হিমঘরের বন্ড নিয়ে চলা চরম কালোবাজারি বন্ধ করা, ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ওপর সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং কুইন্টাল প্রতি ১৪০০ টাকা সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলঢাকা। সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্বে এদিন দুপুর ১২টা থেকে জলঢাকা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধে শামিল হন হাজার হাজার আলু চাষি। রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বিরোধী’ নীতির বিরুদ্ধে এদিন জনরোষ আছড়ে পড়ে রাজপথে।
এবারের মরশুমে উত্তরবঙ্গে আলুর ফলন ভালো হলেও চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করতে গিয়ে কার্যত পথে বসার দশা মেহনতি মানুষের। বিক্ষোভে শামিল হওয়া কৃষক রাম বিলাস রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "বাজারে আলুর দাম কেজিতে ৪-৫ টাকায় নেমে এসেছে। অথচ উৎপাদন খরচ এর প্রায় দ্বিগুণ। রাজ্য সরকারের উদাসীনতা আর সঠিক বিপণন ব্যবস্থার অভাবেই আজ আমরা দিশেহারা।"
কৃষক সভার অভিযোগ, একদিকে বাজারে খরিদ্দার নেই, অন্যদিকে হিমঘরে আলু রাখার ক্ষেত্রে সাধারণ চাষিদের চরম দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। বন্ড বিলি নিয়ে এলাকায় এক ভয়াবহ ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তৃণমূল আশ্রিত ফড়ে ও দালালচক্র হিমঘরের সিংহভাগ বন্ড কুক্ষিগত করে রাখায় সাধারণ কৃষক আলু মজুত করতে পারছেন না।
এদিন অবরোধের জেরে জাতীয় সড়ক ও সংলগ্ন রাস্তায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে আন্দোলনকারীদের সরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কৃষকদের স্পষ্ট হুঙ্কার— "ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়েও যদি ফসলের দাম না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়, তবে রাস্তা ছাড়ার প্রশ্নই নেই।"
প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে কৃষকরা পিছু হটেন। কৃষক সভার জেলা সম্পাদক প্রাণ গোপাল ভাওয়াল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সরকার যদি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করে এবং হিমঘরের অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে আগামী দিনে মহকুমা শাসক ও জেলা শাসকের দপ্তর ঘেরাওয়ের মতো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কৃষকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।" এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অনিল বর্মন, ভূপতি সেন, দুর্গা চরণ রায়, জয়ন্ত মজুমদার সহ জেলা ও ব্লকের নেতৃত্ব।
ময়নাগুড়ির আইসি জানান, আন্দোলনকারীদের দাবিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা জেলাশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সামনে পড়ুয়াদের পরীক্ষা থাকায় কৃষকরা মানবিক খাতিরে অবরোধ তুলে নেন। তবে দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন কৃষক নেতৃত্ব।
Farmers Protest
আলুর ন্যায্য মূল্যের দাবিতে কৃষক সভার নেতৃত্বে জাতীয় সড়ক অবরোধ
×
Comments :0