণ এখানে কোনও প্রথাগত আইন নেই। ফলে মেয়েরা আদালতে যেতে পারবে না। আবার আদিবাসীদের মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থাও চালু এখনো রয়েছে। মেঘালয়ে খাসি, গারো সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার মেয়েদের উপর ভিত্তি করে। গারোদের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যায় মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি পায় নাগাল্যান্ডে মেয়েরা জমির মালিক হয়। মেঘালয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন আবশ্যক। মিকি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যদি এক মেয়ে বাড়িতে থাকে তাহলে সে বিয়ের পর নিজের বাড়িতেই থাকবে। নাগাল্যান্ডে বা উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে আদিবাসীদের জন্য আলাদা আইন। সেটাই তারা মেনে চলে। এত কিছু বৈচিত্রের মধ্যে অভিন্নতা কি করে হবে?
অভিন্নতা ও আম্বেদকর
ভারতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি ইত্যাদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য ২০০ ব্যক্তিগত আইন আছে। সব দেশেই আছে। বাংলাদেশে শুধু হিন্দুদের জন্য আইন আছে। পাকিস্তান ২০১৭ সালে পার্লামেন্টে হিন্দুদের জন্য বিবাহের পৃথক আইন পাশ করেছে। মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী বিবাহ দু’টি পূর্ণ বয়স্ক নরনারীর মধ্যে চুক্তি। কিন্তু অন্য ধর্মে তা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হিন্দু সাত পাকে অগ্নিসাক্ষী রেখে বিবাহ। খ্রিস্টান বিবাহ চার্চে। ধর্ম, জাত, জাতি, লিঙ্গ ভেদে বিভিন্নতা, বিবাহ, উত্তরাধিকার আইনের শত শত বিভিন্নতা। এক ধর্মেই বিভিন্নতা। একেক রাজ্যে বিভিন্নতা। প্রতি ধর্মের ব্যক্তিগত আইনে নারী পুরুষের অধিকারে বিভিন্নতা। এই হলো ভারত। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্যের সুর। নানা রঙের ফুল এক হয়ে গাঁথা মালা। এক সুরে বাঁধা পড়েছে। এই জন্য আম্বেদকার বলেছিলেন দেওয়ানি বিষয়গুলিতে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়। তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে। এখন তার বক্তব্যের অপলাপ করা হচ্ছে।
অভিন্নতা, নারী ও ধর্মনিরপেক্ষতা
মুসলিম শরীয়তি আইনে মহিলাদের বৈষম্যের উদাহরণ আছে। শরীয়তী বিধান নবম-দশম শতাব্দীর আরব সমাজের পটভূমিতে রচিত।
অবশ্যই সংস্কারের প্রয়োজন। কিন্তু যেভাবে তাকে নিয়ে প্রচার হচ্ছে তা ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য। যেমন বহুবিবাহ। সাধারণভাবে, একেবারে কোনও বিশেষ কারণ ছাড়া ইসলাম একে অনুমোদন করে না। ৯৬ শতাংশ মুসলিম বহুবিবাহ করেন না। এনএফএইচ এস ২০১৯ -২০২০ সমীক্ষায় বহুবিবাহ সম্পর্কে এক তথ্য দেয়। দেখা যায় ১.৯ শতাংশ মুসলিম, ১.৩ শতাংশ হিন্দু, ১.৬ শতাংশ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বহুবিবাহ করে। বহুবিবাহ সংবিধানে নিষিদ্ধ। বিগত দুই দশকে বহুবিবাহ কমেছে। শিক্ষা এবং চেতনার সম্প্রসারণের জন্য।
বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি আইন সম্পর্কে বলে যে এটি সাংবিধানিক। এটি বৈষম্য দূর করবে। মহিলাদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করবে। সমতা প্রতিষ্ঠা করবে। সামাজিক ন্যায়বিচার আনবে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয় সংহতির পক্ষে। শোষণমূলক ব্যবস্থাগুলিকে দূর করবে। বৈচিত্রকে সম্মান দেবে। বিজেপি- আরএসএস’র মুখে নারীর ক্ষমতায়ন শুনলে ঘোড়া পর্যন্ত হাসবে। বিলকিস বানু, কুলদীপ সিং সেনগার, ব্রিজভূষণ সারণ সিং, মণিপুর, হাথরসের মণীষা বাল্মীকি... একের পর এক সব উদাহরণ। বিশেষ বিবাহ আইন ১৯৫৪, পণপ্রথা নিবারণ আইন ১৯৬১, গার্হস্থ্য হিংসা নিবারণ আইন ২০০৫, কণ্যা ভ্রুণ হত্যা প্রতিরোধ, অনার কিলিং নিবারণ, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা বন্ধ— এ’সব মহিলাদের সুরক্ষা প্রদান সংক্রান্ত। বিজেপি বলতে পারবে যে আইনগুলি দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা কি?
চোখের সামনে বিজেপি শাসিত রাজ্যে রোমিও স্কোয়াড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, অ্যান্টি ভ্যালেন্টাইন ডে বাহিনী তৈরি হচ্ছে—সরকার নীরব কেন? উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, মধ্য প্রদেশ, আসাম-যে রাজ্যগুলিতে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালু হয়েছে প্রত্যেকটির পরিচালনায় বিজেপি। সে রাজ্যগুলিতে সম্প্রদায় নির্বিশেষে মেয়েদের সামাজিক সমতা কতটা বেড়েছে? পরিবারের মধ্যে নারীর সুরক্ষার কতটা উন্নতি হয়েছে? অল্প বয়সে বিবাহ কতটা ঠেকানো গেছে? উত্তর প্রদেশে হিন্দুদের ডিভোর্স আইন অন্য রাজ্যগুলোর থেকে আলাদা কেন? সেখানে বিজেপি আছে। গোয়াতে আইন আছে হিন্দু স্ত্রীর বয়স যদি ২৫ বছর হয় তার যদি সন্তান না হয় তাহলে স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে। সেখানেও বিজেপি। লিভ ইন রিলেশন নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক। অনুমতি নিতে হবে বাবা-মায়ের। কেন? বিবাহ তো দু’জন পূর্ণ বয়স্ক ছেলে- মেয়েদের। আসলে লক্ষ্য ভিন্ন জাত, ভিন্ন ধর্মের বিয়ের উপর। সমাজের বাধা ডিঙিয়ে তারা যেন মিলতে না পারে। নিয়ন্ত্রণের জায়গা রাখা। যদি অভিন্নতার কথাই হয় তাহলে সিএএ- তে মুসলিমদের নাগরিকত্বের আবেদন করার অধিকার দেওয়া হয়নি কেন? ২০২৪ এ স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদী বলেছিলেন যে অভিন্ন দেওয়ানি আইন ভারতকে প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষ করবে। অথচ সকলেই জানে যে মোদীর সরকার ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে সংবিধানের বই ছাপিয়ে বিলি করেছিল সংসদে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে ব্যঙ্গ করে বিজেপি’র ছোট-বড় নেতা। বিজেপি’র অভিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার স্থানে এখন হিন্দুত্ব।
অভিন্ন দেওয়ানি আইন আসলে সরকার আর আমলাতন্ত্রের নজরদারি আর নাক গলানোর সুযোগ। অভিন্নতা মানে সমতা নয়। অভিন্নতা মানে ন্যায় নয়। অভিন্নতার প্রয়োজন নেই। সংস্কার চাই ব্যক্তিগত আইনে। পার্থক্যের স্বীকৃতি, পার্থক্যের অস্তিত্বের স্বীকৃতি— শক্তিশালী গণতন্ত্রের চিহ্ন।
Comments :0