SIR Salim Mamata

এসআইআর: দায়ী রাজ্যও, মমতার ধর্না প্রসঙ্গে সেলিম

রাজ্য কলকাতা

সিপিআইএম পানিহাটি কেন্দ্রীয় মিছিল এইচবি টাউন মোড থেকে বিটি রোড সোদপুর টাফিক মোড় পর্যন্ত।

সবার নথিকে একভাবে দেখা হয়নি। নাম, এলাকা হিসেবে রেখে বৈধ ভোটদাতার তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। তার জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি  রাজ্যের তৃণমূল সরকারও দায়ী।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘‘মালদা, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনা, দিনাজপুরে বহু নাম বিবেচনাধীন করে রাখা হয়েছে। আদিবাসী, মতুয়া, উদ্বাস্তু, মুসলিম, বিশেষত মহিলাদের বিবেচনাধীন করা হয়েছে।’’
রাজ্যে গত শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। ৫ লক্ষের কিছু বেশি নাম বাদ পড়ার পাশাপাশি ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিবেচনাধীন করা হয়েছে। এদিকে তৃণমূল নেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৬ মার্চ ধর্মতলায় অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘‘বিএলও থেকে জেলাশাসক, রাজ্যের কর্মচারী। প্রশাসন মমতা ব্যানার্জির হয়ে গরু পাচার, কয়লা পাচার সব করতে পারে, সে একটা নথি দেখে বলতে পারে না যে কে ভারতীয় নাগরিক? ভোটাধিকার ফেলে রাখা হয়েছে মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ।’’ 
সেলিম এসআইআর প্রক্রিয়া মনে করিয়ে বলেন, ‘‘মানুষ দিনের পর দিন হয়রানি হয়েছে। নাম দেখে, পদবি দেখে, ধর্ম দেখে বিপদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটাই দক্ষিণপন্থার চিত্রনাট্য। বিপদে ফেলে দিয়ে ত্রাতার ভূমিকায় নামে।’’    
নির্বাচন কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ৬০,০৬,৬৭৫ নাম ‘বিবেচনাধীন‘। এই ভোটারদের ৫৮.৫ শতাংশই মাত্র পাঁচটি জেলা থেকে। সেগুলি হল, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। 
মালদা, মুর্শিদাবাদের মত জেলায় যেখানে প্রথমে প্রায় ৯৭ শতাংশ ম্যাপিং হয়ে গেছিল সেখানেই সব থেকে বেশি মানুষকে 'সন্দেহের' তালিকায় রাখা হয়েছে।
সিপিআই(এম) বিডিও স্তর থেকে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। 
সেলিম বলেন, ‘‘প্রতিটি ভোটের আগে এমন ধরনা করেন মমতা ব্যানার্জি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনও তিনি অনশনের নাটক করেছিলেন।’’
এদিন কলকাতায় প্রমোদ দাশগুপ্ত ট্রাস্ট আয়োজিত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সেলিম। শ্রদ্ধা জানানো হয় সিপিআই(এম)’র প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসকেও।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে এসআইআর ঘিরে তৃণমূল বিজেপি’র বোঝাপড়ার অভিযোগ তোলেন সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘‘ভোটের আগে পুলিশ অফিসার রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। ধরনায় বসেছিলেন মমতা। ভোট মিটতেই  সিবিআই উধাও। ওটা বিজেপি-তৃণমূলের জয়েন্ট ভেঞ্চার ছিল। এর আগে সিএএ-এনআরসি নিয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চার হয়েছে। এবার ভোটে যখন তৃণমূল হারের মুখে। বিজেপি যখন দান ছেড়ে দিয়েছে। দাঙ্গা করে বাইনারির চেষ্টা করেছিল। সেটিও পরাস্ত করেছি আমরা। এসআইআর-কে কেন্দ্র করে নতুন নাটক হচ্ছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment