Shahida Fakir From Swarupnagar

স্বরূপনগরের গৃহবধূকে বাংলাদেশে পাঠালো মুম্বাই পুলিশ

জাতীয় রাজ্য

বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মূখিন হচ্ছেন। বাংলায় কথা বলার জন্য কোথাও থানায় আটক করা হচ্ছে। কোথাও পরিচয়পত্র দেখালেও ‘বাংলাদেশী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশী তকমা দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশ পুশব্যাক করার ঘটনাও ঘটেছে। বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকারের ‘পুশব্যাক’ নীতির কারণেই বাংলাদেশী সন্দেহে বিভিন্ন রাজ্যে আটক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। ফের আরও একবার বাংলায় কথা বলার কারণে সন্দেহের বসে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুরের বাসিন্দা সাহিদা ফকিরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিল মুম্বাই পুলিশ। সরকারি নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও মুম্বাই পুলিশ উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুরের বাসিন্দা সাহিদা ফকির নামে এক মহিলাকে বেআইনিভাবে আটক করে, বাংলাদেশী তকমা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে আসাম সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ভারতীয় মহিলা সাহিদা ফকির মুম্বাইয়ে পরিচারিকার কাজে গিয়েছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশী তকমা লাগিয়ে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টার ও পরে আসাম বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে সাহিদার পরিবার সূত্রে খবর। জানা গেছে দীর্ঘ কুড়ি বছর মুম্বাইয়ে পরিচারিকার কাজ করতেন সাহিদা ফকির। বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন তিনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকেই ভিডিও কলে ভারতে ফেরার আকুতি জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাইদা। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট ও মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই গৃহবধুর পরিবার। ওই গৃহবধূর বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ায়। গৃহবধূর নাম সাহিদা ফকির, স্বামী জুম্মান ফকির। মুম্বাইয়ে বাজার করতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশ গত ১৯ জুলাই তাঁকে আটক করে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারপরে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। অভিযোগ তাঁকে প্রায় ৯০ ঘণ্টা ধরে আটক করে রাখা হলেও কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। এমনকি তাঁকে আটকের কারণ জানানো হয়নি এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তাঁর স্বামী ও পরিজনেরা জানতে পারলে তারা জানান যে, তিনি ভারতীয় বাসিন্দা, ভোটের আই কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড সহ একাধিক নথিপত্র নিয়ে হাজির হলে জানতে পারেন যে, তাঁকে ২৩ জুলাই মুম্বাইয়ের নাবি পুলিশ আসাম বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে পার করে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একটি গ্রামে আছেন বলে পরিজনেরা জানতে পেরেছেন। 
ওই বধুর স্বামী ও পুত্র বলেছেন, তিনি ভারতীয় বাসিন্দা। মহিলার স্বামী বলেছেন, উপযুক্ত কাগজপত্র না দেখে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। সাহিদা ফকিরের যাবতীয় শংসাপত্র নিয়ে এখন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ। মাসুম নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা সমস্ত নথিপত্র নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছে এই মহিলাকে স্বদেশে ফিরে পাওয়ার আশায়। তার পুত্র সাহিল ফকির বলেছেন, মুম্বাই পুলিশ মাকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। তিন দিন আটকে রাখেন। তারপর বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমার মাকে দ্রুততার সঙ্গে আমাদের কাছে ফিরে পেতে চাই, তার সমস্ত ব্যবস্থা করুক সরকার। পুত্রবধূ রূপালী কারিগর বলেন, ‘‘আমার শাশুড়ি দীর্ঘ কুড়ি বছর মুম্বাইয়ে থাকেন কাজের তাগিদে। সাহিদা ফকিরের স্বামী জুম্মান ফকির সহ পরিবারের সকলের দাবি দ্রুততার সাথে ফেরত পেতে চায়, প্রশাসন সেই ব্যবস্থা করুন।

Comments :0

Login to leave a comment