Burdwan University SFI

৭দফা দাবি নিয়ে এসএফআইয়ের অভিযান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে

জেলা

ছবি- বর্ধমানের কার্জনগেট থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিলে এসএফআই।

শঙ্কর ঘোষাল: বর্ধমান
 

শুক্রবার দুর্নীতির আঁতুর ঘর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটি ‘বন্ধ আকল কি তালা’ খোলার বার্তা দিয়ে অভিযান করে। এদিন ছাত্রদের মধ্যে তুমুল আন্দোলনের মেজাজ দেখা যায়।  ৭দফা দাবি কে সামনে রেখেই বর্ধমান শহরের কার্জনগেট থেকে জমায়েত করে এসএফআই। পরে সেখান থেকে মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে পৌঁছালে দেখা যায় মূল সদর দরজায় তালা ঝুলছে। সেই পরিস্থিতিতে ছাত্ররা গেট টপকে ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশ প্রথমে তাঁদের আটকায়। পরে তাদের উপর হামলাও চালায়। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ছাত্ররা গেটের সামনে বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। ছাত্রদের দাবি ছিল যতক্ষন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের বক্তব্য না শুনবে ততক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। 

বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে ছিলেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো টিএমসিপি, পুলিশ, তৃণমূল- বিজেপির নিজস্ব সম্পত্তি নয়,  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সম্পত্তি। ছাত্রছাত্রীরা এখানে আসবে আর ওঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেবে তা চলবে না। হয় তালা খুলতে হবে নাহলে তালা ভাঙা হবে। তিনি বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দুর্নীতি চলছে তাতে এখন এখানে সাইন্স, আর্টস উপর অনার্স পড়ানো হয়না তার বদলে দুর্নীতি, কোরাপশন-র অনার্স পড়ানো হয়। ২১ কোটি টাকার দুর্নীতি, তার কোনও তদন্ত এখনও হয়নি আর যখন ছাত্রছাত্রীরা সেই বিষয়ে যখন প্রশ্ন করছে তখন পুলিশ তাদের মারধর করছে।’’ এদিন এই কর্মসূচিতে ছিলেন এসএফআই পূর্ববর্ধমান জেলার সভাপতি ও সম্পাদক প্রবীর ভৌমিক ও উষশী রায়চৌধুরী, রাজ্য কমিটির সদস্য অয়ন ঘোষ ও অয়ন মন্ডল। 
স্নাতক- স্নাতকোত্তর বিভাগগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিছন্ন ক্যাম্পাস, রেজাল্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কশিটের হার্ডকপি প্রদান, স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ সহ ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মতো এদিন একাধিক দাবি জানায় বিষয়বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সহ এসএফআই। প্রায় ২ঘন্টা অবস্থান বিক্ষোভ চলার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের কাছে এসে তাঁদের ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা নিলে ছাত্ররা কর্মসূচির সমাপ্তি টানে। 


উষশী রায় চৌধুরী বলেন, " ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি জানাতে গিয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকসুলভ আচরণ করার বদলে তালা, পুলিশ দিয়ে আটকাল, এটা কর্তৃপক্ষের স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রকাশ। আমরা এই মানসিকতার প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। আগেও আমরা এই দাবি জানিয়েছি তবে কাজ হয়নি তাই আজকে গিয়েছিলাম। এবার যদি কর্তৃপক্ষ সৎ আগ্রহ দেখায় তাহলে ভালো নাহলে ভবিষ্যতে আমরা বড়ো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।’’

Comments :0

Login to leave a comment