শঙ্কর ঘোষাল
রাজ্যে পরিবর্তনের পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, বাণিজ্য, পরিবেশ সব ধ্বংস হয়েছে। বামপন্থা, গণতন্ত্র ও রাজ্য আক্রান্ত। তাই বাংলার পুনরুত্থানের জন্য বামপন্থার পুনর্জাগরণের প্রয়োজন। শনিবার বর্ধমানে এক নির্বাচনী সভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, দক্ষিণপন্থার উত্থান সম্ভব নয় যদি না বামপন্থীদের দমানো যায়। কালীঘাটের একার মুরোদ ছিল না এই রাজ্য থেকে বামপন্থীদের পরাস্ত করা। রামধনু জোট তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে আরএসএস-বিজেপি, কংগ্রেস সহ সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে এককাট্টা করেছিল দেশী, বিদেশী অশুভ শক্তি। আক্রমন ছিল সর্বগ্রাসী। আজকে একে রুখতে হলে বামপন্থাকে বিকশিত করার জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। বৃহত্তম বামঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়তে বাম বিকল্প হাজির করতে হবে।
মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, "এসআইআর হিন্দুত্ববাদী আরএসএস’র একটা এজেন্ডা। বিশেষ করে একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহার করে ক্রমাগত আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোভিডের সময়ে রেড ভলান্টিয়ার ও এসআইআর’ ক্ষেত্রে মানুষের স্বার্থে সিপিআই(এম) পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। চেতনার জায়গা থেকে মানুষও বুজেছেন লাল ঝান্ডা তাঁদের সাহায্যের জন্যই এসেছেন।"
তিনি এদিন সজাগ ও সতর্ক করে বলেছেন শনিবারই ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলো কিনা তা দেখতে হবে আমাদের। তিনি একথাও বলেছেন যদিন কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যায় তাহলে তাঁদের নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপাতে হবে। পাশাপাশি তিনি আলুচাষীদের আলু বিক্রির ক্ষেত্রে দাম না পাবার জন্য সেই আন্দোলনকেও দুর্বার গতিতে সামনে আনার বার্তা দিয়েছেন।"
শনিবার পূর্ব বর্ধমানের পার্টি নেতৃত্বদের নিয়ে এই সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক সৈয়দ হোসেন, সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা অচিন্ত্য মল্লিক, মহিলা নেত্রী অঞ্জু কর প্রমুখ।
মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, "সিপিআই(এম) ও বামশক্তিকে মজবুত করতে না পারলে শ্রেণী আন্দোলন ও শ্রেণী সংগ্রামকে বিকশিত করা সম্ভব নয়। শুধু বামফ্রন্ট নয় বামফ্রন্টের বাইরে যে বাম শক্তি আছে, ব্যাক্তি, গোষ্ঠী, দল তাদেরও সঙ্গে নিতে হবে এবং সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। লড়াইয়ের বৃত্তকে বড় করে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।"
তিনি বলেছেন, "দক্ষিণপন্থার উত্থান মানে শুধু সিপিআই(এম) আক্রমনের লক্ষ্য করবে তা নয়, মানুষের জীবন-জীবিকা,গণতন্ত্রিক পরিসর সঙ্কুচিত হবে। দেশি বিদেশী শক্তি মমতা ব্যানার্জি’কে এমনি এমনি তৈরি করেনি, শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, মূল রাজনীতিকে সরিয়ে দিতেই হিলারি ক্লিন্টনকেও ছুটে আসতে হয়েছিল। এক সময় মমতার মধ্যে যারা লেনিনকে দেখেছিল এখন সকলেরই ভুল ভাঙ্গছে যত দিন যাচ্ছে নখ দাঁত বেড়িয়ে আসছে এই জনবিরোধী সরকারের।"
আভাস রায়চৌধুরী বলেছেন, বাইনারিকে ধরে রাখতে আরএসএস-বিজেপি, তৃণমূল এক হয়ে প্রবল চেষ্টা করছে। বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে বোঝাপড়া মানুষের ভাবনার মধ্যে চলে এসেছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, জমির উপর হামলা, কর্মসংস্থান নেই, বেকারী, ফসল কাটার সময় মজুরীর আন্দোলন, স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে কত বেশি মানুষকে এক জায়গায় আনা যায় তার চেষ্টা আমাদের করে যেতে হবে। এখন আরএসএস-বিজেপি, তৃণমূল মিলে মিশে একাকার।
তিনি বলেছেন, প্রতি বুথে লড়ড়তে হবে, জয়ের জন্য লড়তে হবে। মানুষই সর্ব ক্ষমাতাসম্পন্ন, মানুষই শেষ কথা বলবেন। মিডিয়া মিথ্যা, মনগড়া, ধারনা তৈরি করে বন্ধু সেজে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে আমরা যেন এই অপপ্রচারে রক্তাক্ত না হই। তৃণমূল-বিজেপি যখন দেখছে চেনা বাইনারিতে চিড়ে ভিজছে না তখন এসআইআর’র মধ্য দিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক, ভয় তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। মানুষের বিচারবোধ চিন্তা ভাবনা মধ্যে না আনতে পারে সে বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সৈয়দ হোসেন এদিন বলেছেন, "সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে পরাস্ত করতে হবে বামপন্থীদের শ্রেণী ঐক্যকে আরও মজবুত করতে হবে। কৃষক আলুর দাম পাচ্ছেন না। সোমবার আলুচাষীদের নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে সামিল হবেন বামপন্থীরা। পূর্ব বর্ধমানে পাড়া বৈঠক থেকে বামপন্থীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ইতি মধ্যে ১৫০০টি পাড়া বৈঠক হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জনগনের সঙ্গে সেতুবন্ধন ও জনগনের জীবন যন্ত্রনার সঙ্গে একাত্ম হতে পেরেছেন কর্মীরা। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদল মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে, বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে রবিবার এলাকায় মিছিল করার ডাক দেওয়া হয়েছে। মার্চের শুরুতেই ভোট ঘোষনা হতে পারে। এর মধ্যেই গণশক্তির প্রচার বাড়াতে হবে। প্রতিবুথে স্থায়ী ও অস্থায়ী গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
Comments :0