সাঁওতাল সম্মেলনের মঞ্চে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি। শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৷ উত্তরবঙ্গে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার একদিনের সফরে আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি প্রথমে গোসাইপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং পরে বিধাননগরে মূল সম্মেলনে উপস্থিত হন। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিধাননগরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসন প্রথমে এখানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে চায়নি। এর ফলে আয়োজকদের বারবার অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এতে আয়োজকদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বোন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি আমার বোনের মতো, আমিও বাংলার মেয়ে। তবুও কেন এই ধরনের বাধা দেওয়া হলো, তা দুঃখজনক।’’
আদিবাসীদের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে এদিন বলেন, শিলিগুড়ির বিধাননগরে অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকলেও রাজ্য প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি। তার বদলে সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরার গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে সাঁওতালি বহু মানুষ সেখানে পৌঁছতেই পারেননি। ক্ষোভ আড়াল না করেই রাষ্ট্রপতি বলেন, হয়তো প্রশাসন ভেবেছিল ওখানে কেউ যেতে পারবেন না। তাই রাষ্ট্রপতি এসে ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠান করেই ফিরে যাবেন। সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত। জানি না প্রশাসনের মনে কী ছিল। সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি। আমি তো বাংলারও মেয়ে। কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না। মমতাদিদি আমারও ছোট বোন। জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন।
এছাড়াও প্রোটোকল সংক্রান্ত বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য মন্ত্রিসভার কোনো সিনিয়র মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। বিষয়টিকে তিনি প্রোটোকলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে মেয়র গৌতম দেব জানান, রাজ্য সরকারের তরফে সমস্ত নিয়ম ও রীতিনীতি মেনেই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মেয়র। রাষ্ট্রপতির সভাস্থল বদল প্রসঙ্গে নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের জন্য বিধাননগর ও গোঁসাইপুর দুটি মাঠই দেখানো হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী গোঁসাইপুর ময়দানই চূড়ান্ত করা হয়।
President Draupadi Murmu
রাজ্য প্রশাসনের ভুমিকায় আক্ষেপ প্রকাশ রাষ্ট্রপতির
×
Comments :0