জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙ্গা
এ এক এমন স্কুল, যার নিজস্ব ভবন আছে, আছে খেলার মাঠ আর আছে পরিচালন কমিটিও। শুধু স্কুলের ক্লাসরুমের তালা খোলে না বছরের পর বছর! মাথাভাঙা মহকুমার একমাত্র মূকবধিরদের এই বন্ধ স্কুল নিয়ে প্রশাসনের কোন হেলদোল নেই। প্রশাসনের উদাসীনতায় পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে স্কুল বাড়ি!
প্রায় দেড় দশক ধরে বন্ধ এই স্কুলের পঠন- পাঠন। বিগত তৃনমুল সরকার যে মূকবধির শিশুদের নিয়ে কতটা উদাসীন ছিল এই স্কুল সে কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়।
মাথাভাঙা-১ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যেখান দিয়ে মাথাভাঙা- শিলিগুড়ি সড়কের পাশে বামফ্রন্ট আমলে গড়ে উঠেছিল "বিশ্বনাথ মূকবধির " স্কুলটি। ২০০০ সালে স্কুলটি গড়ে তোলার পেছনে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলীর প্রচেষ্টা স্মরণীয়। বামফ্রন্ট আমলে স্কুলটি জনশিক্ষা প্রসার দপ্তরের অনুমোদনও পেয়েছিল। স্কুলটি ভালোই চলছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরেই কমিটি দখলকে ঘিরে শুরু হয় নোংরা খেলা। কিছুদিনের মধ্যেই ম্যানেজিং কমিটি যায় তৃণমূল প্রাভাবিত লোকেদের হাতে। স্কুলের প্রশাসনিক ক্ষমতা দখলে তৃণমূল যতটা তৎপর ছিল দায়িত্ব হাতে নিয়ে ওরা ততটাই নিরুৎসাহীত হয়ে পড়ে।২০১২ সালে পাকাপাকি ভাবে স্কুলের পঠন পাঠন বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন মূকবধির পড়ুয়ার বাবা মায়ের।আশেপাশে স্কুল না থাকায় মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দেয় পড়ুয়ারা।
বিশেষ ভাবে সক্ষম ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে ফের স্কুল চালু করুক রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার দপ্তর, এটাই আশা বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের বাবা-মায়েদের।
উল্লেখ্য মহকুমার একমাত্র মূকবধির স্কুলটি যারা শিক্ষকতা করতেন তাদের সাম্মানিক মিলতো জনশিক্ষা প্রসার দপ্তর থেকেই। বামফ্রন্ট আমলের শেষের দিকে স্কুলটিকে শিক্ষা দপ্তরের আওতায় এনে স্থায়ী শিক্ষকের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও পর পরবর্তী সরকারের এই স্কুল নিয়ে কোন আগ্রহ না থাকায় স্কুল বন্ধ হয়ে পড়ে।
রাজ্যে ফের ১৫ বছর পর নতুন সরকার এসেছে।শিতলখুচির বিজেপি বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন মূকবধিরদের এই স্কুল ফের চালুর জন্য কি ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার। মূকবধিরদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বিজেপি সরকার উদ্যোগী হবে নাকি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মতই ব্রাত্য থেকে যাবে মূকবধির শিশুরা!
Mathabhanga School
১৫ বছর তালা বন্ধ বিশ্বনাথ মূকবধির স্কুল
×
Comments :0