Matuya SIR

এসআইআরের তালিকায় একাধিক মতুয়ার নাম বাদ, বিচারাধীন অনেক নামও

রাজ্য

এসআইআরে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়বেন মতুয়ারা। প্রথম থেকে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীরা এই কথা বলে এসেছে। এসআইআরের তালিকা প্রকাশের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।
নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় মতুয়াদের নাম বাদ বা বিচারাধীনের সংখ্যা বেশি। 
২০০২ সালের পর এই প্রথম নির্বাচন কমিশন এমন নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাদের নতুন করে নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা কয়েক লক্ষ মতুয়া সদস্যের কাছে পর্যাপ্ত পুরনো নথিপত্র না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এসআইআরের প্রথম পর্যায়ে বাগদা কেন্দ্রে ২৪,৯২৭ জন, গাইঘাটায় ১৬,৭১৮জন, বনগাঁ-উত্তরে ২৬,১৮৩জন এবং বনগাঁ-দক্ষিণে ১৮,৫৬২জনের নাম বাদ পড়েছে। দ্বিতীয় পর্যায় নতুন করে বাদ পড়ায়, বাগদাতে মোট বাদ পড়েছে ৪০,২৩০ নাম, বনগাঁ-উত্তরে ৩৪,১০৯, বনগাঁ-দক্ষিণে ২৫,৪৬৪, গাইঘাটায় ২৩,৪৮৮ এবং স্বরূপনগরে প্রায় ১৫,০০০ নাম বাদ পড়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক ভোটারের নামের পাশে রয়েছে ‘বিচারাধীন’।

কমিশনের কথায় তারা এই নাম গুলোর নথি খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে পরবর্তী সময় ভোটের আগে আবার তালিকা প্রকাশ করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেই তালিকায় যদি মতুয়া সম্প্রদায় মানুষদের নাম বাদ যায় তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কি হবে। আর যদি আসামের মতো তাদের নামের পাশ থেকে বিচারাধীন না ওঠে তাহলে তারা ভোট দিতে পারবে না। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তারা নতুন করে ফর্ম ৬ পুরণ করে নাম তুলতে পারবে ভোটার তালিকায়।
মতুয়া সম্প্রদায় সূত্রে খবর তাদের প্রায় ৫০ শতাংশ নাম এসআইআর’এ বাদ গিয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কী করনীয় তা নিয়ে চিন্তায় আছে তারা।
এই বিষয় সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চকবর্তী বলেন, ‘মতুয়াদের কোন ভাবে জাল ভোটার বলা যাবে না। জাল ভোটার মুক্ত ভোটার তালিকা করার দায় সরকারের। যারা স্থায়ী ভাবে এই রাজ্য বসবাসকারি তাদের ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হবে। তালিকা থেকে নাম কোন ভাবে বাদ দেওয়া যাবে না।’ 
চক্রবর্তীর কথায়, আইন করে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ধর্মী হিংসার কারণে যারা ভারতে প্রবেশ করেছেন তারা দেশের নাগরিক হবেন। সেই ক্ষেত্রের মতুয়ারা দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্যে বসবাস করেন তাদের কেন এসআইআরের নাম করে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য এসআইআরের বিরোধীতায় ঠাকুরনগরে অনশনও করেন মতুয়ারা। সেখানে গিয়ে তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থনও জানায় সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। তাদের নিয়ে কমিশনও যান সুজন চক্রবর্তী।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. সুকেশ চৌধুরির কথায়, ‘যেসব নীতি, রীতি ও পদ্ধতিতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করার ঘোষণা করা হয়েছে তাতে এই রাজ্যের মতুয়া এবং সমস্ত উদ্বাস্তু সমাজ বিপর্যস্ত হবে। তাঁদের মধ্যকার অধিকাংশ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে মনে করে তাঁরা আতঙ্কিত। আমরা গভীরভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছি এবং বুঝেছি যে, উদ্বাস্তু মানুষের এই বিপর্ষয়ের মূল কারণ ভারতের বর্তমান নাগরিকত্ব আইনের কিছু বিশেষ ধারা যার অধিকাংশ সৃষ্টি করা হয়েছে বিজেপি সরকারের তত্ত্বাবধানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে ৫০ বছর বসবাস করছেন এমন অনেক মতুয়া আছেন। অনেকবার ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা। আজ হঠাৎ তাঁদের কার্যত বিদেশি চিহ্নিত করে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার চক্রান্ত মেনে নেওয়া যায় না।’

Comments :0

Login to leave a comment