শঙ্কর ঘোষাল: বর্ধমান
সব ভোটারের নাম না তুলে এ রাজ্যে ভোট করা যাবে না। আমরা বৈধ ভোটারের অধিকার ছিনিয়ে আনবই। মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের কার্জন গেটের সামনে এসআইআর নাম করে যেভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বিচারাধীন করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বুধবার, ৪ মার্চ, সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করবে বামফ্রন্ট।
তিনি বলেছেন, ১৯৭৭ সালে ভোটে জয়ী হয়ে বামফ্রন্ট ঘোষনা করেছিল সব রাজনৈতিক বিচারাধীন বন্দির মুক্তি চাই আমরা। তেমনই ৬০ লক্ষ বিচারাধীন বন্দীদের মুক্ত করেই ভোটের অধিকার ফেরত দিতে হবে।
বসন্ত উৎসবের দিনে তিনি এদিন বলেছেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে আইআর হয়েছে। এমন তো হয়নি? এখন তৃণমূল-বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করে মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করছে। যে প্রশাসন বালি, কয়লা, চাকরি, জমি চুরিতে অভিযুক্ত, তারা ব্যর্থ বলেই সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। তৃণমূল চাপ তৈরি করেছে মৃত, ভুয়ো ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় রাখার জন্য। মানসিক চাপে বহু মানুষ আত্মঘাতী হয়েছেন। সব চেয়ে বেশি মানুষ যখন আক্রান্ত তখন তাঁদের পাশে আমাদের দাঁড়াতেই হবে।
সেলিম বলেছেন, তৃণমূল ভোট লুট, গননা কেন্দ্রে লুট, মানুষকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ভোটে জিতেছে। বিজেপি ভোটার লিস্ট লুট করতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, যখন ১০০ দিনের টাকা দুর্নীতির জন্য আটকে দিলো মোদী সরকার তখন মুখ্যমন্ত্রী ও ভাইপো দিল্লিতে ধর্না দিয়েছেন। এখন এসআইআর’র নাম করে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি। তখন এর বিরুদ্ধে দিল্লিতে কেন ধর্না দেবেন না পিসি — ভাইপো? কলকাতার ধর্মতলাকে বেছে নিয়েছেন ধর্নামঞ্চ হিসাবে, এই রাজ্যে ভোট সেই কারণে।
সেলিম এদিন সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন বলার থেকে লড়ার সময়। এই লড়াইয়ে জিততে হবে। কোন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে আমরা ভোট করতে দেব না। ভোটার তালিকা থেকে মৃত, ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার পার্টি দপ্তরে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। সেখানেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিবিড় সংশোধনের নামে বিজেপি, আরএসএস ও কমিশনের নিবিড় ষড়যন্ত্র চলছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে হয় বাদ পড়েছে নয়তো বিচারাধীন। শুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু সাধারন মানুষকে ঘোরততর বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। একটা সম্প্রদায়ের উপর আঘাত হেনে পরিকল্পিত বিভাজন বিজেপি- তৃণমূলের। তৃণমূল নেত্রী চাইছিলেন ভোটার তালিকা নিয়ে গন্ডগোল হোক। তিনি তারপর পরিত্রাতা হিসাবে সামনে আসবেন। তাই তিনি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেননি, পরামর্শও নেননি।
মহম্মদ সেলিম বলেছেন, মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্নগুলো ভুলিয়ে দিতেই এই ভাবে এসআইআর-কে সামনে এনে মানুষকে ভাগ করতে মরিয়া দুই দল। এটা পুরনো গেম প্ল্যান। ধর্মের নামে, ভাষার নামে মানুষকে ভাগ করার রাজনীতির বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) জন্মলগ্ন থেকেই লড়ছে। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি কোন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। সমস্ত আক্রান্ত মানুষকে তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য পথে নামার বার্তা দেন তিনি। তিনি বলেন এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের জন্য ধিক্কার জানাই।
মহম্মদ সেলিম এদিন আরো বলেন, কৃষক আলুর দাম পাচ্ছেন না, সারের দাম বাড়ছে। তা নিয়ে এই দুই দল একটা কথাও খরচ করে না। এরা শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেছেন, চোর কখনো চোরকে ধরে না। কাক কখনো কাকের মাংস খায় না। তৃণমূলের চোরদের নিয়েই বিজেপি দল গঠন করেছে। সেটিং হয়েছে উপর তলায় তাই মুখ্যমন্ত্রী ফাইল কান্ড থেকে অভয়া কান্ড, সারদা, নারোদা, শিক্ষক নিয়োগে, পঞ্চায়েতে চুরি, ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে কিন্তু চোরদের সিবিআই, ইডি ধরেছে? নিয়োগ দুর্নীতি ভাইপোর’র নাম জড়ালেও তার বাড়িতে তল্লাশি হয়নি। পিসি-ভাইপো’কে আলাদা করে মহারাষ্ট্রের মতো সরকার গড়তে চাইছে বিজেপি। তাই গত ৬ মাসে বিজেপি নেতারা ভাইপোর চুরি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। তিনি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজের আসন সামলাতেই ব্যস্ত। রাজজ্যের আর পাঁচা কেন্দ্র বা মঙ্গলকোট, কেতুগ্রামের ভোটারদের নাম বাদ গেলো তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। এটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল, নিজে এবং পরিবার বাঁচাতেই তিনি ব্যস্ত।
দেশ বেচে দিচ্ছে মোদী আর তৃণমূলের নেত্রী বেচছে রাজ্য। ওদের সাঙ্গপাঙ্গ’রা গ্রাম, পাড়া, জমি, পুকুর, সব বেচে দিচ্ছে। যারা দুর্নীতির শেষ দেখতে চায়, বিভাজনের রাজনীতির খেলা ভাঙ্গতে চায় তাদের নিয়ে জোট গড়েই লড়বে সিপিআই(এম)। আমরা দাবি করেছি ‘নো লিস্ট নো ভোট’।
Md Salim SIR
সব ভোটারের নাম না তুলে ভোট করা যাবে না: সেলিম
বর্ধমানের কার্জন গেটের সামনে মহম্মদ সেলিম।
×
Comments :0